আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর-
১. ভূমিকা
এটি ছিল এমন এক কূটনৈতিক আলিঙ্গন, যা যেকোনো সরকারি বিবৃতির চেয়েও জোরে কথা বলেছে। যখন ওয়াশিংটন দিল্লির প্রেমে পড়ল, তখন গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক তাপমাত্রা রাতারাতি বদলে গেল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের “স্থিতিশীলতা”-র নামে প্রশংসিত নতুন ভারত–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি আসলে নীরবে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির মানচিত্রটিকেই নতুনভাবে এঁকে দিয়েছে—আর সেটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী শাসক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে নয়।
অনেক মাস ধরে ইউনুস ভেবেছিলেন, ওয়াশিংটনের করিডোরগুলো তাঁর সরকারের প্রতি সহানুভূতির প্রতিধ্বনিতে ভরে আছে। কিন্তু আমেরিকার সেই আলিঙ্গন কেবল প্রতীকী ছিল না; এটি ছিল এক পুনর্গঠনের সংকেত—একটি স্মরণবাণী, যে নবউদারতাবাদী শক্তির কোনো স্থায়ী বন্ধু নেই, আছে শুধু স্থায়ী স্বার্থ।
যখন ইউনুস কৌশলগত উপেক্ষার আগুনে পুড়ছিলেন, তখন পশ্চিমা ‘নৈতিক অভিভাবক’দের দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর শেখ হাসিনা হঠাৎই আবার বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এলেন—স্থির, আত্মবিশ্বাসী, এবং যেন ন্যায়বিচারে পুনর্বাসিত। মনে হচ্ছে, দিল্লির প্রতি ওয়াশিংটনের এই উষ্ণতা ইউনুসের নড়বড়ে সিংহাসনের ওপর ফেলেছে এক ঠান্ডা ছায়া, আর হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথে জ্বেলে দিয়েছে নতুন আলোর বাতি।
২০২৫ সালের ভারত–যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তথাকথিত “গণতান্ত্রিক রূপান্তর”-এর নামে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহনশীলতা দেখালেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ — বিশেষত শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পুনরাবির্ভাব — ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টি এখন ঢাকায় নয়, দিল্লিতে স্থির হচ্ছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ১০-বছরের নিরাপত্তা চুক্তি, বাণিজ্যিক ট্যারিফ কমানো, এবং পাকিস্তানের প্রতি শুধুই সদয় কূটনৈতিক ভাষা—সবকিছু মিলিয়ে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ‘India-led balance’ হিসেবে দেখতে চায়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার (ড. ইউনুসের নেতৃত্বে) একদিকে বৈধতার সংকটে, অন্যদিকে আঞ্চলিকভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে।
২. এবার আমরা অর্থনীতি এবং এর আন্তদেশীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কিছু জটিল কার্যকরন বোঝার চেষ্টা করবো।
২(১): ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা: ভারতের সাম্প্রতিক উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃসমীকরণ
ওপরের বিষয়গুলোর পেছনকার কিছু যুক্তি আমরা বোঝার চেষ্টা করবো উপাত্ত বা ডেটা থেকে। যদি কূটনীতি গল্প বলে, তবে ডেটাই সেই গল্পের মানচিত্র আঁকে। চিত্র ১ দেখায়—২০১৫ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ বাংলাদেশের বাণিজ্য বরং কমেছে। চিত্র ২ আরও গভীর এক বাঁক ধরে—ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের “কৌশলগত সম্পৃক্ততা সূচক” ৫৮ থেকে ৮৭ তে উঠেছে, অথচ বাংলাদেশেরটি নেমে গেছে ৪০-এর নিচে। আর চিত্র ৩ বলে দিচ্ছে কাহিনির মোচড়—যেখানে পশ্চিমা সহানুভূতিতে একসময় ড. ইউনূস ছিলেন মিডিয়া-তারকা; এখন তাঁর নাম প্রায় হারিয়ে গেছে, বরং শেখ হাসিনা আবার দৃশ্যমান হয়েছেন রয়টারস, ডয়েচে ভ্যালে, এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের শিরোনামে। সংক্ষেপে বলা যায়—বাণিজ্য আলিঙ্গন করেছে দিল্লিকে, কৌশল করেছে স্যালুট বা বাড়িয়েছে সখ্যতা, আর বিশ্ব বয়ান নীরবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অতীতের ঢাকার দিকে।

US–India vs US–Bangladesh Trade (2015–2025). Source: US Census Bureau & Author Analysis (illustrative).

Strategic Engagement Index — 2020 vs 2025. Source: Author Composite Index based on US–India & US–Bangladesh security/engagement data (illustrative).

International Media Attention (2023–2025). Source: Media count (Reuters, DW, The Independent — illustrative).
এখন আসা যাক, আজকের প্রবন্ধের গুরুত্ত্বপূর্ন অংশে। আমরা দেখলাম, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর একই সময়ে আরো একটি ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রেক্ষিতে। বাংলাদেশে গত জুলাই আগষ্টে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানের পর ভারতে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় (রয়টারস, ডয়েচে ভ্যাল, এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট) সাক্ষাতকার দেন। এইটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এক ধরনের বৈধতাপ্রদানও বটে।
এবার ব্যাখ্যা করা যাক কেন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ইউনুসের জন্য “সাইডলাইন”, কিন্তু হাসিনার জন্য “উইন্ডো অব অপরচুনিটি”। প্রথমে পাঠকের সুবিধার্থে এই কারন গুলোর কিছূটা তাত্ত্বিক ও প্রত্যয়গত ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে এগুলো ভারত-বাংলাদেশের “সাইডলাইন ভার্সাস সুযোগ” ব্যাখ্যা করা হবে।
ক) রিয়ালিজম: “অ্যাঙ্কর স্টেট” আর নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)
ইন্দো-প্যাসিফিক ব্যালান্সে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো—চীনকে কন্টেইন/কাউন্টার করা। এই নকশায় ভারত হলো অ্যাঙ্কর স্টেট। সুতরাং দিল্লির পছন্দ-অপছন্দই এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের অপারেটিং নর্ম সেট করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কে নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল, ডেলিভারি-ক্যাপেবল—এটা তাই হঠাৎ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফিগার-১ (Trade) ও ফিগার-২ (Strategic Engagement) দেখায়: ভারতের সঙ্গে ইন্টারলক বা পারস্পরিক “সহযোগিতার বন্ধন” দ্রুত বেড়েছে, অর্থাৎ ভারতের ব্যাকড চয়েস এবং ওয়াশিংটনের কাছে কম ট্রান্স্যাকশন কস্ট, কম রিস্ক এগুলো এ দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব বিস্তার করেছে।
আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক। “ভারত–মার্কিন ইন্টারলক বেড়েছে, কারন ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ট্রান্স্যাকশন কস্ট/রিস্ক কমেছে”—এ কথার পিঠে দাঁড়ানো ডেটা ও নথি কী বলছে দেখা যাক।
খ। ট্রেড–ইন্টারলক দ্রুত বেড়েছে (hard numbers)
“Trade-Interlock” অর্থ এমন এক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযুক্তি, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ও সরবরাহ-শৃঙ্খল এতটাই অন্তর্নিহিতভাবে জড়িত (interdependent) যে এক পক্ষের নীতি-পরিবর্তন বা বাজার-ঝাঁকুনি অন্য পক্ষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এটি আসলে অর্থনৈতিক lock-in effect — অর্থাৎ সম্পর্ক ভাঙা মানেই উভয় পক্ষের ক্ষতি। Trade-Interlock আসলে কিছু প্রত্যয়ের সমন্বয়। এটি নীচের সমীকরণে বোঝা যেতে পারেঃ
ট্রেড ইন্টারলক= পারস্পরিক নির্ভর্শীলতা (Mutual Dependence)+ নীতি ধারাবাহিকতা (Policy Continuity)+ নিম্ন লেন দেন ঝুঁকি (Low Transaction Risk)।
একটি উদাহরণ দেয়া যাক। ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ভারত পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্য ~$২১২.৩ বিলিয়ন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় +৮.৩% বেশী। এটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক “ইন্টারলক” যে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে—তার সরাসরি প্রমাণ। United States Trade Representative
মাসওয়ারি পণ্যবাণিজ্যের ধারাবাহিকতা (২০২৪) দেখলেই বোঝা যায় যে ভলিউম উচ্চ ও স্থিতিশীল—যা অপারেশনাল অনিশ্চয়তা কমায়। Census.gov
গ) ট্যারিফ ও বিরোধ নিষ্পত্তি—‘বিনিময় ঘর্ষণ’ কমানো (transaction friction)
২০২৩-এ দুই দেশ WTO-র ৬টি বিবাদ একসাথে সমাধান করে; ভারত রিট্যালিয়েটরি শুল্ক তুলে নেয় (বাদাম, আপেল, ছোলা/ডালসহ বহু পণ্যে)। শুল্ক-ঘর্ষণ কমা মানে ব্যবসায়িক ট্রান্স্যাকশন কস্ট কমা ও নীতিগত ঝুঁকি কমায়। United States Trade Representative+2internationaltradeinsights.com+2
ফাউন্ডেশনাল ডিফেন্স এগ্রিমেন্টস—LEMOA/COMCASA/BECA পারস্পরিক কার্যক্ষমতা (Interoperability) বাড়ায় এবং খরচ/ ঝুঁকি (Cost/Risk) কমায়
ঘ। সাপ্লাই–চেইন ‘রুলস–অফ–দ্য–রোড’:
Indo-Pacific Economic Framework for Prosperity (IPEF) Supply Chain Agreement কার্যকর হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ—এতে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতসহ অংশীদাররা supply-chain monitoring, crisis response, transparency-স্ট্যান্ডার্ডে বাধ্যবাধকতা নিয়েছে। যৌথ নিয়ম/মানদণ্ড মানে কন্ট্রাক্ট এনফোর্সমেন্ট সহজ ও পলিসি-ভোলাটিলিটি রিস্ক কম। mti.gov.sg+3State Department+3State Department+3
ঙ। ক্রিটিক্যাল টেক ইন্টারলক: iCET + সেমিকন্ডাক্টর ইনভেস্টমেন্ট
iCET ফ্রেমওয়ার্কে ক্রিটিক্যাল/এমার্জিং টেক, স্পেস-কোঅপারেশন, ডিফেন্স-ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্ক গভীর হয়েছে; Micron, Applied Materials-এর ভারত বিনিয়োগ ঘোষণাও সাপ্লাই-চেইন ডাইভার্সিফিকেশনকে ‘হাডওয়্যার’ দিয়েছে—যা কান্ট্রি-রিস্ক ও কনসেন্ট্রেশন-রিস্ক কমায়। The American Presidency Project+3The White House+3The White House+3
সারকথা যা বোঝা গেলো তা হলো:
এখন দেখা যাক, ওপরের এই জটিল বিষয়টি হাসিনা বনাম ইউনুস সংক্রান্ত আলোচনায় কিভাবে যুক্ত।
২(২) “টু–লেভেল গেম” (Putnam): বাইরের সিগন্যাল এবং ভেতরের বৈধতার সম্পর্ক
বাইরের (লেভেল–I) স্ট্র্যাটেজিক সিগন্যাল ভেতরের (লেভেল–II) রাজনীতিতে লিজিটিমেসি বদলায়। Washington→Delhi “হাগ” হলো এমনই এক সিগন্যাল:
৩) নিওলিবারাল ইনস্টিটিউশনালিজম সহজভাবে: কেন স্থিরতা বড় পুঁজি
‘নিওলিবারাল ইনস্টিটিউশনালিজম’ মানে হলো—আধুনিক বিশ্বে কোনো রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বন্ধুত্ব দিয়ে নয়, বরং তার নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্থিরতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যে রাষ্ট্র যত প্রেডিক্টেবল, সে ততই বিনিয়োগ, কূটনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বিশ্বশক্তির পছন্দের অংশীদার।
ভাবুন, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী কার্গো বা সরবরাহ চেইনের একটি অংশ বাংলাদেশ হয়ে যায়। এই করিডর চালু রাখতে হলে দরকার একটানা নীতি, স্থায়ী প্রশাসনিক দক্ষতা ও অবকাঠামোগত পূর্বাভাসযোগ্যতা। যদি মাঝপথে সরকার বদলে যায়, আর নতুন সরকার বলে, ‘এই পথ দিয়ে মাল যাবে না’, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ভয় পায়, লজিস্টিক ব্যাহত হয়, আর ব্যবসা অন্যত্র সরে যায়। এমন অনিশ্চয়তা বিদেশি অংশীদারদের কাছে ঝুঁকি (policy inconsistency) হিসেবে দেখা দেয়। হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘমেয়াদী নীতি-ধারাবাহিকতা এই আস্থা তৈরি করেছিল, যেখানে ইউনুস সরকারের অস্থায়ী চরিত্র বিদেশি পার্টনারদের কাছে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি করছে।
IPEF বা QUAD কাঠামো আজ কেবল সামরিক বা বাণিজ্য নয়—ডেটা সিকিউরিটি, সাইবার নিয়ম, ও ডিজিটাল ট্রেড স্ট্যান্ডার্ডস নিয়েও কাজ করছে। যেমন, যদি Google বা Tesla বাংলাদেশে সার্ভার বা কারখানা স্থাপন করতে চায়, তারা দেখতে চায় আইন হঠাৎ বদলাবে না, সেন্সরশিপ বা কর নীতি অস্থির হবে না, এবং আদালত তাদের চুক্তির নিরাপত্তা দেবে। হাসিনার প্রশাসনে এই ধরণের নীতি স্থিরতা ছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, কিন্তু ইউনুস সরকারের সীমিত অভিজ্ঞতা ও অনিশ্চয়তা বিদেশি কোম্পানিগুলিকে দ্বিধায় ফেলছে।
মোদ্দা কথা হলো, লিওলিবারেল পলিসির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র–ভারত চুক্তি এবং IPEF-এর মতো আন্তর্জাতিক কাঠামো এমন সরকারকেই প্রাধান্য দেয়, যারা স্থিতিশীল, প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, এবং নীতিতে পূর্বাভাসযোগ্য। হাসিনা সরকার সেখানে ‘স্টেবল হ্যান্ড’, আর ইউনুস সরকার ‘ট্রানজিশন রিস্ক’। এই বাস্তবতাই এখন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে যুক্তিসঙ্গত ও সম্ভাবনাময় করে তুলছে।
৪) ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থা: “ডেলিভারি বনাম ডিসরাপশন”
ওপরের জটিল অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় গেম থিওরিতে। এই তত্ত্বে “কেন ইউনুস সরকার ‘দাসত্ব’ মেনে চললেও চার শক্তি শেষ পর্যন্ত তাকে রিফিউজ করে হাসিনার দিকে ঝুঁকবে”—এর ব্যাখ্যাটি দেয়া যাক। মনে রাখতে হবে, এইটি শুধু নীতিগত প্রশ্ন নয়, ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থা বা ওয়ার্ল্ড-সিস্টেম অব পাওয়ারের বাস্তব রাজনীতির ফল যেখানে বৃহৎ ক্ষমতার দরকষাকষি এবং আঞ্চলিক করিডোরগুলোর কার্যক্রম বিবেচ্য। একে একে বিষয়গুলো বোঝা যাক।
(১) ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থায় বিবেচ্য: ‘ভালো ছেলে’ নয়, ‘ডেলিভারি দেওয়ার হাত’
(ক) চার বড় অ্যাক্টর—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া—আজকে সম্পূর্ণ বিরোধে নয়; দক্ষিণ এশিয়ায় হেজিং-কম্প্রোমাইজ চলছে। লক্ষ্য:
(খ) এই গ্লোবাল/রিজিয়নাল সেট-আপে “কে বেশি বাধ্য” (compliant) সেটা নয়; কার ডেলিভারী টেকসই এবং বেশী স্থিতিশীল সেটাই ব র্ত মান বিশ্বব্যবস্থায় প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এই আলোকে আলোচ্য গেমে মূল দুই চরিত্রের পার্থক্য কিভাবে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করে সেটি বোঝা দরকার।
(২) প্রো-US নয়, প্রো–স্ট্যাবিলিটি: হাসিনার গ্রহণযোগ্যতার কাঠামো
শেখ হাসিনা অতীতে বন্দর/দ্বীপ/করিডর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ‘না’ বলেছেন—এটি সত্য। তবু বিশ্বব্যবস্থা (World System) আজ ‘প্রো-US’ নয়, ‘প্রো-স্ট্যাবিলিটি’ সিগন্যালকে বেশি দামে কেনে। কারণ বড় শক্তিগুলোর লক্ষ্য সরাসরি অ্যাক্সেস নয়, বরং বহুপাক্ষিক বা India-mediated কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি, কম-ঝুঁকির করিডর চালু রাখা। এই ফরম্যাটে ঢাকা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মান-স্ট্যান্ডার্ড, কাস্টমস ও সাইবার ইন্টারঅপারেবিলিটি দিতে পারে—এটি হাসিনার প্রশাসনে বেশি প্রেডিক্টেবল।
ড. ইউনুস কাগজে-কলমে ‘অ্যাক্সেস’ দিতে পারেন, কিন্তু তাঁর সরকারের লেজিটিমেসি ও ধারাবাহিকতার ঘাটতি বিদেশি অংশীদারদের চোখে টেকসই নয়। আজ যে চুক্তি মিলল, কাল সেটি আদালত/রাজপথ/রাজনীতিতে আটকে যেতে পারে—এই উচ্চ-ঝুঁকির কারণে ‘হাই অ্যাক্সেস, লো ডিউরেবিলিটি’ প্রোফাইলটি গ্রহণযোগ্যতার তালিকায় নিচে নেমে যায়। অপরদিকে হাসিনা ‘মডারেট অ্যাক্সেস, হাই ডিউরেবিলিটি’—যেখানে সরাসরি মার্কিন উপস্থিতি না বাড়িয়েও India/Japan/ADB প্রভৃতি বহুপাক্ষিক ছাতার মাধ্যমে একই ফল পাওয়া যায়—কম বিতর্কে, বেশি স্থায়ীত্বে।
সুতরাং, গ্রহণযোগ্যতার মুদ্রা হলো অ্যাক্সেস নয়—ডিউরেবিলিটি। এই লজিকেই চার শক্তির কমন ডিভাইজর হিসেবে হাসিনা ‘স্টেবল হ্যান্ড’ এবং ইউনুস ‘ভোলাটাইল অ্যাসেট’। নীচের ম্যাট্রিক্সটি সেই বাস্তবতাই ইঙ্গিত করে।

Access vs Durability Matrix — Bangladesh Scenarios. Source: Author’s analytical schema (illustrative).
২) গেম থিওরির ভাষায়: পে-অফ বদলে গেছে
ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থায় যে গেমটি বর্তমানে চলছে ভারতীয় উপমহাদেশ ও ওই অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করে, সেটিতে কেন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বড়-অ্যাক্টরদের (US, India, China, Russia) বিবেচনায় স্থানীয়/রিজিওনাল অ্যালায়েন্স-সমূহের (BNP/তারেক, NCP, জামায়াত, পাকিস্তানসহ জোট) তুলনায় এগিয়ে পড়েন/গ্রহণযোগ্য হন সে বিষয়টি আমরা একটু বিশদে আলোচনা করবো।
১। স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা
২। লেজিটিমেসি ও জনসমর্থন
৩। আঞ্চলিক ক্লিয়ারেন্স (Regional clearing)
৪। আইনি ও নিরাপত্তা কস্ট কমানো
৫। মাল্টিল্যাটারাল অপশন ও কভার
টেবিল-শিরোনাম: কেন প্রতিটি অ্যাক্টর হাসিনা-কে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে (সংক্ষেপে)
| Actor (অ্যাক্টর) | হাসিনা কেন গ্রহণযোগ্য? (Why prefer Hasina) | ইউনুস-মুখী জোট (BNP/তারা, জামায়াত, NCP, পাকিস্তান) কেন অযোগ্য? |
| United States | স্থিতিশীল করিডর-নির্ভরতা, কাস্টমস/ডেটা/সাইবার স্ট্যান্ডার্ডে ধারাবাহিকতা; বহুপাক্ষিক ফ্রেমে কাজ সম্ভব | আইনগত/রাজনৈতিক ঝুঁকি, অল্প সময়ে নীতিভঙ্গ; প্রেস-রিলেশনাল ঝামেলা |
| India | সীমান্ত/নর্থ-ইস্ট করিডর নিরাপদ; অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা; ভারত-ঢাকা ইন্টারলক | BNP-পার্টনারশিপ/পাকিস্তান-লিংক জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় |
| China | প্রকল্প-আর্টিকুলেশন ও কনট্র্যাক্ট এনফোর্সমেন্ট সহজ; বিনিয়োগ-টিকিয়ে রাখে | রাজনৈতিক অস্থিরতায় চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে |
| Russia | শক্তি/ডিফেন্স কনট্রাক্টে ধারাবাহিকতা; কৌশলগত পূর্বানুমানযোগ্যতা | আন্তর্জাতিক চাপ/সাংগঠনিক অব্যবস্থা বাড়লে কার্যকর প্রয়োগ বাধাপ্রাপ্ত |
| Bangladesh (ডোমেস্টিক) | সার্বভৌমত্ব রক্ষা + সামাজিক নিরাপত্তা; উন্নয়ন ধারাবাহিক | স্বল্পমেয়াদি কনসেশন; দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও বিভাজন |
মোদ্দা কথা হলো, হাসিনার অধীনে “সম্পদে, যেমন করিডোর, বন্দর, দ্বীপ ইত্যাদিতে কম প্রবেশাধিকার, কিন্তু ঝুঁকি কম, অথচ স্থায়িত্ব বেশী”—একে বিদেশি এক্টররা আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের দিক অনেক বেশী লাভজনক মনে করে। ইউনুস-কেন্দ্রিক জোটে কনসেশন বা ডিসকাউন্ট (সম্পদে প্রবেশাধিকার) বেশী থাকলেও ডিউরেবিলিটি ও লেজিটিমেসি-র সমস্যার কারণে বড় শক্তির পক্ষে সেটি গ্রহণযোগ্য না। এই বিষয়টি আমরা আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো পরে।
ধরি, খেলোয়াড় = {US, India, China, Russia, Bangladesh-Regime}।
ফল: ইউনুস-কে রেখে তার থেকে “দাসত্ব” সেবা নিলেও সিস্টেমিক পে-অফ মেলে না; হাসিনা নিলে মোট পে-অফ বেশি।
৩) ‘দাসত্ব’ বনাম ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’: কেন “কেবল আনুগত্য মানেই গ্রহণযোগ্যতা নয়।”
অন্যদিকে,
সংক্ষেপে
| ধারণা | মানে | উদাহরণ |
| Compliant | নির্দেশ মানে, কিন্তু নিজস্ব শক্তি নেই | ইউনুস সরকার |
| Acceptable | সব নির্দেশ মানেনা, কিন্তু বিশ্বব্যবস্থায় স্থিতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য পার্টনার | শেখ হাসিনা |
ক। লেজিটিমেসি দুর্বল → অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ/নীতি বদলের ঝুঁকি; জন সমর্থনের অভাব।
খ। ক্যাপাসিটি কম → বন্দর/ডেটা/কর-স্ট্যান্ডার্ডে বাস্তবায়ন ধীর।
গ। কন্টিনিউটি অনিশ্চিত → দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন/করিডর কস্টলি।
৪) ভারতের ভেটো–ওয়েট + আমেরিকার রিস্ক–মিনিমাইজেশন
৫) চীন-রাশিয়ার হেজ: ‘স্টেবল প্রতিপক্ষই ভালো’
৬) ন্যারেটিভ/লিজিটিমেসি মার্কেট: বাহিরের সিগন্যাল → ভিতরের দাম
৭) ডেমোস্ট্রেটেড পপুলারিটি: “AL/Hasina এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়”
এক লাইনর কার্যকারন শৃংখল সম্পর্ক
World-System (US–India tilt + CN/RU hedge) → Corridor/Standard Priority → Compliance নয়, Credibility দরকার → Yunus = capacity/continuity risk; Hasina = predictable delivery → External signal shifts legitimacy → Hasina acceptable; Yunus refused.
৪–কোণা (Four-Corner) “অ্যাক্টর–শিফট”
| শক্তি | প্রাইমারি স্বার্থ | ঢাকা–পছন্দ (কারণ) |
| US | রিস্ক কমানো, IPEF নর্ম | Hasina (প্রেডিক্টেবল ডেলিভারি) |
| India | করিডর/নর্থ-ইস্ট সিকিউরিটি | Hasina (ইন্টারলক রেকর্ড) |
| China | চুক্তি/ইনফ্রা ধারাবাহিকতা | Hasina (কনট্র্যাক্ট এনফোর্স) |
| Russia | লং-টার্ম ফাইন্যান্স/ডিফেন্স | Hasina (নীতি-স্থিতি) |
রাজনৈতিক ইমপ্লিকেশন
৮) সোশ্যাল–পাওয়ার/ন্যারেটিভ মার্কেট: এজেন্ডা সেটিং ও “লিজিটিমেসি মার্কেট”
আন্তর্জাতিক মিডিয়া এজেন্ডা সেটার। যখন ওয়াশিংটনের কৌশল দিল্লিমুখী হয়, তখন কভারেজও স্ট্যাবিলিটি-সেন্ট্রিক হয়।
ফলে, হাসিনা “রেসপন্সিবল অপশন” হিসেবে বাজারে পুনরায় প্রাইসড; ইউনুস “হাই-ভোলাটিলিটি অ্যাসেট”।
ওপরের আলোচনাটি যা দেখাচ্ছে সেটি হলো, দক্ষিন এশিয়ায় ক্ষমতা ও স্বার্থের রঙ্গমঞ্চে এক ধরনের এলাইনমেন্টের জন্ম হয়েছে ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে যে গেমটি ক্রিয়াশীল সেটির। এই পুরো ব্যপারটিকে আমরা নীচের Figure 5 এ দেখানো গেলো।

শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পুনরাবির্ভাব
দীর্ঘ নীরবতার পর শেখ হাসিনা এক সপ্তাহে তিনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (Reuters, The Independent, DW) সাক্ষাৎকার দিয়েছেন—যা স্পষ্টত একটি “diplomatic re-entry”।
এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা নয়, বরং একটি নীতিগত বার্তা—ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমীকরণে শেখ হাসিনা এখনও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রাজনৈতিকভাবে পরিণত নেতা।
বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে
৪. ইউনুস–রেজিমের জন্য কেন এটি খারাপ খবর
এখানে আমরা ফেসবুকে তিনটি খবরের ওপর সংক্ষেপে জনমত বিশ্লেষন করবো। এগুলো সবই শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার সম্পর্কিতঃ
(১) “প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রেস সচিবের বক্তব্য” (প্রথম আলো); এখানে পাই-চার্টে (Figure ৬) তুলে ধরা ১৪৩৬টি মতামতের (১৪৩৬ জন মানুষ) মধ্যে নীল অংশটি (৯৯% মতামত) দেখাচ্ছে প্রেস সচিবের মন্তব্য এবং মতামতকে সামাজিক মাধ্যমের মানুষেরা মোটামুটি পুরোটাই প্রত্যাখ্যান করেছে; আমরা কিছু নির্বাচিত মন্তব্য এখানে পাঠকদের জন্য দিয়েছি।
(২) “হাসিনার মুখে নির্বাচনের কথা মানায়না, বলছেন রাজনীতিকরা” (বিবিসি): এখানে পাই-চার্টে (Figure ৭) তুলে ধরা ১৬০৯টি মতামতের (১৬০৯ জন মানুষ) মধ্যে নীল অংশটি (৮৮% মতামত) দেখাচ্ছে, খবরটিকে সামাজিক মাধ্যমের মানুষেরা মোটামুটি প্রত্যাখ্যান করেছে; আমরা কিছু নির্বাচিত মন্তব্য এখানে পাঠকদের জন্য দিয়েছি।
(৩) “নানান গুঞ্জনের মধ্যে হাসিনার বক্তব্য” (বিবিসি): মোট ৫১৭৬ জন মানুষের মতামতের মধ্যে ৭৩% মতামত সরাসরি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন (দেখুন Figure ৮ )।



অতপরঃ আমাদের তাত্ত্বিক উপসংহার
(a) গেম থিওরি – Strategic Triangle
| Player | Strategy | Payoff (Short-term) | Payoff (Long-term) |
| USA | Strengthen India; hedge Pakistan and Bangladesh | Stability in Indo-Pacific | Containment of China |
| India | Deepen US alignment; marginalize unstable neighbors | Trade + Security gains | Regional leadership |
| Bangladesh (Yunus) | Depend on US sympathy | Temporary recognition | Isolation |
| Bangladesh (Hasina) | Reassert legitimacy via an India-friendly equilibrium | Political resurgence | Strategic acceptance |
ওপরের আলোচনাটি গেম থিওরীর একটি মৌলিক কম্পোনেন্ট ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম তত্ত্ব যেটি ইউনুসের জায়গায় হাসিনার প্রাধান্যকে ইঙ্গিত করে সেটির সাথে অনেকটাই মিলে যায়। বিভিন্ন সংস্থার (যেমন বিশ্বব্যাঙ্ক, V-Dem, ACLED, Reuters, ইত্যাদি) সুত্র থেকে আহরিত কো-অর্ডিনেটের ভিত্তিতে সম্পদের দখল বনাম টেকসইপ্রবণতা হিসেব করে হাসিনা ও ইউনুসের গ্রহণযোগ্যতা নীচে দেয়া হলো। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, অন্যসব প্রতিযোগীদের তুলনায় হাসিনা বিদেশী শক্তিগুলোর সম্পদে দখল (Accessibility) দিতে কম রাজী থাকলেও (হাসিনা ০.৪০ যেখানে ইউনুস ০.৭০) তাঁর দক্ষতা এবং কর্মকুশলতা বড় এক্টরদের যেটুকু দেয়া হয়েছে সেটুকুর টেকসই স্থায়িত্ত্ব নিশ্চিতে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে (হাসিনা .৮৫ যেখানে ইউনুস ০.৪০)। এ দুইয়ের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, হাসিনার গ্রহন যোগ্যতা অনেক ওপরে (দেখুন * বনাম X)।

(b) Cultural Inertia & Popular Legitimacy
ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার “power geometry” বদলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝেছে যে Yunus regime neither enjoys legitimacy nor ensures stability; অন্যদিকে Sheikh Hasina-র নেতৃত্ব, ভারত-বান্ধব অবস্থান, এবং জনসমর্থন দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
উপসংহার
ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কৌশলগত আলিঙ্গন দক্ষিণ এশিয়ার “পাওয়ার জিওমেট্রি”কে এমনভাবে রিসেট করেছে, যেখানে অ্যাক্সেসের চেয়ে ডিউরেবিলিটি—অর্থাৎ নীতি-ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা—বড় মুদ্রা হয়ে উঠেছে। এই নতুন ব্যালান্সে ড. ইউনুসের “হাই-অ্যাক্সেস-লো-ডিউরেবিলিটি” প্রোফাইলটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে ঝুঁকির সমার্থক, আর শেখ হাসিনার “মডারেট-অ্যাক্সেস-হাই-ডিউরেবিলিটি” প্রোফাইলটি গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডে এগিয়ে। Figure 5–9-এর ট্রেড/এনগেজমেন্ট, মিডিয়া-সিগন্যাল ও অ্যাক্সেস–ডিউরেবিলিটি ম্যাট্রিক্স—সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তটাই ধারাবাহিকভাবে সূচিত হয়: Washington–Delhi tilt ≠ Dhaka-agnostic; বরং Delhi-anchored stability-র জন্য predictable Dhaka প্রয়োজন—যেখানে হাসিনা “স্টেবল হ্যান্ড”, ইউনুস “ভোলাটাইল অ্যাসেট”।
গেম-থিওরির ভাষায়, পে-অফ ম্যাট্রিক্স বদলেছে। বড় চার শক্তির সম্মিলিত লক্ষ্য—করিডর সিকিউরিটি, সাপ্লাই-চেইন রুলস, কনট্র্যাক্ট এনফোর্সমেন্ট—এসব অর্জনে সবচেয়ে কম লেনদেন-ব্যয় যার, সেই পার্টনারের প্রতি ঝোঁক অবধারিত। ন্যায়বিচার-বিতর্ক বা নৈতিক পোস্টারিং রাজনৈতিক বায়ুমণ্ডল বানালেও, বাস্তব গেমে কমপ্লায়েন্স ≠ ক্রেডিবিলিটি। ইউনুস শিবির কাগজে-কলমে “অ্যাক্সেস” দেখালেও লেজিটিমেসি ও কন্টিনিউটির ঘাটতি সেই অ্যাক্সেসকে কস্টলি করে তোলে; বিপরীতে হাসিনার রেকর্ড ডেলিভারেবল-প্রেডিক্টিবিলিটিকে ডিসকাউন্ট দেয়—ফলে ন্যাশ-সদৃশ ভারসাম্যে হাসিনা-পছন্দই লিস্ট-রিস্ক/মোস্ট-ডেলিভারি অপশন হিসেবে উঠে আসে।
এই কাঠামোগত বদলকে ত্বরান্বিত করেছে ন্যারেটিভ-মার্কেটের সিগন্যালও। আন্তর্জাতিক কভারেজ ও কূটনৈতিক টোন-শিফট (Figure 3) ভেতরের লিজিটিমেসি মার্কেট-এ দাম বদলায়—হাসিনাকে “প্রাইস-আপ”, ইউনুসকে “ডিসকাউন্ট” করে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জড়তা (cultural inertia)—১৯৭১-কেন্দ্রিক জাতীয় ন্যারেটিভ—জনসমর্থনের ভিত্তিকে এমনিতেই একদিকে ঠেলে দেয়; সেই পপুলার-লিগিটিমেসি = পলিসি-ডিউরেবিলিটির প্রক্সি, যা বিদেশি স্টেকহোল্ডারদের ঝুঁকি-হিসাবকে আরও সরল করে।
সুতরাং, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তববাদী পাঠ তিনটি—
শেষ কথা—দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন গেমে ভদ্রতা নয়, ভরসা জেতে; আনুগত্য নয়, আউটকাম জেতে। দিল্লি-মুখী ওয়াশিংটনের এই পর্বে, বাংলাদেশের জন্য সেই আউটকাম-কেন্দ্রিক, কম-ঘর্ষণ, উচ্চ-ডিউরেবিলিটি পথের স্বাভাবিক বাহক শেখ হাসিনা—এবং তাই, ইউনুস-শাসনের উপর ঠান্ডা ছায়া নামানো এবং হাসিনার সামনে সবুজ আলোর জ্বলে ওঠা—দুটোই এই World System of Power-এর যুক্তিযুক্ত পরিণতি।
References (APA 7th edition)
ACLED. (2024). Armed Conflict Location & Event Data Project (Bangladesh dataset, 2023–2024). Retrieved from https://acleddata.com
Basel Institute on Governance. (2024). Anti–Money Laundering Index 2024. Basel, Switzerland.
CNA. (2024). U.S.–India foundational defense agreements: Operational implications of LEMOA, COMCASA, and BECA. Arlington, VA: CNA Analysis & Solutions.
Das, S. (2025). Facebook Sentiment Dataset: July–October 2025. Virginia Commonwealth University.
Deutsche Welle (DW). (2025, August). Interview with Sheikh Hasina: “I am accountable to my people, not to foreign pressure.” DW.com.
Keane, J. (2018). The new despotism. Cambridge, MA: Harvard University Press.
Paxton, R. O. (2004). The anatomy of fascism. New York, NY: Vintage.
Putnam, R. D. (1988). Diplomacy and domestic politics: The logic of two-level games. International Organization, 42(3), 427–460.
Reuters. (2025, August). Exclusive interview with Sheikh Hasina on Bangladesh’s political transition. Reuters World News.
Scott, J. C. (1990). Domination and the arts of resistance: Hidden transcripts. New Haven, CT: Yale University Press.
State Department, U.S. (2024). Indo-Pacific Strategy of the United States. Washington, DC: U.S. Department of State.
The Independent. (2025, August). Hasina speaks out against the interim government’s legitimacy claims. The Independent (UK).
Transparency International. (2023). Corruption Perceptions Index 2023. Berlin, Germany.
United States Census Bureau. (2024). Monthly U.S. international trade in goods and services: India. Washington, DC: U.S. Department of Commerce.
United States Trade Representative (USTR). (2024). 2024 National Trade Estimate Report on Foreign Trade Barriers: India and Bangladesh sections. Washington, DC: Executive Office of the President.
V-Dem Institute. (2024). Democracy Report 2024: Autocratization turns viral again. University of Gothenburg.
White House. (2024). U.S.–India initiative on Critical and Emerging Technology (iCET): Joint Statement, January 2024. Washington, DC: The White House.
World Bank. (2024). World Development Indicators: Governance and trade datasets. Washington, DC: World Bank Group.
World Justice Project. (2024). Rule of Law Index 2024. Washington, DC: World Justice Project.
লেখকঃ ড. শ্যামল দাস– অধ্যাপক, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও সমাজবিজ্ঞান, এলিজাবেথ সিটি স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au