মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফের হেফাজতে থাকা মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামুন পুনরায় অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। হত্যায় ফারুক ও রবিন অংশ নেন, যারা অপরাধী রনির নির্দেশে এবং দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।
শফিকুল ইসলাম জানান, মামুন হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শুটাররা হলেন ফারুক ও রবিন। বাকি তিনজন হলেন শামীম, রুবেল ও ইউসুফ। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, অব্যবহৃত গুলি এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই টাকা রনি ফারুক ও রবিনকে পারিশ্রমিক হিসেবে প্রদান করেছিলেন।
ডিবি প্রধান আরও জানান, গতকাল রাতে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার পর তারা ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। তবে সীমান্ত পার হতে না পেরে তারা সাতক্ষীরা হয়ে সীমান্ত পার করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সিলেট থেকে নরসিংদীতে তাদের গ্রেপ্তার করে।
হত্যার পর ফারুক ও রবিন তাঁদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও অব্যবহৃত গুলি রনির নির্দেশে রুবেলের হেফাজতে রাখেন। রুবেল গাড়ি ভাড়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরে রুবেল অস্ত্র ও গুলি ইউসুফের হেফাজতে দেন। রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ রাজধানীর রায়ারবাজারে অভিযান চালিয়ে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। ইউসুফ একজন দরজি। তাঁর বাড়ির মেঝে থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
ডিবির প্রধান আরও জানান, একসময়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত জুটি ইমন-মামুনের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। কিছুদিন ধরে রনি একাধিকবার মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফারুকের সহযোগিতায় পূর্বের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, রনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজামুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ। শেষবারের মতো মামুনকে হত্যা করার জন্য ৯ নভেম্বরের দিনটি বেছে নেওয়া হয়।
হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে রনি তাঁর বাসে রবিনকে ডেকে নেন। রনি জানান, ফারুক, সুমন, কামালসহ আরও কয়েকজন মামুনকে হত্যা করবে এবং রবিনকে সেখানে থাকতে বলেন। রনি হত্যার জন্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। রবিন রাজি হন। ঘটনার দিন সকালে রনি ফোন করে সবাইকে আদালত এলাকায় যেতে বলেন। রবিন ও শামীম মোটরসাইকেলে আদালত এলাকায় পৌঁছে হত্যায় অংশ নেন। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমন ও ফারুক গুলি করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ফারুক ও রবিন গুলি করেন।
হত্যার পর মামুনের গতিবিধি অনুসরণ করে ফারুক ও রবিনকে কামাল খবর দেন। সংকেত পেয়ে তারা গুলি ছুড়ে মামুনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর তারা রায়ারবাজারে যায় এবং রনির নির্দেশে অস্ত্র ও গুলি ইউসুফের কাছে রাখা হয়। পরে রনির নির্দেশে ফারুক ও সুমন দুই লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেন, এক লাখ করে করে।
এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে এবং অপরাধী রনিসহ সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খোঁজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au