লিড নিউজ

সুদানে গণহত্যা: পালানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে আরএসএফ, মৃতদেহ পোড়ানোর প্রমাণ মিলেছে

  • 3:48 am - November 08, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৯৯ বার
শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- সুদানের উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশারে ভয়াবহ গণহত্যা চালানোর পর শহরটি থেকে পালানোর প্রধান পথ বন্ধ করে দিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব (ইয়েল এইচআরএল)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে সহিংসভাবে শহরটি দখলের পর আরএসএফ শহরের চারপাশে নির্মিত একটি অস্থায়ী মাটির প্রাচীর তৈরি করে, যার মধ্যে পালানোর একটি সংকীর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাচীরের আশপাশে বেসামরিক লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মৃতদেহ পোড়ানোর প্রমাণ
ইয়েল এইচআরএল জানায়, দুটি স্থানে এমন বস্তু পোড়ানো হয়েছে যা মৃতদেহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। ৬ নভেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে আল-ফাশার হাসপাতালের কাছে কালো ধোঁয়া ও পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, মৃতদেহ পোড়ানো ইসলামী দাফন প্রথার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা ইঙ্গিত করে এটি ছিল প্রমাণ গোপন করার চেষ্টা।

আরএসএফ দখলের পর শহরের প্রতিরোধ কমিটি জানায়, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া আহতদের ‘ভয়াবহভাবে হত্যা’ করা হয়েছে। ইয়েল এইচআরএল আরও বলেছে, হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় এবং শহরের ‘মেলিট গেট’ নামের জায়গায় মৃতদেহ পোড়ানোর কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল ও গণকবরের সন্ধান
প্রতিবেদন অনুসারে, আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত শিশু হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের মতো বস্তু সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আল-ফাশার ও গার্নির মধ্যবর্তী রাস্তায় মৃতদেহ ফেলার আশঙ্কা দেখা গেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, হাসপাতালটি ‘সম্ভাব্য গণহত্যার স্থান’ এবং এর বাইরে একটি ‘গণকবর’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরএসএফ আল-ফাশার দখলের সময় শহরে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করছিল। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর দারফুরের সাধারণ মানুষের জন্য এটি ছিল শেষ আশ্রয়স্থল। যদিও কিছু মানুষ পাশের তাওয়িলা ও গার্নি শহরে পালাতে পেরেছে, তবুও অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।

ইয়েল এইচআরএল-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মানুষের বড় আকারের স্থানান্তর হয়নি। এটি ইঙ্গিত করে যে অনেক বেসামরিক নাগরিক হয়তো নিহত হয়েছেন, বন্দী হয়েছেন, অথবা আত্মগোপনে আছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আরএসএফকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে আল-ফাশারের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আরএসএফ এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ৯ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে…

মন্দিরে নেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  ভারতের কর্নাটকের দেবনাহাল্লিতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর জোরপূর্বক মদ খাইয়ে এক নির্মাণাধীন ভবনে সারা রাত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা…

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মেলবোর্ন, ২২জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au