নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ জুন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাভুক্ত মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনায় গঠিত এই বেঞ্চ আগামী রোববার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে।
রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সম্প্রতি আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে নিম্ন আদালতের রায় চূড়ান্ত কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। অনেক সময় এসব মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে সেই শাস্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় হওয়া গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন ছিল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, শিশু রামিসা হত্যা মামলা, আছিয়া হত্যা মামলা এবং রসু খাঁ হত্যা মামলাসহ এ ধরনের সংবেদনশীল ও আলোচিত মামলাগুলোর আপিল শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করা হবে। এই বেঞ্চ কেবল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোই শুনবে।
তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এসব মামলায় অপ্রয়োজনীয় মুলতবি না চাওয়া হয়। কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই মামলাগুলোর শুনানি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, বর্তমানে বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিচার বিভাগ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে তিনি বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করা, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করার ক্ষেত্রে এই বিশেষ বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, শুধু আলোচিত মামলাই নয়, দেশের প্রতিটি অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই বিচার বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।