‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর- জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যার মামলায় আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দশম দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ আগামী ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে।
বেলা সোয়া ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি হয়। প্রসিকিউশন সময় চেয়ে আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “সাক্ষী হাজির করতে না পারা প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা। যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের হাজির করানোর দায়িত্ব প্রসিকিউশনেরই।”
এর আগে ১৩ অক্টোবরও একই কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সে সময় প্রসিকিউটর মঈনুল করিম আদালতকে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাক্ষী হাজির হতে পারেননি এবং অন্য প্রসিকিউটররা ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলায় ব্যস্ত আছেন। তখন ট্রাইব্যুনাল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিল, “আপনারা যদি এতই ব্যস্ত থাকেন, তাহলে দুটি ট্রাইব্যুনাল রাখার প্রয়োজন কী? আদালতের কাজ অবহেলা করা আদালত অবমাননার শামিল।”
এর আগে ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল সাক্ষ্য দেন। তারা দুজনই জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন। ওইদিন তাদের জেরা করেন গ্রেপ্তার ছয় আসামি এবং পলাতক ২৪ জনের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদার ও সুলতান মাহমুদ। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২২ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে ছয় নম্বর সাক্ষী সিয়াম আহসান আয়ানকে জেরা করা হয়। তিনি ছিলেন আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার প্রথম ব্যক্তি।
১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমানকে জেরা করা হয়। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ওইদিনই এসআই মো. তারিকুল ইসলামও জবানবন্দি দেন। ৮ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম ও এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হককে জেরা করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত ২৮ আগস্ট, প্রথম দিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও সাংবাদিক মঈনুল হক জবানবন্দি দেন।
এ মামলার গ্রেপ্তার ছয় আসামি হলেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
২৪ জন আসামি এখনো পলাতক। তাদের পক্ষে ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় আদালত। ৩০
জুলাই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের পক্ষে শুনানি করেন।
২৮ জুলাই ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ হয়, আর ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয় ২৪ জুন, আর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
এই মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৬২ জন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au