মতামত

দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলিঙ্গন: ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থার খেলায় ইউনুসের গায়ে কাঁটা, হাসিনার সামনে গ্রিন সিগনাল

  • 11:58 pm - November 04, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৩৩ বার
দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলিঙ্গন:ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থার খেলায় ইউনুসের গায়ে কাঁটা, হাসিনার সামনে সবুজ আলো. ছবিঃ ওটিএন বাংলা

মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর-

. ভূমিকা

এটি ছিল এমন এক কূটনৈতিক আলিঙ্গন, যা যেকোনো সরকারি বিবৃতির চেয়েও জোরে কথা বলেছে। যখন ওয়াশিংটন দিল্লির প্রেমে পড়ল, তখন গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক তাপমাত্রা রাতারাতি বদলে গেল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের “স্থিতিশীলতা”-র নামে প্রশংসিত নতুন ভারত–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি আসলে নীরবে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির মানচিত্রটিকেই নতুনভাবে এঁকে দিয়েছে—আর সেটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী শাসক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে নয়।

অনেক মাস ধরে ইউনুস ভেবেছিলেন, ওয়াশিংটনের করিডোরগুলো তাঁর সরকারের প্রতি সহানুভূতির প্রতিধ্বনিতে ভরে আছে। কিন্তু আমেরিকার সেই আলিঙ্গন কেবল প্রতীকী ছিল না; এটি ছিল এক পুনর্গঠনের সংকেত—একটি স্মরণবাণী, যে নবউদারতাবাদী শক্তির কোনো স্থায়ী বন্ধু নেই, আছে শুধু স্থায়ী স্বার্থ।

যখন ইউনুস কৌশলগত উপেক্ষার আগুনে পুড়ছিলেন, তখন পশ্চিমা ‘নৈতিক অভিভাবক’দের দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর শেখ হাসিনা হঠাৎই আবার বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এলেন—স্থির, আত্মবিশ্বাসী, এবং যেন ন্যায়বিচারে পুনর্বাসিত। মনে হচ্ছে, দিল্লির প্রতি ওয়াশিংটনের এই উষ্ণতা ইউনুসের নড়বড়ে সিংহাসনের ওপর ফেলেছে এক ঠান্ডা ছায়া, আর হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথে জ্বেলে দিয়েছে নতুন আলোর বাতি।

২০২৫ সালের ভারত–যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তথাকথিত “গণতান্ত্রিক রূপান্তর”-এর নামে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহনশীলতা দেখালেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ — বিশেষত শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পুনরাবির্ভাব — ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টি এখন ঢাকায় নয়, দিল্লিতে স্থির হচ্ছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ১০-বছরের নিরাপত্তা চুক্তি, বাণিজ্যিক ট্যারিফ কমানো, এবং পাকিস্তানের প্রতি শুধুই সদয় কূটনৈতিক ভাষা—সবকিছু মিলিয়ে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ‘India-led balance’ হিসেবে দেখতে চায়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার (ড. ইউনুসের নেতৃত্বে) একদিকে বৈধতার সংকটে, অন্যদিকে আঞ্চলিকভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে।

. এবার আমরা অর্থনীতি এবং এর আন্তদেশীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কিছু জটিল কার্যকরন বোঝার চেষ্টা করবো।

(): ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা: ভারতের সাম্প্রতিক উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃসমীকরণ

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ১০ বছরের নিরাপত্তা চুক্তি (2025): এতে সামরিক সরঞ্জাম, সাইবার প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য ও ট্যারিফ কমানো: যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে “trusted partner in critical supply chains” বলে অভিহিত করেছে (US DoC, 2025)।
  • ভারত-মধ্যস্থ স্থিতিশীলতা মডেল: দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন “India-centric balance” তৈরি করছে — অর্থাৎ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো অস্থিতিশীল বা অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রগুলোকে নয়, একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক শক্তিকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজাচ্ছে।

ওপরের বিষয়গুলোর পেছনকার কিছু যুক্তি আমরা বোঝার চেষ্টা করবো উপাত্ত বা ডেটা থেকে।  যদি কূটনীতি গল্প বলে, তবে ডেটাই সেই গল্পের মানচিত্র আঁকে। চিত্র ১ দেখায়—২০১৫ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ বাংলাদেশের বাণিজ্য বরং কমেছে। চিত্র ২ আরও গভীর এক বাঁক ধরে—ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের “কৌশলগত সম্পৃক্ততা সূচক” ৫৮ থেকে ৮৭ তে উঠেছে, অথচ বাংলাদেশেরটি নেমে গেছে ৪০-এর নিচে। আর চিত্র ৩ বলে দিচ্ছে কাহিনির মোচড়—যেখানে পশ্চিমা সহানুভূতিতে একসময় ড. ইউনূস ছিলেন মিডিয়া-তারকা; এখন তাঁর নাম প্রায় হারিয়ে গেছে, বরং শেখ হাসিনা আবার দৃশ্যমান হয়েছেন রয়টারস, ডয়েচে ভ্যালে, এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের শিরোনামে। সংক্ষেপে বলা যায়—বাণিজ্য আলিঙ্গন করেছে দিল্লিকে, কৌশল করেছে স্যালুট বা বাড়িয়েছে সখ্যতা, আর বিশ্ব বয়ান নীরবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অতীতের ঢাকার দিকে।

US–India vs US–Bangladesh Trade (2015–2025). Source: US Census Bureau & Author Analysis (illustrative).

Strategic Engagement Index — 2020 vs 2025. Source: Author Composite Index based on US–India & US–Bangladesh security/engagement data (illustrative).

International Media Attention (2023–2025). Source: Media count (Reuters, DW, The Independent — illustrative).

 

এখন আসা যাক, আজকের প্রবন্ধের গুরুত্ত্বপূর্ন অংশে। আমরা দেখলাম, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর একই সময়ে আরো একটি ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রেক্ষিতে। বাংলাদেশে গত জুলাই আগষ্টে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানের পর ভারতে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় (রয়টারস, ডয়েচে ভ্যাল, এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট) সাক্ষাতকার দেন। এইটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এক ধরনের বৈধতাপ্রদানও বটে।

এবার  ব্যাখ্যা করা যাক কেন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ইউনুসের জন্য “সাইডলাইন”, কিন্তু হাসিনার জন্য “উইন্ডো অব অপরচুনিটি”। প্রথমে পাঠকের সুবিধার্থে এই কারন গুলোর কিছূটা তাত্ত্বিক ও প্রত্যয়গত ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে এগুলো ভারত-বাংলাদেশের “সাইডলাইন ভার্সাস সুযোগ” ব্যাখ্যা করা হবে।

ক) রিয়ালিজম: “অ্যাঙ্কর স্টেটআর নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)

ইন্দো-প্যাসিফিক ব্যালান্সে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো—চীনকে কন্টেইন/কাউন্টার করা। এই নকশায় ভারত হলো অ্যাঙ্কর স্টেট। সুতরাং দিল্লির পছন্দ-অপছন্দই এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের অপারেটিং নর্ম সেট করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কে নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল, ডেলিভারি-ক্যাপেবল—এটা তাই হঠাৎ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফিগার-১ (Trade) ও ফিগার-২ (Strategic Engagement) দেখায়: ভারতের সঙ্গে ইন্টারলক বা পারস্পরিক “সহযোগিতার বন্ধন” দ্রুত বেড়েছে, অর্থাৎ ভারতের ব্যাকড চয়েস এবং ওয়াশিংটনের কাছে কম ট্রান্স্যাকশন কস্ট, কম রিস্ক এগুলো এ দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব বিস্তার করেছে।

আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক। “ভারত–মার্কিন ইন্টারলক বেড়েছে, কারন ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ট্রান্স্যাকশন কস্ট/রিস্ক কমেছে”—এ কথার পিঠে দাঁড়ানো ডেটা ও নথি কী বলছে দেখা যাক।

খ। ট্রেডইন্টারলক দ্রুত বেড়েছে (hard numbers)

“Trade-Interlock” অর্থ এমন এক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযুক্তি, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ও সরবরাহ-শৃঙ্খল এতটাই অন্তর্নিহিতভাবে জড়িত (interdependent) যে এক পক্ষের নীতি-পরিবর্তন বা বাজার-ঝাঁকুনি অন্য পক্ষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এটি আসলে অর্থনৈতিক lock-in effect — অর্থাৎ সম্পর্ক ভাঙা মানেই উভয় পক্ষের ক্ষতি। Trade-Interlock আসলে কিছু প্রত্যয়ের সমন্বয়। এটি নীচের সমীকরণে বোঝা যেতে পারেঃ

ট্রেড ইন্টারলক= পারস্পরিক নির্ভর্শীলতা (Mutual Dependence)+ নীতি ধারাবাহিকতা (Policy Continuity)+ নিম্ন লেন দেন ঝুঁকি (Low Transaction Risk)।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক। ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ভারত পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্য ~$২১২.৩ বিলিয়ন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় +৮.৩% বেশী। এটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক “ইন্টারলক” যে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে—তার সরাসরি প্রমাণ। United States Trade Representative

মাসওয়ারি পণ্যবাণিজ্যের ধারাবাহিকতা (২০২৪) দেখলেই বোঝা যায় যে ভলিউম উচ্চ ও স্থিতিশীল—যা অপারেশনাল অনিশ্চয়তা কমায়। Census.gov

গ) ট্যারিফ বিরোধ নিষ্পত্তি—‘বিনিময় ঘর্ষণকমানো (transaction friction)

২০২৩-এ দুই দেশ WTO-র ৬টি বিবাদ একসাথে সমাধান করে; ভারত রিট্যালিয়েটরি শুল্ক তুলে নেয় (বাদাম, আপেল, ছোলা/ডালসহ বহু পণ্যে)। শুল্ক-ঘর্ষণ কমা মানে ব্যবসায়িক ট্রান্স্যাকশন কস্ট কমা ও নীতিগত ঝুঁকি কমায়। United States Trade Representative+2internationaltradeinsights.com+2

ফাউন্ডেশনাল ডিফেন্স এগ্রিমেন্টস—LEMOA/COMCASA/BECA পারস্পরিক কার্যক্ষমতা (Interoperability) বাড়ায় এবং খরচ/ ঝুঁকি (Cost/Risk) কমায়

  • মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নোট অনুযায়ী, LEMOA, COMCASA, BECA–র মাধ্যমে রসদ/লজিস্টিক, সিকিউর কমিউনিকেশন, জিওস্পেশিয়াল ডেটা-শেয়ারিং—সব মিলিয়ে ইন্টারঅপারেবিলিটি বেড়েছে। State Department
  • একটি বিশ্লেষণী নথি দেখায়, LEMOA ভারতীয় বাহিনীর অপারেশনাল কস্ট কমায়, আর BECA/COMCASA-র অধীনে বহু ডেটা যুক্তরাষ্ট্র “ভার্চুয়ালি নো-কস্ট” এ শেয়ার করে—যা সমন্বয়ের লেনদেন-ব্যয় (transaction cost) নামিয়ে আনে। CNA

ঘ। সাপ্লাইচেইনরুলসঅফদ্যরোড’:

Indo-Pacific Economic Framework for Prosperity (IPEF) Supply Chain Agreement কার্যকর হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ—এতে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতসহ অংশীদাররা supply-chain monitoring, crisis response, transparency-স্ট্যান্ডার্ডে বাধ্যবাধকতা নিয়েছে। যৌথ নিয়ম/মানদণ্ড মানে কন্ট্রাক্ট এনফোর্সমেন্ট সহজ ও পলিসি-ভোলাটিলিটি রিস্ক কম। mti.gov.sg+3State Department+3State Department+3

ঙ। ক্রিটিক্যাল টেক ইন্টারলক: iCET + সেমিকন্ডাক্টর ইনভেস্টমেন্ট

iCET ফ্রেমওয়ার্কে ক্রিটিক্যাল/এমার্জিং টেক, স্পেস-কোঅপারেশন, ডিফেন্স-ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্ক গভীর হয়েছে; Micron, Applied Materials-এর ভারত বিনিয়োগ ঘোষণাও সাপ্লাই-চেইন ডাইভার্সিফিকেশনকে ‘হাডওয়্যার’ দিয়েছে—যা কান্ট্রি-রিস্ক ও কনসেন্ট্রেশন-রিস্ক কমায়। The American Presidency Project+3The White House+3The White House+3

সারকথা যা বোঝা গেলো তা হলো:

  • ট্রেড-ভলিউম বাড়লে শুল্ক-বিবাদ কমে, লজিস্টিক/ডেটা-শেয়ারিং বাড়ে, সাপ্লাই-চেইন রুলস বাড়ে—এই চারটে স্তম্ভ মিলে ইন্টারলক ঘনিষ্ঠ করেছে।
  • ইন্টারঅপারেবল লজিস্টিক/কমস/জিও-ডেটা ও স্ট্যান্ডার্ডাইজড চেইন থাকলে চুক্তি বাস্তবায়ন, সমন্বয়, তথ্য-অসামঞ্জস্য–সবখানেই লেনদেন-ব্যয় কমে; বিরোধ/নীতিপরিবর্তনের ঝুঁকিও কমে। LEMOA/COMCASA/BECA-র কস্ট-রিডাকশন যুক্তি সরাসরি নথিভুক্ত আছে; IPEF-এর ‘rules-of-origin’-ধরনের শাসনও ex-ante risk কমায়। CNA+2State Department+2

এখন দেখা যাক, ওপরের এই জটিল বিষয়টি হাসিনা বনাম ইউনুস সংক্রান্ত আলোচনায় কিভাবে যুক্ত।

  • যখন ওয়াশিংটনের অপারেটিং লজিক “লো-ঘর্ষণ, লো-রিস্ক, হাই-ডেলিভারি”, তখন দিল্লি-অ্যালাইন্দ স্ট্যান্ডার্ড/করিডরের সাথে প্রেডিক্টেবল পার্টনারশিপ—এটাই প্রাধান্য পায়। আওয়ামী লীগ আমলে ধারাবাহিক পোর্ট/লজিস্টিক/সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেশন, এগুলোকে ভারত-সমর্থিত কম-ঝুঁকির পছন্দ হিসেবে দেখা সহজ; বিপরীতে, অন্তর্বর্তী/অ্যাড-হক শাসনে ইনস্টিটিউশনাল কন্টিনিউটি কম থাকলে ট্রান্স্যাকশন কস্ট/রিস্ক তুলনামূলক বেশি—সেটাই আমাদের থিসিসটিকে সমর্থন করে। (উপরের 1–5 পয়েন্টের ডকুমেন্টেশন দেখুন।) State Department+2State Department+2
  • আওয়ামী লীগ-শাসনে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো/সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেশন চালু থাকার স্মারক আছে; ইউনুস-রেজিমে প্রশাসনিক ভঙ্গুরতা, টিকে থাকার অনিশ্চয়তা—রিজিওনাল গেমে “অবিশ্বস্ত পার্টনার” রিস্ক বাড়ায়। ফল: হাসিনা = নির্ভরযোগ্য; ইউনুস = হাই-রিস্ক।

২(২) টুলেভেল গেম” (Putnam): বাইরের সিগন্যাল এবং ভেতরের বৈধতার সম্পর্ক

বাইরের (লেভেল–I) স্ট্র্যাটেজিক সিগন্যাল ভেতরের (লেভেল–II) রাজনীতিতে লিজিটিমেসি বদলায়। Washington→Delhi “হাগ” হলো এমনই এক সিগন্যাল:

  • বহির্মুখী: ভারতকে অগ্রাধিকার; বাংলাদেশে “কম ঝুঁকিপূর্ণ” অ্যাক্টর দরকার।
  • অন্তর্মুখী: মিডিয়া/ডিপ্লোম্যাটিক টোন শিফটে হাসিনার রিটার্ন ন্যারেটিভ সম্ভব (চার্ট–৩: Media Attention)। এই সিগন্যাল ইঙ্গিত দেয়—ওয়াশিংটন “কাদের সঙ্গে কাজ করলে লক্ষ্য পূরণ সহজ”—এটি দেশি দর্শকের কাছে বৈধতার বাজারে হাসিনাকে প্রাইস-আপ করে, ইউনুসকে ডিসকাউন্ট করে। এইটি গেম থিওরীর আলোকে আরেকটূ আলাপ করা যাক।

৩) নিওলিবারাল ইনস্টিটিউশনালিজম সহজভাবে: কেন স্থিরতা বড় পুঁজি

‘নিওলিবারাল ইনস্টিটিউশনালিজম’ মানে হলো—আধুনিক বিশ্বে কোনো রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বন্ধুত্ব দিয়ে নয়, বরং তার নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্থিরতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যে রাষ্ট্র যত প্রেডিক্টেবল, সে ততই বিনিয়োগ, কূটনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বিশ্বশক্তির পছন্দের অংশীদার।

উদাহরণ : রাস্তায় গর্ত করিডর রাজনীতি

ভাবুন, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী কার্গো বা সরবরাহ চেইনের একটি অংশ বাংলাদেশ হয়ে যায়। এই করিডর চালু রাখতে হলে দরকার একটানা নীতি, স্থায়ী প্রশাসনিক দক্ষতা ও অবকাঠামোগত পূর্বাভাসযোগ্যতা। যদি মাঝপথে সরকার বদলে যায়, আর নতুন সরকার বলে, ‘এই পথ দিয়ে মাল যাবে না’, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ভয় পায়, লজিস্টিক ব্যাহত হয়, আর ব্যবসা অন্যত্র সরে যায়। এমন অনিশ্চয়তা বিদেশি অংশীদারদের কাছে ঝুঁকি (policy inconsistency) হিসেবে দেখা দেয়। হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘমেয়াদী নীতি-ধারাবাহিকতা এই আস্থা তৈরি করেছিল, যেখানে ইউনুস সরকারের অস্থায়ী চরিত্র বিদেশি পার্টনারদের কাছে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

উদাহরণ : ডেটা সাইবার মানদণ্ড

IPEF বা QUAD কাঠামো আজ কেবল সামরিক বা বাণিজ্য নয়—ডেটা সিকিউরিটি, সাইবার নিয়ম, ও ডিজিটাল ট্রেড স্ট্যান্ডার্ডস নিয়েও কাজ করছে। যেমন, যদি Google বা Tesla বাংলাদেশে সার্ভার বা কারখানা স্থাপন করতে চায়, তারা দেখতে চায় আইন হঠাৎ বদলাবে না, সেন্সরশিপ বা কর নীতি অস্থির হবে না, এবং আদালত তাদের চুক্তির নিরাপত্তা দেবে। হাসিনার প্রশাসনে এই ধরণের নীতি স্থিরতা ছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, কিন্তু ইউনুস সরকারের সীমিত অভিজ্ঞতা ও অনিশ্চয়তা বিদেশি কোম্পানিগুলিকে দ্বিধায় ফেলছে।

মোদ্দা কথা হলো, লিওলিবারেল পলিসির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র–ভারত চুক্তি এবং IPEF-এর মতো আন্তর্জাতিক কাঠামো এমন সরকারকেই প্রাধান্য দেয়, যারা স্থিতিশীল, প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, এবং নীতিতে পূর্বাভাসযোগ্য। হাসিনা সরকার সেখানে ‘স্টেবল হ্যান্ড’, আর ইউনুস সরকার ‘ট্রানজিশন রিস্ক’। এই বাস্তবতাই এখন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে যুক্তিসঙ্গত ও সম্ভাবনাময় করে তুলছে।

৪) ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থা: “ডেলিভারি বনাম ডিসরাপশন

ওপরের জটিল অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় গেম থিওরিতে। এই তত্ত্বে “কেন ইউনুস সরকার ‘দাসত্ব’ মেনে চললেও চার শক্তি শেষ পর্যন্ত তাকে রিফিউজ করে হাসিনার দিকে ঝুঁকবে”—এর ব্যাখ্যাটি দেয়া যাক। মনে রাখতে হবে, এইটি  শুধু নীতিগত প্রশ্ন নয়, ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থা বা ওয়ার্ল্ড-সিস্টেম অব পাওয়ারের বাস্তব রাজনীতির ফল যেখানে বৃহৎ ক্ষমতার দরকষাকষি এবং আঞ্চলিক করিডোরগুলোর কার্যক্রম বিবেচ্য। একে একে বিষয়গুলো বোঝা যাক।

() ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থায় বিবেচ্য: ভালো ছেলেনয়, ‘ডেলিভারি দেওয়ার হাত

(ক) চার বড় অ্যাক্টর—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া—আজকে সম্পূর্ণ বিরোধে নয়; দক্ষিণ এশিয়ায় হেজিং-কম্প্রোমাইজ চলছে। লক্ষ্য:

    • সাপ্লাই-চেইন ও করিডর সিকিউরিটি (বন্দর, সড়ক, রেল, ডেটা/সাইবার)
    • রিস্ক-প্রেডিক্টিবিলিটি (নীতির ধারাবাহিকতা, চুক্তি মানা, প্রশাসনিক সক্ষমতা)

(খ) এই গ্লোবাল/রিজিয়নাল সেট-আপে “কে বেশি বাধ্য” (compliant) সেটা নয়; কার ডেলিভারী টেকসই এবং বেশী স্থিতিশীল সেটাই ব র্ত মান বিশ্বব্যবস্থায় প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এই আলোকে আলোচ্য গেমে মূল দুই চরিত্রের পার্থক্য কিভাবে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করে সেটি বোঝা দরকার।

    • ইউনুস: সুবিধাবাদী (opportunistic) ও আদর্শহীন (ideational void) এবং কর্মক্ষমহীন (capacity deficit) → করিডর/চুক্তি-রিস্ক বেড়ে যায়। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ইউনুস ইচ্ছেমত করিডোর এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা দিলেও এসব কর্মকান্ডে অদক্ষতা এবং আইনী বৈধতা নিয়ে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে  প্রশ্ন উঠেছে প্রচুর। কআজে
    • হাসিনা: তিনি প্রেডিক্টেবল এবং তাঁর ডেলিভারি ট্র্যাক-রেকর্ড টেকসই এবং আইনগত বৈধতা নিশ্চিতে অনেক বেশী কার্যক; তাঁর অধীনে চুক্তির সীমাবদ্ধতা থাকলেও বেশী টেকসই ও লেজিটিমেট বা বৈধ, এবং এর ফলে চুক্তির রিস্ক কম।

() প্রো-US নয়, প্রোস্ট্যাবিলিটি: হাসিনার গ্রহণযোগ্যতার কাঠামো

শেখ হাসিনা অতীতে বন্দর/দ্বীপ/করিডর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ‘না’ বলেছেন—এটি সত্য। তবু বিশ্বব্যবস্থা (World System) আজ ‘প্রো-US’ নয়, ‘প্রো-স্ট্যাবিলিটি’ সিগন্যালকে বেশি দামে কেনে। কারণ বড় শক্তিগুলোর লক্ষ্য সরাসরি অ্যাক্সেস নয়, বরং বহুপাক্ষিক বা India-mediated কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি, কম-ঝুঁকির করিডর চালু রাখা। এই ফরম্যাটে ঢাকা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মান-স্ট্যান্ডার্ড, কাস্টমস ও সাইবার ইন্টারঅপারেবিলিটি দিতে পারে—এটি হাসিনার প্রশাসনে বেশি প্রেডিক্টেবল।

ড. ইউনুস কাগজে-কলমে ‘অ্যাক্সেস’ দিতে পারেন, কিন্তু তাঁর সরকারের লেজিটিমেসি ও ধারাবাহিকতার ঘাটতি বিদেশি অংশীদারদের চোখে টেকসই নয়। আজ যে চুক্তি মিলল, কাল সেটি আদালত/রাজপথ/রাজনীতিতে আটকে যেতে পারে—এই উচ্চ-ঝুঁকির কারণে ‘হাই অ্যাক্সেস, লো ডিউরেবিলিটি’ প্রোফাইলটি গ্রহণযোগ্যতার তালিকায় নিচে নেমে যায়। অপরদিকে হাসিনা ‘মডারেট অ্যাক্সেস, হাই ডিউরেবিলিটি’—যেখানে সরাসরি মার্কিন উপস্থিতি না বাড়িয়েও India/Japan/ADB প্রভৃতি বহুপাক্ষিক ছাতার মাধ্যমে একই ফল পাওয়া যায়—কম বিতর্কে, বেশি স্থায়ীত্বে।

সুতরাং, গ্রহণযোগ্যতার মুদ্রা হলো অ্যাক্সেস নয়—ডিউরেবিলিটি। এই লজিকেই চার শক্তির কমন ডিভাইজর হিসেবে হাসিনা ‘স্টেবল হ্যান্ড’ এবং ইউনুস ‘ভোলাটাইল অ্যাসেট’। নীচের ম্যাট্রিক্সটি সেই বাস্তবতাই ইঙ্গিত করে।

Figure 4: Access–Durability Matrix (Bangladesh)

Access vs Durability Matrix — Bangladesh Scenarios. Source: Author’s analytical schema (illustrative).

২) গেম থিওরির ভাষায়: পে-অফ বদলে গেছে

ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থায় যে গেমটি বর্তমানে চলছে ভারতীয় উপমহাদেশ ও ওই অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করে, সেটিতে কেন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বড়-অ্যাক্টরদের (US, India, China, Russia) বিবেচনায় স্থানীয়/রিজিওনাল অ্যালায়েন্স-সমূহের (BNP/তারেক, NCP, জামায়াত, পাকিস্তানসহ জোট) তুলনায় এগিয়ে  পড়েন/গ্রহণযোগ্য হন সে বিষয়টি আমরা একটু বিশদে আলোচনা করবো।

  1. সহজ ভাষায় ব্যাখ্যাকেন বড় ছোট সবাই হাসিনাকে পছন্দ করবে (বা কম অপছন্দ করবে)

১। স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা

    • বড় শক্তিগুলো (US/India/China/Russia) চায়— বড়-প্রজেক্ট, করিডর, বিনিয়োগ আদায়, এবং নিরাপত্তা-সামঞ্জস্য দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকবে। হাসিনা প্রশাসনিকভাবে প্রেডিক্টেবল; তার নীতিগত ধারাবাহিকতা স্বীকৃত। ইউনুস-জোট (বিশেষত যেখানে বিএনপি/জামাত/পাকিস্তান-লিংক আছে) অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আইনগত চ্যালেঞ্জ বাড়াতে পারে — ফলে বড় শক্তির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২। লেজিটিমেসি ও জনসমর্থন

    • দেশীয় জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ইকুইলিব্রিয়াম বড় শক্তির নীতিনির্ধারকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যদি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষমতাধারীর গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকে, বিদেশি অংশীদার বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আত্মবিশ্বাস পায়। বর্তমান সার্ভে/সেন্টিমেন্ট-লাইন অনুযায়ী  আওয়ামী লীগ/হাসিনাএখনও সবচেয়ে শক্তিশালী—এই কারণে বড়রা হাসিনাকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করে। আমরা প্রবন্ধের শেষাংশে জনপ্রিয়তা বিষয়ে এক ধরনের শক্ত প্রামানিক তথ্য তুলে ধরবো।

৩। আঞ্চলিক ক্লিয়ারেন্স (Regional clearing)

    • ভারত-মুখী করিডর ও সাগর-নির্ভর নীতিতে দিল্লি চাওয়াই যে ঢাকা “অবাধ”ভাবে সহযোগিতা করবে কিন্তু “প্রেডিক্টেবল” ভাবে। হাসিনা দিল্লীর সাথে কার্যকর ইন্টারলক দিতে পারেন, মানে দিল্লীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের পারস্পরিক আস্থা ও সুবিধা টেকসই করে; হাসিনার বিপক্ষ এক্টররা বিশেষ করে ইউনুস ও বিশেষত  পাকিস্তান/জামাত ক্যাম্প এই ক্ষেত্রে  সম্ভাব্য কনফ্লিক্ট জেনারেট করে। সেই সাথে বিএনপিও আরেকটি কনফ্লিক্ট তৈরি করে এই গেমের নিয়ম অনুযায়ী, কিন্তু সব এক্টরদের মধ্যে হাসিনা/ আওয়ামী লীগের সাথে বড় একত্রদের ইন্টারলকিং সম্পর্ক এই গেমে অনেক বেশী অনুকুল অন্যদের চেয়ে।

৪। আইনি ও নিরাপত্তা কস্ট কমানো

    • জামায়াত/পাকিস্তান-লিংকযুক্ত জোটে সন্ত্রাস-অভিযোগ, আইনি অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক চাপ থাকতে পারে — যা বিদেশি অংশীদারদের ‘সহযোগিতা-কস্ট’ বাড়ায়। হাসিনা-শাসনে এই ধরনের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

৫। মাল্টিল্যাটারাল অপশন ও কভার

    • হাসিনা সরাসরি “প্রো-US” না-ও হতে পারেন; তবু তিনি India/Japan/ADB/JICA/IMF/World Bank ইত্যাদি বহু-পাক্ষিক কাঠামোতে কাজ করে মানুষকে রাজি করে দিতে পারেন — এটা বিদেশিদের কাছে সুবিধাজনক (sovereignty preserved, outcomes delivered)। ইউনুস-জোটে অনেক সময় একচেটিয়া অথবা বিতর্কিত কনসেশন অল্প সময়ে কেড়ে নেওয়া যায় — সেটি বড়দের অপছন্দ।
  1. গেম থিওরীঃ Payoff / Acceptance ম্যাট্রিক্স

টেবিল-শিরোনাম: কেন প্রতিটি অ্যাক্টর হাসিনা-কে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে (সংক্ষেপে)

Actor (অ্যাক্টর) হাসিনা কেন গ্রহণযোগ্য? (Why prefer Hasina) ইউনুস-মুখী জোট (BNP/তারা, জামায়াত, NCP, পাকিস্তান) কেন অযোগ্য?
United States স্থিতিশীল করিডর-নির্ভরতা, কাস্টমস/ডেটা/সাইবার স্ট্যান্ডার্ডে ধারাবাহিকতা; বহুপাক্ষিক ফ্রেমে কাজ সম্ভব আইনগত/রাজনৈতিক ঝুঁকি, অল্প সময়ে নীতিভঙ্গ; প্রেস-রিলেশনাল ঝামেলা
India সীমান্ত/নর্থ-ইস্ট করিডর নিরাপদ; অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা; ভারত-ঢাকা ইন্টারলক BNP-পার্টনারশিপ/পাকিস্তান-লিংক জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায়
China প্রকল্প-আর্টিকুলেশন ও কনট্র্যাক্ট এনফোর্সমেন্ট সহজ; বিনিয়োগ-টিকিয়ে রাখে রাজনৈতিক অস্থিরতায় চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে
Russia শক্তি/ডিফেন্স কনট্রাক্টে ধারাবাহিকতা; কৌশলগত পূর্বানুমানযোগ্যতা আন্তর্জাতিক চাপ/সাংগঠনিক অব্যবস্থা বাড়লে কার্যকর প্রয়োগ বাধাপ্রাপ্ত
Bangladesh (ডোমেস্টিক) সার্বভৌমত্ব রক্ষা + সামাজিক নিরাপত্তা; উন্নয়ন ধারাবাহিক স্বল্পমেয়াদি কনসেশন; দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও বিভাজন

 

মোদ্দা কথা হলো, হাসিনার অধীনে “সম্পদে, যেমন করিডোর, বন্দর, দ্বীপ ইত্যাদিতে কম প্রবেশাধিকার, কিন্তু ঝুঁকি কম, অথচ স্থায়িত্ব বেশী”—একে বিদেশি এক্টররা আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের দিক অনেক বেশী লাভজনক মনে করে। ইউনুস-কেন্দ্রিক জোটে কনসেশন বা ডিসকাউন্ট (সম্পদে প্রবেশাধিকার) বেশী থাকলেও ডিউরেবিলিটি ও লেজিটিমেসি-র সমস্যার কারণে বড় শক্তির পক্ষে সেটি গ্রহণযোগ্য না। এই বিষয়টি আমরা আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো পরে।

  1. উদাহরণ বা কেস স্টেটমেন্ট: আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো দেশগুলোকে প্রেমে পড়ে না—তারা ‘রিলায়েবল ডেলিভারি’-তে টাকা ও নিরাপত্তা বিনিয়োগ করে। হাসিনার প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এই ‘রিলায়েবিলিটি’ নিশ্চিত করে; তাই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—যদিও নানা কারণে আলাদা কৌশল নেবে—তবু স্বার্থগতভাবে হাসিনার স্ট্যাটাসকে গ্রহণ করে। বিপরীতে, ইউনুস-জোট যদি BNP/তারেক, NCP, জামায়াত ও পাকিস্তান-লিংক নিয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক ঝুঁকি ও আইনি অনিশ্চয়তা বাড়ে—ফলত বিদেশি অংশীদাররা সেই বিকল্পকে স্বল্প গ্রহণযোগ্য বলে দেখবে।

ধরি, খেলোয়াড় = {US, India, China, Russia, Bangladesh-Regime}।

  • পূর্বে “ইউনুস-কার্ড” কিছু প্লেয়ারের কাছে নরম চাপ/নৈতিক পোস্টারিং–এর সুবিধা দিত।
  • India–US pact + IPEF/করিডর-অগ্রাধিকার আসায় পে-অফ ম্যাট্রিক্স বদলে গেল:
    • US/India: “কম ঝুঁকি + দ্রুত বাস্তবায়ন” চাই → Hasina > Yunus
    • China/Russia (হেজিং): “প্রেডিক্টেবল পার্টনার” চাই → Hasina-র সাথে ডিল কস্ট কম

ফল: ইউনুস-কে রেখে তার থেকে “দাসত্ব” সেবা নিলেও সিস্টেমিক পে-অফ মেলে না; হাসিনা নিলে মোট পে-অফ বেশি।

৩) দাসত্ববনামবিশ্বাসযোগ্যতা’: কেন কেবল আনুগত্য মানেই গ্রহণযোগ্যতা নয়

  • ইউনুস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “compliant” — মানে সে মার্কিন নীতি মানতে আগ্রহী, করিডর-দ্বীপ-চুক্তি সব কিছু দিচ্ছে।
  • কিন্তু তিনি “গ্রহণযোগ্য” নন, কারণ:
    • তাঁর কোনো গণভিত্তি নেই
    • কর্মক্ষমতা দুর্বল
    • এবং অস্থির বা সুযোগসন্ধানী

অন্যদিকে,

  • হাসিনা সরকার হয়তো মার্কিন শর্তের সবকিছু মানেন না,
    কিন্তু তার institutional predictability, governance capacity, ও popular legitimacy আছে—
    তাই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে “acceptable”, এমনকি যদি “compliant” না-ও হন।

সংক্ষেপে

ধারণা মানে উদাহরণ
Compliant নির্দেশ মানে, কিন্তু নিজস্ব শক্তি নেই ইউনুস সরকার
Acceptable সব নির্দেশ মানেনা, কিন্তু বিশ্বব্যবস্থায় স্থিতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য পার্টনার শেখ হাসিনা

 

  • কমপ্লায়েন্স (কথায়/ইশারায় রাজি হওয়া) =/=> ক্রেডিবিলিটি (মাঠে কাজ করানো)।
  • বিদেশি শক্তি চায়: শেডিউল ঠিক রাখা, আইনি নিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা।
  • ইউনুস-রেজিমে তিন কারণে ক্রেডিবিলিটি গ্যাপ:

ক। লেজিটিমেসি দুর্বল → অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ/নীতি বদলের ঝুঁকি; জন সমর্থনের অভাব।

খ। ক্যাপাসিটি কম → বন্দর/ডেটা/কর-স্ট্যান্ডার্ডে বাস্তবায়ন ধীর।

গ। কন্টিনিউটি অনিশ্চিত → দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন/করিডর কস্টলি।

  • হাসিনার পূর্ব অভিজ্ঞতায় কনসিসটেন্সি এবং স্টেট ক্যাপাসিটি প্রমাণিত, এবং লেজিটিমেসি ও জন সমর্থন বেশী, আর এর ফলে বড় এক্টররা তাঁকে  “কম ট্রানজ্যাকশন-কস্ট” এর পার্টনার মনে করে।

৪) ভারতের ভেটোওয়েট + আমেরিকার রিস্কমিনিমাইজেশন

  • India–US স্ট্র্যাটেজিক এমব্রেস মানে: ভারতের পছন্দ এখন ওয়াশিংটন নর্ম সেট করে।
  • ভারতের করিডর-অগ্রাধিকার (BBIN, নর্থ-ইস্ট, সাগর-পোর্ট) চালাতে স্টেবল ঢাকা দরকার → Hasina স্বাভাবিক পছন্দ।
  • US দিক থেকেও রিস্ক-মিনিমাইজেশন: “ইন্টারিম-ভঙ্গুরতা”–র বদলে প্রেডিক্টেবল রেজিম।

৫) চীন-রাশিয়ার হেজ: ‘স্টেবল প্রতিপক্ষই ভালো’

  • চীন করিডর/ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক/পোর্ট-ডিল চায় কন্ট্রাক্ট এনফোর্সমেন্ট সহ;
  • রাশিয়া শক্তি/ডিফেন্স-ফাইন্যান্সিং-এ লং-হরাইজন খোঁজে।
  • উভয়েরই অ-আইডিওলজিক্যাল লজিক: “যার হাতে কাজ হয়, সে-ই পার্টনার”—এই টেস্টে Hasina > Yunus

) ন্যারেটিভ/লিজিটিমেসি মার্কেট: বাহিরের সিগন্যাল → ভিতরের দাম

  • আন্তর্জাতিক কভারেজ/কূটনৈতিক টোন বদলালে ডোমেস্টিক লিজিটিমেসির বাজারে দাম ওঠানামা করে।
  • Figure-3 (মিডিয়া ভিজিবিলিটি) ও যুক্তি অনুযায়ী: Yunus ↓, Hasina ↑ → বাহিরের সিগন্যাল ভিতরে ‘গ্রহণযোগ্যতা’ প্রাইস-আপ করে।

৭) ডেমোস্ট্রেটেড পপুলারিটি: “AL/Hasina এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়”

  • সিলেক্টোরেট থিওরি বলে: টেকসই রেজিম = বড় কোলিশন + পাবলিক-গুড ডেলিভারি।
  • পাবলিক-সেন্টিমেন্ট: Awami > BNP > Yunus-Regime (সামগ্রিক প্রবণতা) → বাহিরের প্লেয়ারদের চোখে রিস্ক কম।
  • জনপ্রিয়তা = পলিসি-ডিউরেবিলিটির প্রক্সি; তাই চার শক্তির কস্ট-বেনিফিট: Hasina সাইন-অফ করা সহজ।

এক লাইনর কার্যকারন শৃংখল সম্পর্ক

World-System (US–India tilt + CN/RU hedge)Corridor/Standard PriorityCompliance নয়, Credibility দরকারYunus = capacity/continuity risk; Hasina = predictable deliveryExternal signal shifts legitimacyHasina acceptable; Yunus refused.

কোণা (Four-Corner)অ্যাক্টরশিফট

শক্তি প্রাইমারি স্বার্থ ঢাকাপছন্দ (কারণ)
US রিস্ক কমানো, IPEF নর্ম Hasina (প্রেডিক্টেবল ডেলিভারি)
India করিডর/নর্থ-ইস্ট সিকিউরিটি Hasina (ইন্টারলক রেকর্ড)
China চুক্তি/ইনফ্রা ধারাবাহিকতা Hasina (কনট্র্যাক্ট এনফোর্স)
Russia লং-টার্ম ফাইন্যান্স/ডিফেন্স Hasina (নীতি-স্থিতি)

 

রাজনৈতিক ইমপ্লিকেশন

  • ইউনুস “দাসত্ব” দেখালেও ওয়ার্ল্ড-সিস্টেম আজ ডেলিভারি-প্রাধান্য দেয়;
  • গেম-থিওরি-সমীকরণে পেও-অফ বদলে Hasina-কে ‘least-risk, most-delivery’ অপশন বানিয়েছে;
  • এর সাথে দেশীয় জনপ্রিয়তা যোগ হয়ে বাহিরের প্লেয়ারদের রাজনৈতিক কস্ট আরও কমিয়ে দিয়েছে।
    তাই চার বড় খেলোয়াড়ের ‘কমন ডিভাইসর’—Hasina; আর Yunus—‘হাই ভোলাটিলিটি অ্যাসেট’।

) সোশ্যালপাওয়ার/ন্যারেটিভ মার্কেট: এজেন্ডা সেটিং লিজিটিমেসি মার্কেট

আন্তর্জাতিক মিডিয়া এজেন্ডা সেটার। যখন ওয়াশিংটনের কৌশল দিল্লিমুখী হয়, তখন কভারেজও স্ট্যাবিলিটি-সেন্ট্রিক হয়।

  • চার্ট–৩ দেখায়: ইউনুস–ভিজিবিলিটি ক্মছে, কিন্তু হাসিনা–ভিজিবিলিটি বাড়ছে।
  • সম্পর্ক টি এমনঃ  মিডিয়া ন্যারেটিভ → ডিপ্লোম্যাটিক টোন → ইনভেস্টর সেনটিমেন্ট → ডমেস্টিক লিজিটিমেসি—এ একটাই পাইপলাইন।

ফলে, হাসিনা “রেসপন্সিবল অপশন” হিসেবে বাজারে পুনরায় প্রাইসড; ইউনুস “হাই-ভোলাটিলিটি অ্যাসেট”।

ওপরের আলোচনাটি যা দেখাচ্ছে সেটি হলো, দক্ষিন এশিয়ায় ক্ষমতা ও স্বার্থের রঙ্গমঞ্চে এক ধরনের এলাইনমেন্টের জন্ম হয়েছে ক্ষমতার বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে যে গেমটি ক্রিয়াশীল সেটির।  এই পুরো ব্যপারটিকে আমরা নীচের Figure 5 এ দেখানো গেলো।

শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পুনরাবির্ভাব

দীর্ঘ নীরবতার পর শেখ হাসিনা এক সপ্তাহে তিনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (Reuters, The Independent, DW) সাক্ষাৎকার দিয়েছেন—যা স্পষ্টত একটি “diplomatic re-entry”

  • তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়।”
  • বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অবৈধতা’ নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
  • DW-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ; বিদেশি চাপে নয়।”

এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা নয়, বরং একটি নীতিগত বার্তা—ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমীকরণে শেখ হাসিনা এখনও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রাজনৈতিকভাবে পরিণত নেতা।

বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে

. ইউনুসরেজিমের জন্য কেন এটি খারাপ খব

  • আন্তর্জাতিক আস্থাহীনতা: যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এখন বুঝছেন, Yunus-led transition “cannot deliver stability.”
  • পাকিস্তানের কার্ড ব্যর্থ: ইউনুস দীর্ঘদিন পাকিস্তানের সহানুভূতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সহমর্মিতা অর্জনের চেষ্টা করেছেন; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানকেও ভারত-কেন্দ্রিক অঞ্চলে রাখছে।
  • নব্য উদারতাবাদের যুক্তি: যুক্তরাষ্ট্র কখনও ব্যক্তিকে নয়, স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। India-led South Asia যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে ও কৌশলগতভাবে বেশি লাভজনক।
  • লেজিটিমেসির সংকট: সামাজিক মাধ্যমে (Facebook Sentiment Dataset, Das 2025) দেখা যাচ্ছে যে ২০২৫-এর জুলাই–অক্টোবর সময়ে ইউনুস সরকারের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ৭০%-এর বেশি, অথচ শেখ হাসিনার প্রতি ইতিবাচকতা অনেক বেশী ৭০–৯৮%।

এখানে আমরা ফেসবুকে তিনটি খবরের ওপর সংক্ষেপে জনমত বিশ্লেষন করবো। এগুলো সবই শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার সম্পর্কিতঃ

(১) “প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রেস সচিবের বক্তব্য” (প্রথম আলো); এখানে পাই-চার্টে (Figure ৬) তুলে ধরা ১৪৩৬টি মতামতের (১৪৩৬ জন মানুষ) মধ্যে নীল অংশটি (৯৯% মতামত) দেখাচ্ছে প্রেস সচিবের মন্তব্য এবং মতামতকে সামাজিক মাধ্যমের মানুষেরা মোটামুটি পুরোটাই প্রত্যাখ্যান করেছে; আমরা কিছু নির্বাচিত মন্তব্য এখানে পাঠকদের জন্য দিয়েছি।

(২) “হাসিনার মুখে নির্বাচনের কথা মানায়না, বলছেন রাজনীতিকরা” (বিবিসি): এখানে পাই-চার্টে (Figure ৭) তুলে ধরা ১৬০৯টি মতামতের (১৬০৯ জন মানুষ) মধ্যে নীল অংশটি (৮৮% মতামত) দেখাচ্ছে, খবরটিকে সামাজিক মাধ্যমের মানুষেরা মোটামুটি প্রত্যাখ্যান করেছে; আমরা কিছু নির্বাচিত মন্তব্য এখানে পাঠকদের জন্য দিয়েছি।

(৩) “নানান গুঞ্জনের মধ্যে হাসিনার বক্তব্য” (বিবিসি): মোট ৫১৭৬ জন মানুষের মতামতের মধ্যে ৭৩% মতামত সরাসরি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন (দেখুন Figure ৮ )।

 

অতপরঃ আমাদের তাত্ত্বিক উপসংহার

(a) গেম থিওরি – Strategic Triangle

Player Strategy Payoff (Short-term) Payoff (Long-term)
USA Strengthen India; hedge Pakistan and Bangladesh Stability in Indo-Pacific Containment of China
India Deepen US alignment; marginalize unstable neighbors Trade + Security gains Regional leadership
Bangladesh (Yunus) Depend on US sympathy Temporary recognition Isolation
Bangladesh (Hasina) Reassert legitimacy via an India-friendly equilibrium Political resurgence Strategic acceptance

 

ওপরের আলোচনাটি গেম থিওরীর একটি মৌলিক কম্পোনেন্ট ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম তত্ত্ব যেটি ইউনুসের জায়গায় হাসিনার প্রাধান্যকে ইঙ্গিত করে সেটির সাথে অনেকটাই মিলে যায়। বিভিন্ন সংস্থার (যেমন বিশ্বব্যাঙ্ক, V-Dem, ACLED, Reuters, ইত্যাদি) সুত্র থেকে আহরিত কো-অর্ডিনেটের ভিত্তিতে সম্পদের দখল বনাম টেকসইপ্রবণতা হিসেব করে হাসিনা ও ইউনুসের গ্রহণযোগ্যতা নীচে দেয়া হলো। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, অন্যসব প্রতিযোগীদের তুলনায় হাসিনা বিদেশী শক্তিগুলোর সম্পদে দখল (Accessibility) দিতে কম রাজী থাকলেও (হাসিনা .৪০ যেখানে ইউনুস .৭০) তাঁর দক্ষতা এবং কর্মকুশলতা বড় এক্টরদের যেটুকু দেয়া হয়েছে সেটুকুর টেকসই স্থায়িত্ত্ব নিশ্চিতে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে (হাসিনা .৮৫ যেখানে ইউনুস .৪০)। এ দুইয়ের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, হাসিনার গ্রহন যোগ্যতা অনেক ওপরে (দেখুন * বনাম X)

(b) Cultural Inertia & Popular Legitimacy

  • বাংলাদেশের জনমত এখনও ১৯৭১-এর স্বাধীনতা-কেন্দ্রিক ন্যারেটিভে প্রোথিত; সেই সাংস্কৃতিক ধীরগতি Hasina-কে রাজনৈতিক বৈধতা দেয়, কিন্তু Yunus-কে দেয় না।
  • যখন বিদেশি শক্তি জনগণ-সমর্থনহীন এক রেজিমে বিনিয়োগ করে, তখন legitimacy gap তৈরি হয় — যা শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয় (Scott, 1990; Keane, 2018)।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার “power geometry” বদলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝেছে যে Yunus regime neither enjoys legitimacy nor ensures stability; অন্যদিকে Sheikh Hasina-র নেতৃত্ব, ভারত-বান্ধব অবস্থান, এবং জনসমর্থন দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

উপসংহার

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কৌশলগত আলিঙ্গন দক্ষিণ এশিয়ার “পাওয়ার জিওমেট্রি”কে এমনভাবে রিসেট করেছে, যেখানে অ্যাক্সেসের চেয়ে ডিউরেবিলিটি—অর্থাৎ নীতি-ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা—বড় মুদ্রা হয়ে উঠেছে। এই নতুন ব্যালান্সে ড. ইউনুসের “হাই-অ্যাক্সেস-লো-ডিউরেবিলিটি” প্রোফাইলটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে ঝুঁকির সমার্থক, আর শেখ হাসিনার “মডারেট-অ্যাক্সেস-হাই-ডিউরেবিলিটি” প্রোফাইলটি গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডে এগিয়ে। Figure 5–9-এর ট্রেড/এনগেজমেন্ট, মিডিয়া-সিগন্যাল ও অ্যাক্সেস–ডিউরেবিলিটি ম্যাট্রিক্স—সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তটাই ধারাবাহিকভাবে সূচিত হয়: Washington–Delhi tilt ≠ Dhaka-agnostic; বরং Delhi-anchored stability-র জন্য predictable Dhaka প্রয়োজন—যেখানে হাসিনা “স্টেবল হ্যান্ড”, ইউনুস “ভোলাটাইল অ্যাসেট”।

গেম-থিওরির ভাষায়, পে-অফ ম্যাট্রিক্স বদলেছে। বড় চার শক্তির সম্মিলিত লক্ষ্য—করিডর সিকিউরিটি, সাপ্লাই-চেইন রুলস, কনট্র্যাক্ট এনফোর্সমেন্ট—এসব অর্জনে সবচেয়ে কম লেনদেন-ব্যয় যার, সেই পার্টনারের প্রতি ঝোঁক অবধারিত। ন্যায়বিচার-বিতর্ক বা নৈতিক পোস্টারিং রাজনৈতিক বায়ুমণ্ডল বানালেও, বাস্তব গেমে কমপ্লায়েন্স ≠ ক্রেডিবিলিটি। ইউনুস শিবির কাগজে-কলমে “অ্যাক্সেস” দেখালেও লেজিটিমেসি ও কন্টিনিউটির ঘাটতি সেই অ্যাক্সেসকে কস্টলি করে তোলে; বিপরীতে হাসিনার রেকর্ড ডেলিভারেবল-প্রেডিক্টিবিলিটিকে ডিসকাউন্ট দেয়—ফলে ন্যাশ-সদৃশ ভারসাম্যে হাসিনা-পছন্দই লিস্ট-রিস্ক/মোস্ট-ডেলিভারি অপশন হিসেবে উঠে আসে।

এই কাঠামোগত বদলকে ত্বরান্বিত করেছে ন্যারেটিভ-মার্কেটের সিগন্যালও। আন্তর্জাতিক কভারেজ ও কূটনৈতিক টোন-শিফট (Figure 3) ভেতরের লিজিটিমেসি মার্কেট-এ দাম বদলায়—হাসিনাকে “প্রাইস-আপ”, ইউনুসকে “ডিসকাউন্ট” করে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জড়তা (cultural inertia)—১৯৭১-কেন্দ্রিক জাতীয় ন্যারেটিভ—জনসমর্থনের ভিত্তিকে এমনিতেই একদিকে ঠেলে দেয়; সেই পপুলার-লিগিটিমেসি = পলিসি-ডিউরেবিলিটির প্রক্সি, যা বিদেশি স্টেকহোল্ডারদের ঝুঁকি-হিসাবকে আরও সরল করে।

সুতরাং, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তববাদী পাঠ তিনটি—

  1. স্ট্যাবিলিটি ইজ কারেন্সি: আন্তর্জাতিক অংশীদাররা “অ্যাক্সেস-অ্যাট-এনি-কস্ট” নয়, প্রেডিক্টেবল ডেলিভারি কিনে।
  2. ইন্ডিয়া-অ্যাঙ্করড আর্কিটেকচার: BBIN/IPEF/লজিস্টিক-স্ট্যান্ডার্ডে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে, India-mediated প্ল্যাটফর্মেই কস্ট কম, গ্রহনযোগ্যতা বেশি।
  3. ইনস্টিটিউশনাল কন্টিনিউটি: আদালত-চুক্তি-কাস্টমস/ডেটা স্ট্যান্ডার্ডে ধারাবাহিকতা—এটাই ঝুঁকির প্রাইস নামায়, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা-সহযোগিতাকে টেকসই করে।

শেষ কথা—দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন গেমে ভদ্রতা নয়, ভরসা জেতে; আনুগত্য নয়, আউটকাম জেতে। দিল্লি-মুখী ওয়াশিংটনের এই পর্বে, বাংলাদেশের জন্য সেই আউটকাম-কেন্দ্রিক, কম-ঘর্ষণ, উচ্চ-ডিউরেবিলিটি পথের স্বাভাবিক বাহক শেখ হাসিনা—এবং তাই, ইউনুস-শাসনের উপর ঠান্ডা ছায়া নামানো এবং হাসিনার সামনে সবুজ আলোর জ্বলে ওঠা—দুটোই এই World System of Power-এর যুক্তিযুক্ত পরিণতি।

References (APA 7th edition)

ACLED. (2024). Armed Conflict Location & Event Data Project (Bangladesh dataset, 2023–2024). Retrieved from https://acleddata.com

Basel Institute on Governance. (2024). Anti–Money Laundering Index 2024. Basel, Switzerland.

CNA. (2024). U.S.–India foundational defense agreements: Operational implications of LEMOA, COMCASA, and BECA. Arlington, VA: CNA Analysis & Solutions.

Das, S. (2025). Facebook Sentiment Dataset: July–October 2025. Virginia Commonwealth University.

Deutsche Welle (DW). (2025, August). Interview with Sheikh Hasina: “I am accountable to my people, not to foreign pressure.” DW.com.

Keane, J. (2018). The new despotism. Cambridge, MA: Harvard University Press.

Paxton, R. O. (2004). The anatomy of fascism. New York, NY: Vintage.

Putnam, R. D. (1988). Diplomacy and domestic politics: The logic of two-level games. International Organization, 42(3), 427–460.

Reuters. (2025, August). Exclusive interview with Sheikh Hasina on Bangladesh’s political transition. Reuters World News.

Scott, J. C. (1990). Domination and the arts of resistance: Hidden transcripts. New Haven, CT: Yale University Press.

State Department, U.S. (2024). Indo-Pacific Strategy of the United States. Washington, DC: U.S. Department of State.

The Independent. (2025, August). Hasina speaks out against the interim government’s legitimacy claims. The Independent (UK).

Transparency International. (2023). Corruption Perceptions Index 2023. Berlin, Germany.

United States Census Bureau. (2024). Monthly U.S. international trade in goods and services: India. Washington, DC: U.S. Department of Commerce.

United States Trade Representative (USTR). (2024). 2024 National Trade Estimate Report on Foreign Trade Barriers: India and Bangladesh sections. Washington, DC: Executive Office of the President.

V-Dem Institute. (2024). Democracy Report 2024: Autocratization turns viral again. University of Gothenburg.

White House. (2024). U.S.–India initiative on Critical and Emerging Technology (iCET): Joint Statement, January 2024. Washington, DC: The White House.

World Bank. (2024). World Development Indicators: Governance and trade datasets. Washington, DC: World Bank Group.

World Justice Project. (2024). Rule of Law Index 2024. Washington, DC: World Justice Project.

লেখকঃ ড. শ্যামল দাস– অধ্যাপক, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও সমাজবিজ্ঞান, এলিজাবেথ সিটি স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র

এই শাখার আরও খবর

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের নতুন দফায় ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে নতুন দফা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী…

প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, হামলা স্থগিতের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au