মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- যুক্তরাজ্যের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিবিসির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, বিবিসি তার ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেওয়া এক ভাষণকে বিকৃতভাবে প্রচার করেছে এবং এজন্য তিনি সম্প্রচার মাধ্যমটির বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মঙ্গলবার এ বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডির। একদিকে বিবিসির সমালোচকরা প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে সমর্থকরা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে ব্রিটেনের এই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি, যিনি এই বিতর্কের দায় স্বীকার করে রোববার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, বলেছেন, “আমাদের সাংবাদিকতাকে রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে।” তিনি স্বীকার করেছেন, “আমরা কিছু ভুল করেছি যার কারণে ক্ষতি হয়েছে,” তবে একই সঙ্গে বলেছেন তিনি বিবিসির ওপর “গভীর গর্ব” অনুভব করেন।
ট্রাম্পের আইনি হুমকি
ট্রাম্পের এক আইনজীবী বিবিসির কাছে একটি ডকুমেন্টারি সিরিজে প্রচারিত দৃশ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। গত বছর প্রচারিত Trump: A Second Chance? নামের ওই ডকুমেন্টারিতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি দেওয়া ট্রাম্পের একটি ভাষণ বিকৃতভাবে সম্পাদনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ডকুমেন্টারিটি নভেম্বর ২০২4 সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে সম্প্রচারিত হয়। এতে ট্রাম্পের বক্তব্যের দুটি আলাদা অংশ থেকে তিনটি উদ্ধৃতি একত্র করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তিনি সরাসরি সমর্থকদের “আমার সঙ্গে মার্চ করো এবং মরিয়া হয়ে লড়াই করো” বলে সহিংসতার আহ্বান জানাচ্ছেন। অথচ মূল বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেছিলেন, সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চান।
বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ স্বীকার করেছেন, “সম্পাদনার ধরণটি এমন একটি ধারণা দিয়েছে যেন ট্রাম্প সরাসরি সহিংস কর্মে উৎসাহিত করেছিলেন।”
এই ঘটনায় বিবিসির সংবাদ বিভাগের প্রধান ডেবোরা টার্নেসও পদত্যাগ করেছেন। বিবিসি একে “গুরুতর ভুল বিচারের” ফল হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ট্রাম্পের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তবে ফ্লোরিডাভিত্তিক ট্রাম্পের আইনজীবী আলেহান্দ্রো ব্রিতো বিবিসিকে শুক্রবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে “ভুল ও মানহানিকর তথ্য” প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন, নতুবা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন।
বিবিসি সংকটে, আস্থার সঙ্কটেও ব্রিটেন
প্রায় এক শতাব্দী পুরনো রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিবিসি বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও পরিবর্তিত গণমাধ্যমের যুগে কঠিন সময় পার করছে। প্রতি বছর টেলিভিশন দর্শকদের কাছ থেকে ১৭৪.৫০ পাউন্ড লাইসেন্স ফি পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বিবিসিকে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে সমালোচিত হতে হচ্ছে। রক্ষণশীলদের মতে, বিবিসির সংবাদ পরিবেশনা বামঘেঁষা, আর অনেক উদারপন্থী একে ডানপন্থী প্রভাবিত মনে করেন। অতীতেও ক্ষমতাসীন দল যেই হোক, সরকারের সঙ্গে বিবিসির সম্পর্ক প্রায়ই টানাপোড়েনপূর্ণ থেকেছে।
বিবিসির পরিচালনা বোর্ডে সংস্থার মনোনীত সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের মনোনীত সদস্যও থাকেন, যা প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
লন্ডনে বিবিসির সদর দপ্তরের আশপাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি ডেভিড আব্রাহাম বলেন, “তাদের সংগঠনটিকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আমরা আবার বিবিসির ওপর আস্থা রাখতে পারি।”
আরেকজন, সেমি-রিটায়ার্ড আইনজীবী আমান্ডা কেরি বলেন, “ট্রাম্পের বক্তব্যের এই ধরনের সম্পাদনা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিগুলোর পর বিবিসির প্রতি জনগণের আস্থা অনেকটাই কমেছে, অনেকেই এখন লাইসেন্স ফি না দেওয়ার কথা ভাবছেন।”
সরকারের অবস্থান
ব্রিটেনের মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির সরকার এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সমালোচনা করেনি, তবে বিবিসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত নিজেদের ভুল সংশোধন করতে হবে যাতে জনআস্থা অটুট থাকে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অ্যালিসন ম্যাকগোভার্ন বলেন, “মানুষের বিবিসির প্রতি আস্থা এখনও অসাধারণভাবে বেশি। যদি কোনো সম্পাদকীয় ভুল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।”
এই বিতর্ক কেবল ট্রাম্প-বিবিসি নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সংবাদ স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, শতবর্ষী বিবিসি এখন এমন এক সঙ্কটে পড়েছে, যা তার ভবিষ্যতের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নির্ধারণ করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au