শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর…
মেলবোর্ন, ১৬ নভেম্বর- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের বিতর্কিত ক্ষমতাচ্যুতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে নির্বাসন থেকে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফার্স্টপোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাকে কোনো সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নয় বরং অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, চরমপন্থীরা আন্দোলন দখল করে নিয়েছিল এবং তার জীবনের ওপর সরাসরি হুমকি তৈরি হওয়ায় তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে অস্থিরতার মধ্যে তার সরকার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘায়িত নির্বাচনী শূন্যতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নোবেলজয়ী মোহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক সময়সীমা অতিক্রম করেছে, আর নতুন নির্বাচন সম্ভবত আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই দীর্ঘ সংকটের কেন্দ্রে রয়েছেন চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি এখনও দাবি করছেন তার পদত্যাগের প্রচলিত গল্পটি ভুল এবং রাজনৈতিকভাবে সাজানো।
হাসিনা বলেন, তিনি কোনো পদত্যাগপত্র লেখেননি বা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেননি। তার মতে, যা ঘটেছে তা ছিল পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতা দখল। তিনি জানান, অস্থিরতার সময় তার নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি তৈরি হয় এবং কাছের মানুষজন তাকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন। তার ভাষায়, সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছিল রক্তপাত ঠেকানোর জন্য নেওয়া একটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কোনোভাবেই পদত্যাগ নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরুতে ছাত্রদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি থাকলেও আন্দোলন দ্রুতই চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়। সহিংসতা, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ক্ষমতা সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়া এসবই তার মতে প্রমাণ করে এটি কোনো জনপ্রিয় গণআন্দোলন ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আন্দোলন সত্যিই জনপ্রিয় হতো, তবে অন্তর্বর্তী সরকার কেন এখনও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চাইছে না।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী বিক্ষোভে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে শেখ হাসিনা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি কখনোই গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা সদস্যরা দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, মোহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তার ভাষায়, জনগণের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় থাকা এই প্রশাসন বারবার নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, ইউনুস ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চান কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে যাদের সমর্থনে তিনি ক্ষমতায় আছেন তারা তা ছাড়তে চায় না।
শেখ হাসিনা জানান, তাকে দেশে ফিরতে হলে অন্তত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে: আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের চেয়ে সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আগস্টের পর দেশে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে হাসিনা বলেন, এসব হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চরমপন্থীদের পরিকল্পিত তৎপরতা। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা সংখ্যালঘুদের আরও দুর্বল করে তুলছে।
শেখ হাসিনা মনে করেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে ভারত স্বীকৃতি দেবে না। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং এই সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকা জরুরি। তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি করেন না, তবে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন।
জুলাই চার্টার নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা। তার দাবি, আওয়ামী লীগ বহু আগেই যে রাজনৈতিক ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে, সেটিকে মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au