‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালকে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ সেটিই আমাদের জন্মের ঠিকানা। সেদিনই এই দেশ স্বাধীন মর্যাদা পেয়েছিল, আর সেটিই আমাদের অস্তিত্ব, পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক।
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি শক্তি আছে যারা ১৯৭১ সালের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন সেই ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করছে। তারা ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনকে বড় করে দেখাতে চায়, অথচ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি ১৫ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। মুক্তিযোদ্ধারাও সেই সংগ্রামে ছিলেন। কেউ যদি দাবি করে যে তারা এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে, গায়েবি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের প্রায় সবার নামেই মামলা ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনকে গুম এবং ২ হাজার মানুষকে হত্যা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল।
ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের মানুষ হত্যা করেছিল, তাদের সঙ্গেই পরে হাত মিলিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। জ্ঞানী ও সংস্কৃতিজনদের হত্যার ইতিহাস আমরা ভুলিনি। ১৯৭৫ সালের পর ৭ নভেম্বরের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। সেই সংস্কার দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। পরে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান প্রবর্তন করেন, যার অধীনে চারটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই বিধান বাতিল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় নির্বাচনের পক্ষে। গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তারা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। কারণ, সংসদ থাকলে এখনকার অনেক অপশক্তির উত্থান ঘটত না। জনগণকে বিভ্রান্ত করে সংস্কারের নামে যেভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে, সেটি সবাইকে জানাতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় যে প্রস্তাব আমরা স্বাক্ষর করেছি, তার দায় আমরা নেব। কিন্তু যেগুলোতে আমরা স্বাক্ষর করিনি, তার দায়ভার আমাদের নয়। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা যে সময়সূচি দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত। গণভোট সংসদ নির্বাচনের দিনই আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি, যাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানো যায়। কিন্তু এখন গণভোট আগে করার দাবি তোলা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি কখনো নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কথা বলেনি, বরং দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সভার সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au