নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশে বিতাড়িত লাতিন আমেরিকার একটি অভিবাসী দল এখন আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) আটকে পড়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে যাওয়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চিত এক বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, এই অভিবাসীদের প্রথম দলটি গত শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিতর্কিত অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। এই নীতির আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে ক্যামেরুন, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, এসওয়াতিনি, ঘানা, রুয়ান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানকেও এমন গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিবাসীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে তাদের কঙ্গোতে আনা হয়। সেই পুরো সময় তাদের হাত ও পা শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
৩০ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্যাব্রিয়েলা বলেন, তিনি কখনোই কঙ্গোতে আসতে চাননি। তার ভাষায়, “আমি ভয় পাচ্ছি, আমি ভাষাও জানি না। আমাকে কঙ্গোতে পাঠানো হবে, এটা আমি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগের দিনই জানতে পারি।”
বর্তমানে ১৫ জন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী কিনশাসার বিমানবন্দরের কাছে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে অবস্থান করছেন। সেখানে ছোট ছোট ঘরে তাদের রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভবনের বাইরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যানবাহন মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও সেখানে দেখা গেছে, যদিও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিবাসীরা জানান, তারা প্রতিদিন মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে ডিআর কঙ্গোর সরকারি ভাষা ফরাসি না জানার কারণে যোগাযোগে বড় সমস্যা হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের প্রায় ১০০ ডলার সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসা বা পর্যাপ্ত সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। গ্যাব্রিয়েলা বলেন, “আমাদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে, আমিও অসুস্থ। জ্বর, বমি ও পেটের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বলা হচ্ছে এটা স্বাভাবিক, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।”
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত চিকিৎসক এসে তাদের পরীক্ষা করেননি এবং বাইরে থেকে কাউকে তাদের সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হচ্ছে না।
হোটেলে অবস্থানরত কয়েকজন জানান, তাদের সাত দিনের অস্থায়ী ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে বলা হয়েছে। তবে সাত দিনের পর কী হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
গ্যাব্রিয়েলা বলেন, “আমাদের এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছে যেন কোনো পথ না থাকে। বলা হচ্ছে, পুনর্বাসন কর্মসূচি না মানলে এখানে সমস্যায় পড়তে হবে। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক ও অন্যায়।”
অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সী হুগো প্যালেনসিয়া রোপেরোকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ মাস আটক থাকার পর কঙ্গোতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, তিনি এখন আরও বেশি আতঙ্কে আছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখানে খুব ভয় পাচ্ছি। সাত দিনের পর কোনো সহায়তা না পেলে আমাদের পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে যাবে, কারণ আমাদের কাজের অনুমতিও নেই।”
তিনি আরও বলেন, তিনি যেকোনো ধরনের ভ্রমণ নথি পেতেই রাজি, শুধু এই দেশ থেকে বের হতে পারলেই তার জন্য যথেষ্ট।
ডিআর কঙ্গো বিশ্বের দরিদ্রতম ১৫টি দেশের একটি, যেখানে লাখো মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এমন একটি দেশে এই অভিবাসীদের উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্রঃ news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au