বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল নেতা সোমনাথ দেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর একটি গেস্টহাউস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতার খড়দা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আরজি করের ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ সৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই সোমনাথ দে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতে তাঁর অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় আনা হয়। পরে খড়দা থানায় রাখা হয় তাঁকে। আজ সকালে আদালতে নেওয়ার সময় খড়দা থানার বাইরে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তাঁর দিকে ডিম ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। পরে তাঁকে বারাকপুরের মহকুমা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে।
আরজি করের ওই নারী চিকিৎসককে ঘিরে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর মা-বাবার অভিযোগের পর। তাঁদের দাবি, মেয়ের মরদেহ তাঁদের সম্মতি বা যথাযথভাবে জানানো ছাড়াই দ্রুত পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়েছিল। মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগও তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট একটি মামলা করে তদন্ত শুরু করে। এরপর একে একে তৎকালীন রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসে।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা হওয়ার পর তাঁরাও আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এবার একই মামলায় সোমনাথ দের গ্রেপ্তার করা হলো।
তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মল ঘোষসহ তৃণমূলের আরও দুই নেতা ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ না দিয়ে এবং সৎকারের প্রচলিত নিয়মকানুন অনুসরণ না করেই মরদেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের তদন্তে এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে, দ্রুত সৎকারের জন্য নির্মল ঘোষ অস্ত্রের ভয় দেখিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকে মরদেহ সৎকারের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কেন এত দ্রুত মরদেহ সৎকার করা হয়েছিল, কার নির্দেশে মরদেহ শ্মশানে নেওয়া হয়, পরিবারের সদস্যদের কেন যথাযথভাবে সময় দেওয়া হয়নি এবং ওই সময় কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ওই নারী চিকিৎসক ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জন্ম দেয়।
এই মামলায় পরে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তদন্তে নামে এবং মূল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঘটনাটির বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে তদন্ত চলে। এবার মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সোমনাথ দের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং মরদেহ সৎকারের সিদ্ধান্তে কারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সঙ্গে মূল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, নাকি এটি পৃথক একটি তদন্তের বিষয়, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au