৬৩ বছর বয়সী ক্রেইগ ফ্রিম্যান বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন। তাকে তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রিম্যানের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- তিন দশকেরও বেশি আগে নিজের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মেলবোর্নের এক ব্যক্তি প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হয়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী ক্রেইগ ফ্রিম্যান বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন। তাকে তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রিম্যানের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মেলিন্ডা ফ্রিম্যান ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর, মেলবোর্নের উত্তরের শহরতলি হুইটলসিয়া এলাকায় নিজ বাসায় ২৬ বছর বয়সে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান।
সংক্ষিপ্ত এই শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ ক্রেইগ ফ্রিম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। আদালতে তিনি শুধু নিশ্চিত করেন যে তিনি পুলিশের হেফাজত কক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের কথা শুনতে পাচ্ছেন।
তার আইনজীবী পল গ্যালব্যালি আদালতকে জানান, তার মক্কেল এই প্রথমবারের মতো হেফাজতে আছেন এবং আগের স্ট্রোকজনিত অসুস্থতার কারণে তাকে নার্সের কাছে দেখাতে হবে।
ফ্রিম্যান জামিনের আবেদন করেননি। তাকে আগামী মার্চ মাসের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, মেলিন্ডা ফ্রিম্যানকে হত্যার দিন তিনি ও তার স্বামী পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তারা এক আত্মীয়ের বিদেশ থেকে ফেরা উপলক্ষে পারিবারিক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।
সেখান থেকে বিকেল ৪টার দিকে তারা ইয়া রোডের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ফ্রিম্যান বাড়ি থেকে বেরিয়ে নয় মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে একটি তাসের আসরে যান, যাতে তার স্ত্রী সৌন্দর্যবিষয়ক কোর্সের পড়াশোনার জন্য সময় পান।
রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তারা ফিরে এসে দেখতে পান, ঘর এলোমেলো এবং বাড়ির সামনের দরজা খোলা।
ফ্রিম্যান দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীর দেহ বাড়ির উপরের তলার সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখেন।
২০১৮ সালে পুলিশ এ ঘটনায় একটি গোপন সূত্র থেকে তথ্য পায়।
এরপর ২০২২ সালে পুলিশ এক মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে, মেলিন্ডা ফ্রিম্যান হত্যার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দণ্ডপ্রাপ্তির তথ্য দিতে পারলে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ