অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরির তিন বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরির তিন বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আট মাসের তদন্তের পর অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এদের একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে।
শুক্রবার ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ডারউইনের বিভিন্ন বাসা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় এএফপি। অভিযোগ অনুযায়ী, কমনওয়েলথ ডিফেন্স বিভাগের ৪৮ বছর বয়সী এক কর্মী, তার ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী এবং স্থানীয় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ৪১ বছর বয়সী পরিচালক মিলে প্রতিরক্ষা বিভাগের ভবন নির্মাণের চুক্তি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার জন্য যোগসাজশ করেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযানে ৩০ হাজার ডলার নগদ অর্থ, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, গয়না এবং অল্প পরিমাণে কোকেন সন্দেহভাজন মাদক উদ্ধার করা হয়। এএফপি জানায়, তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থ আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ আরও রয়েছে যে ওই ডিফেন্স কর্মী তার পদ ব্যবহার করে চুক্তি বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন।
ডিফেন্স বিভাগের গভর্নেন্সের ডেপুটি সেক্রেটারি জন রিড বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি বরাদ্দ নিয়ে নিজস্ব অনুসন্ধানে অনিয়ম ধরা পড়ার পর গত আট মাস ধরে এএফপি ও ন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন কমিশনের সঙ্গে তারা কাজ করছে।
এএফপি জানিয়েছে, তিনজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তারা সোমবার ডারউইন লোকাল কোর্টে হাজির হবেন। মামলাটি নিয়ে এএফপি এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ কঠোর অবস্থান জানিয়েছে।
এএফপি সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেগ ডেভিস বলেন, সরকারি অবস্থানের অপব্যবহার শুধু অপরাধ নয়, এটি জনবিশ্বাসেরও বড় লঙ্ঘন। কমনওয়েলথের অর্থ জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করলে তা জনগণের জন্য বরাদ্দ তহবিলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ডেপুটি সেক্রেটারি জন রিড বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের সততার ওপর জনগণের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা কর্মী ও শিল্পখাতের সহযোগীদের সর্বোচ্চ সততার মানদণ্ডে রাখা হবে বলে তিনি জানান।
ন্যাক্কের এক মুখপাত্র বলেন, দুর্নীতি শনাক্ত করা জটিল হলেও এটি তাদের অগ্রাধিকার। কমনওয়েলথ পাবলিক সেক্টর প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে, আর এসব ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হলে বড় ধরনের ক্ষতি ও অপচয় হতে পারে।
তিনজনের বিরুদ্ধেই কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অসাধু উপায়ে সুবিধা লাভের অভিযোগে একটি করে মামলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ডিফেন্স বিভাগের কর্মীর বিরুদ্ধে সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার আরও একটি মামলা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর কারাদণ্ড।
এএফপি বলছে, তদন্ত এখনও চলমান।