এবিসি উপস্থাপিকা সারাহ ফার্গুসন কমলা হ্যারিসের সঙ্গে নেওয়া বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে। ABC / news.com.au
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রচার সংস্থা এবিসি (ABC)-র উপস্থাপিকা সারাহ ফার্গুসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস-এর সঙ্গে নেওয়া এক বিতর্কিত সাক্ষাৎকার ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি এবিসি তাদের সামাজিক মাধ্যমে “the moment you didn’t see” নামে একটি বিহাইন্ড-দ্য-সিন ভিডিও শেয়ার করলে দর্শকদের একাংশ ফার্গুসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফার্গুসন লন্ডনে উড়ে যান হ্যারিসের সঙ্গে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য। হ্যারিস তখন তার নতুন বই “107 Days” প্রচারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে স্বল্প সফরে ছিলেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুটা ভালোই চলছিল। হ্যারিস প্রথমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে নিজের অনুভূতি শেয়ার করেন। তবে, যখন প্রশ্ন ওঠে জো বাইডেনের পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে, তখন থেকেই সাক্ষাৎকারের আবহ ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।ছবি: ABC / news.com.au
ফার্গুসন কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলেন হ্যারিসের নীরবতা এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ব্যর্থতা, বাইডেনের দুর্বল শারীরিক অবস্থা, এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগহীন প্রচারণা নিয়ে। প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ সাক্ষাৎকারটি দেখেছেন, তবে মতামত ছিল মিশ্র।
এরপর এবিসি একটি অনপ্রচারিত অংশ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ফার্গুসন হ্যারিসের বইয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন, তখন হ্যারিসের এক সহকারী মাঝখানে বাধা দিয়ে জানান এটি শেষ প্রশ্ন হবে। ফার্গুসন কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং পরে মন্তব্য করেন যে, এমনটি তার সাংবাদিক জীবনে খুব কমই ঘটেছে।
ফার্গুসন বলেন, “এটি প্রায় প্রথমবারের মতো ঘটল যে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন কর্মী সাক্ষাৎকার চলাকালীন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। আমি আশা করিনি। তবে সাক্ষাৎকারের মূল অংশে ফিরে গেলে দেখা যায়, কমলা হ্যারিসের মধ্যে এক ধরনের অনীহা ছিল জো বাইডেনের দুর্বলতা বা তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ব্যর্থতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে।”
পরে ফার্গুসন সরাসরি হ্যারিসকে প্রশ্ন করেন, বাইডেনের “নিজস্ব দুর্বলতা স্বীকার করতে না পারা” কি তার নির্বাচনী পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল? হ্যারিস তাতে দৃঢ়ভাবে জবাব দেন “প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুর্বল ছিলেন না।”
কিন্তু ফার্গুসন পাল্টা বলেন, “আমরা বিতর্কে তা দেখেছি।” তিনি যুক্তি দেন, বাইডেন ও ট্রাম্পের টেলিভিশন বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স ছিল বিপর্যয়কর এবং সেটিই জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে।
হ্যারিস বারবার বলেন, তিনি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু ফার্গুসন তা মানেননি। তিনি বলেন, “এটি দেখতে কঠিন ছিল যে এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজের চিন্তাগুলো সংহতভাবে প্রকাশ করতে পারছেন না, তার নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে।”
সাক্ষাৎকারের আরেকটি অংশে হ্যারিস কিছুটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তিতে ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেন, বলেন, “আমি যেখানে প্রাপ্য, সেখানে কৃতিত্ব দিই বন্দিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প, মিসর এবং কাতারকে ধন্যবাদ জানাই।”
তবে তিনি যোগ করেন যে, “এখনও অনেক কাজ বাকি আছে” এবং “স্থায়ী শান্তি অর্জন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।”
এই অংশটি ছিল সাক্ষাৎকারের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত, যেখানে হ্যারিস প্রকাশ্যে প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ভিডিও ঘিরে এবিসি উপস্থাপিকার বিরুদ্ধে দর্শকদের প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকে মন্তব্য করেন, “কমলা পুরো সাক্ষাৎকারে ভদ্র ও সংযত ছিলেন, কিন্তু ফার্গুসনের প্রশ্নগুলো ছিল প্ররোচনামূলক ও আক্রমণাত্মক যেন বুলিং।”
অন্যরা বলেন, হ্যারিস তার পুরনো সহকর্মী বাইডেনের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন, যা তার চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয়।
আরেকজন লেখেন, “তিনি তার বন্ধুর প্রতি সম্মান রেখেছেন, যিনি সারাজীবন জনসেবায় নিবেদিত ছিলেন।”
তবে ফার্গুসনের সমর্থকরাও ছিলেন। এক দর্শক মন্তব্য করেন, “যদি সাংবাদিকরা ট্রাম্পের সঙ্গেও এত কঠিন প্রশ্ন করতেন, তাহলে ভালো হতো।”
অন্য একজন বলেন, “সারাহ ফার্গুসন দারুণ কাজ করেছেন, তিনি কমলাকে বারবার সুযোগ দিয়েছেন নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করার।”
সাক্ষাৎকারটি এখনো আলোচনায় কেউ দেখছেন এটিকে কঠোর সাংবাদিকতার উদাহরণ হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি ছিল অসম্মানজনক এবং আক্রমণাত্মক এক সাক্ষাৎকার।
সূত্র: ABC / news.com.au, অনুবাদ ওটিএন্ বাংলা