বিশ্ব

ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার দাবি, নতুন করে উত্তেজনা

  • 2:19 pm - June 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫ বার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর পতাকা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের পাঠানো ড্রোনগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। সম্ভাব্য আরও হামলা প্রতিরোধ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন ভূপাতিত করার পর যৌথ অভিযানে গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তেহরান হামলার সত্যতা কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই নড়বড়ে হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন সময়ে হামলা, পাল্টা হামলা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মার্কিন হামলার আগে গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নিহত হন এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

তবে হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইন্টারসেপ্টর ভুলবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে সেন্টকম ইরানের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল ইরানের পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সামরিক অভিযান।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর প্রতিশোধ হিসেবেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ফলে উভয় পক্ষই নিজেদের পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক বা প্রতিশোধমূলক হিসেবে তুলে ধরছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে।

একই সময়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়ায় ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস কমেনি। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরকে ঘিরে অবরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।

এদিকে উভয় দেশই একদিকে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক ড্রোন ভূপাতিত করা, রাডার স্থাপনায় হামলা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো নতুন হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা দুই দেশকে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…

জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের  ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…

কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…

সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল জামালপুরের প্রবাসী যুবক শামীমের

মেলবোর্ন,০৬জুন-সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক। নিহত শামীম হোসেন (৩২) উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au