বাংলাদেশ

চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?

  • 2:20 am - September 05, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৮ বার
চীন থেকে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। আলোচনায় থাকা চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান নিয়ে ইতোমধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের জে-১০সি ব্যবহারের পর এই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনাই কি একটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট? নাকি এর পাশাপাশি দরকার উন্নত রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, বিমানঘাঁটি, শক্তিশালী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সক্ষমতা?

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর বড় অংশই তুলনামূলক পুরোনো প্রযুক্তির।

বাংলাদেশ চীন থেকে প্রথম যুদ্ধবিমান কেনে ১৯৭৭ সালে। বিমানটির আনুষ্ঠানিক নাম ছিল এফ-৬। চীনে এটি জে-৬ নামে পরিচিত ছিল। ঢাকার বিজয় সরণি থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে যে যুদ্ধবিমানটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা আছে, সেটিও এ ধরনের বিমান। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর মেয়াদ শেষ হলে বিমানটি স্মারক হিসেবে সেখানে রাখা হয়।

তবে বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান চীন থেকে আসেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে কয়েকটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান উপহার দেয়। স্বাধীনতার পর সদ্য গড়ে ওঠা বিমানবাহিনীর জন্য এগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময়ের মিগ-২১ ছিল অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। শুধু বিমান নয়, এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা ও রকেটও দেওয়া হয়েছিল। বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য একাধিক ব্যাচকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছিল।

এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে চীন। ১৯৭৭ সালে এফ-৬ এবং পরবর্তী সময়ে আশির দশকে এফ-৭ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়।

১৯৯৯ সালে অবশ্য বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সে সময় রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। এগুলো তখনকার সময়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান বহরের বড় একটি অংশ পুরোনো হয়ে গেছে। সামরিক তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দুই শতাধিক। এর মধ্যে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা প্রায় ৪৪টি। মিগ-২৯ রয়েছে আটটি এবং চীনের তৈরি এফ-৭ রয়েছে ৩৬টি।

এর বাইরে রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে, যেগুলো প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সীমিত আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন উড়োজাহাজও রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধের ধরন বিবেচনায় এসব পুরোনো যুদ্ধবিমান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। কারণ বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু বিমান নয়, উন্নত রাডার, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ প্রযুক্তি, চালকবিহীন উড়োজাহাজ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ কারণেই জে-১০সি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জে-১০সি একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ এটি শুধু শত্রু যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে আকাশযুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নয়, স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত, স্থলবাহিনীকে আকাশ থেকে সহায়তা এবং সমুদ্র এলাকায় নৌবাহিনীকে সহায়তার মতো বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করা যায়।

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় পাকিস্তান জে-১০সি ব্যবহার করে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। সেই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে ওই ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ও মূল্যায়ন রয়েছে। ফলে শুধু ওই ঘটনার ভিত্তিতে জে-১০সির সামগ্রিক সক্ষমতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশের জন্য জে-১০সির সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে তুলনামূলক কম ব্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষমতা অর্জন। পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের অনেক যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমান তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই চীনের তৈরি বিপুলসংখ্যক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। ফলে চীনা যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে।

চীনের ওপর সামরিক সরঞ্জামের নির্ভরতা আরও বাড়লে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে একক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। যুদ্ধবিমান, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌযান, সাঁজোয়া যানসহ সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ যদি একই দেশ থেকে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে সরবরাহব্যবস্থা, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পড়তে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুদ্ধবিমান কেনার পর তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। শুধু বিমান কেনার অর্থই শেষ নয়। প্রয়োজন হয় খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সিমুলেটর, সফটওয়্যার সহায়তা, নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহযোগিতা।

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জে-১০সি সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুধু বিমান নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধবিমান থাকলেই কি আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক যুদ্ধবিমানকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে তার চারপাশে একটি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হয়।

প্রথমত দরকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা। শত্রুপক্ষের বিমান কোথায় আছে, কোন দিকে যাচ্ছে এবং কত দূরে রয়েছে, সেটি আগে থেকে শনাক্ত করা না গেলে উন্নত যুদ্ধবিমানও পুরো সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত দরকার নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। রাডারে শনাক্ত হওয়া লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দ্রুত যুদ্ধবিমানের কাছে পৌঁছাতে হবে। একইসঙ্গে স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত দরকার দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে অনেক সময় দুই যুদ্ধবিমান চোখে পড়ার আগেই একে অপরকে শনাক্ত করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে।

চতুর্থত দরকার বৈদ্যুতিন যুদ্ধ সক্ষমতা। শত্রুর রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা শনাক্ত করা, বিভ্রান্ত করা কিংবা জ্যাম করার সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ বিমানঘাঁটি ও অবকাঠামো

যুদ্ধবিমান কেনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে, সেগুলো কোথায় এবং কীভাবে নিরাপদে রাখা হবে।

যুদ্ধের সময় কোনো বিমান যদি রানওয়েতে বা ঘাঁটিতে থাকা অবস্থায় শত্রুর হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমান থাকার সুবিধা অনেকটাই কমে যায়। এ কারণে আধুনিক বিমানবাহিনীতে শক্তিশালী বিমানঘাঁটি, সুরক্ষিত বিমান সংরক্ষণাগার এবং বিকল্প রানওয়ের গুরুত্ব অনেক।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও এর একটি বাস্তব উদাহরণ দেখা যায়। সে সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো কার্যত উড্ডয়নক্ষমতা হারায়। ফলে মাটিতে থাকা বিমানগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একাধিক রানওয়ে ও বিকল্প বিমানঘাঁটি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে প্রয়োজন শক্তিশালী বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে যুদ্ধবিমানকে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের বিমানঘাঁটির অবকাঠামো আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শক্ত কংক্রিটের বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, বিকল্প রানওয়ে, দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বিমান ছড়িয়ে রাখার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

চীনের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কেন বাড়ছে?

শুধু বিমানবাহিনী নয়, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য শাখাতেও চীনা সরঞ্জামের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে যুদ্ধজাহাজ এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সাঁজোয়া যান ও অস্ত্রের ক্ষেত্রেও চীনা সরঞ্জাম রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি সাবমেরিনই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে সেগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজের একটি অংশও চীনে নির্মিত।

চীনের দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মূল্যকে বিবেচনা করা হয়। তুলনামূলক কম দামে আধুনিক প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীনা অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো ব্যবহারসংক্রান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক শর্ত তুলনামূলক কম থাকার বিষয়টিও বিশ্লেষকদের আলোচনায় আসে।

তবে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শুধু কম দাম নয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা, অস্ত্রের সক্ষমতা, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।

জে-১০সি বাংলাদেশকে কতটা বদলাতে পারে?

বাংলাদেশ যদি জে-১০সি যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, যোগাযোগব্যবস্থা, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামোও গড়ে তুলতে পারে, তাহলে বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে শুধু ২০টি কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন যুদ্ধবিমান যুক্ত করলেই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা রাতারাতি শক্তিশালী হয়ে যাবে না। বিমানগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা নির্ভর করবে সেগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার, রাডার, পাইলটদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।

অর্থাৎ জে-১০সি কেনা বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে, কিন্তু এটিই পুরো আধুনিকায়ন নয়।

বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে যুদ্ধবিমান থাকবে, কিন্তু তার পাশাপাশি থাকবে শক্তিশালী রাডার, নিরাপদ যোগাযোগ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ সক্ষমতা, নিরাপদ বিমানঘাঁটি, বিকল্প রানওয়ে, প্রশিক্ষিত জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিমানের সংখ্যা নয়, পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা কার্যকর হবে।

এই শাখার আরও খবর

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যুদ্ধ, বাণিজ্যিক অস্থিরতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে,…

মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে স্টিভ আরউইনের আবেগঘন শেষ বার্তা

মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’ স্টিভ আরউইনের তাঁর দলের উদ্দেশে দেওয়া শেষ আবেগঘন বার্তা। কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে যাওয়ার…

ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকস্মিক হামলার আশঙ্কা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তাঁর ধারণা, বিশেষ…

রংপুরের চার খুন: তদন্ত কি ঘুরিয়ে দিচ্ছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা?

রংপুরে গত ১৯ আগস্ট একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au