অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ঘৃণামূলক বিক্ষোভ ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ঘৃণামূলক বিক্ষোভ ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন ও প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স জানিয়েছেন, তারা জানতেনই না যে ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ল্যানিয়ন জানান, পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ত্রুটির কারণে তিনি বিষয়টি জানতে পারেননি। “আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। এ কারণে পুলিশমন্ত্রী বা সরকারকেও অবহিত করতে পারিনি,” বলেন তিনি।
প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নতুন আইন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “এটা লজ্জাজনক যে কিছু মানুষ সিডনির রাস্তায় ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর অধিকার নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।”
পুলিশমন্ত্রী ইয়াসমিন ক্যাটলি জানিয়েছেন, এমন ধরনের বিক্ষোভ প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন নাগরিক অধিকার কর্মীরা।
নিউ সাউথ ওয়েলস কাউন্সিল ফর সিভিল লিবার্টিজের প্রতিনিধি টিমোথি রবার্টস বলেন, “সমাজে ঐক্য আনতে গ্রেপ্তার বা কঠোর আইন নয়, দরকার সহনশীলতা। নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে ফ্যাসিবাদ রোধ করা সম্ভব নয়।”
তিনি পুলিশের সিদ্ধান্তকে ভণ্ডামিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে বলেন, “পুলিশ জলবায়ু আন্দোলনকারী বা ফিলিস্তিন সমর্থকদের ক্ষেত্রে কঠোর হয়, কিন্তু এই ঘটনায় সহজেই অনুমতি দিয়েছে।”
ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড ঘটনাটিকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই বিক্ষোভ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, ঘৃণা এখনো প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যারা বিদেশের ঘৃণা এই দেশে আমদানি করতে চায়, তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া উচিত নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে, এতে ঘৃণাসূচক বক্তব্য বা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না তা যাচাই করার জন্য।
সুত্রঃ নাইন নিউজ