নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের তুলনায় এবারই সবচেয়ে কম সহিংসতার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এর জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন রাজ্যে দুটি জনসভা ও একটি রোড শোতে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি নিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কৃষ্ণনগরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর মথুরাপুরে দ্বিতীয় জনসভা এবং বিকেলে হাওড়ায় রোড শো করার কথা রয়েছে তার।
কৃষ্ণনগরের সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদী বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানাই। সবাইকে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, তিনি যতদিন রাজনীতিতে রয়েছেন, গত ৫০ বছরে এমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আর দেখেননি। তার ভাষায়, “আগে মানুষকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি নেই। এজন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।”
এ সময় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং তাদের ভূমিকা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোটদানের হার এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
মোদী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ভয় কাটতে শুরু করেছে এবং তারা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারছেন। তার মতে, মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি সেই মনোভাব প্রত্যক্ষ করেছেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক ভাষ্যও তুলে ধরেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, রাজ্যের মানুষ তাদের নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার দাবি, অনেক জেলাতেই তৃণমূল এবার কোনো প্রভাব রাখতে পারবে না।
কৃষ্ণনগরের সভায় তিনি রসিকতার সুরে ‘ঝালমুড়ি’ প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, ৪ মে বিজেপির বিজয় উদযাপন হবে এবং সেখানে মিষ্টির পাশাপাশি ঝালমুড়িও দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এই ঝালমুড়ির ঝাল নাকি তৃণমূলের গায়েই বেশি লেগেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছর আগে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে যেমন জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল, এবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও তেমনই জনরোষ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, বরং সাধারণ মানুষের লড়াই।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন পেশাজীবীদের কথাও। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা ভয় কাটিয়ে ভোট দিচ্ছেন, চিকিৎসকরা উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন, আইনজীবীরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ভোট দিচ্ছেন এবং শিক্ষকরা নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দাবিতে ভোট দিচ্ছেন। এমনকি পুলিশও জনগণের সেবার জন্য ভোট দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অত্যাচারের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে। একই সঙ্গে লুট হওয়া অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা এবং এর জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন তিনি। তার মতে, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ৪ মে পরবর্তী সময় থেকে এই সুরক্ষায় নতুন গ্যারান্টি দেওয়া হবে।
মতুয়া সম্প্রদায় ও শরণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন যে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধর্মীয় কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের পাশে তার সরকার থাকবে বলেও জানান। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে।
নারী উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল ও কংগ্রেস। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, প্রতিটি ব্লকে মহিলা থানা গড়ে তোলা হবে, নারীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে। তিনি জানান, ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মাধ্যমে বছরে ৩৬ হাজার টাকা নারীদের ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে এবং শিশু লালনপালনের জন্য অতিরিক্ত সহায়তাও দেওয়া হবে।]
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au