মতামত

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিকল্প

  • 3:44 pm - November 17, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১২৮ বার
বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের জন্মে যেমন বঙ্গবন্ধুর বিকল্প ছিলনা, নেই । বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় , উন্নয়নে শেখ হাসিনার ও কোন বিকল্প নেই। ছবিঃ ওটিএন বাংলা

মেলবোর্ন ১৭ নভেম্বর ২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দখলদার গোষ্ঠী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের পর একটা আলোচনা, সমালোচনা খোদ আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখে ও শুনেছি । আজকের এই অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ নিজেই দায়ী, একটি অবাধ বা কিছু অবাধ নির্বাচন দিয়ে দিলে বাংলাদেশে আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। আরেকটি বয়ান আসে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, গণভবন ত্যাগ করলেন কেন? পরের প্রশ্ন আসে, শেখ হাসিনা না হয় চলে গেলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছাড়লেন কেন?খুবই স্বাভাবিক সহজ সরল প্রশ্ন এগুলো? এবং এইসব প্রশ্ন দেশের গণমাধ্যমগুলো দিনের পর দিন রাতের পর রাত উৎপাদন করেছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তুলে দিয়েছে ।

আমার কাছে মনে হয় এরা আসলেই বোকার স্বর্গে বসবাস করে? একটা জিনিস তো পরিস্কার বুঝার কথা, যখন ছাত্রদের দাবী এবং সরকারের দাবী এক, এরপরে ও সরকার যখন সব দাবী মেনে নেয়, কিন্ত সেসব পাশ কাটিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, একের পর এক সিনেমাটিক ভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো, সেসব ভিডিও ভাইরাল করে জনমত তৈরী করা, কিংবা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিদের গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্য যদি আমরা দেখি, কিভাবে বারবার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের রাজপথে নামা থেকে নিবৃত করা।কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পলাশীর আম্রকাননের নীরবতা, এই সব কিছু যখন একসাথে করে ভাববেন উত্তর পেয়ে যাবেন। এই ঘটনা অনিবার্য ছিল, যে কোন মূল্যে দেশি বিদেশী মিলিত শক্তি শেখ হাসিনাকে, আওয়ামী লীগকে এই যুদ্ধে পরাজিত করার মরণ কামড়ে নেমেছিল। এবং সফল হয়েছে।

ধরুন ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা গণভবন ছাড়েন নি। পরবর্তী দৃশ্যটা কী ঘটত একবার কি পরিকল্পনা করতে পারেন? কি ঘটত সেদিন । ধরুন আওয়ামী লীগের নেতারা সবাই দেশে ছিলেন তার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি। কতোজন জেলে আছেন আর কতজনের উপর মবের নামে নির্যাতন হয়েছে, কি পরিমাণ নেতাকর্মীকে এখনো হত্যা করা হচ্ছে । মুজিববাদ নিপাতের নামে, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত ইসলামের উত্থান, বঙ্গবন্ধু কে অবমাননা, বত্রিশ নম্বর গুঁড়িয়ে দেয়া ,মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করে দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপদস্ত করা , মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ কে সমান্তরাল রেখায় চিত্রিত করা, মুজিববাদের কবর দেয়া, ফ্যাসিবাদী সংবিধান বিলুপ্ত করা র নামে ঐক্যমত , সংস্কার নতুন বন্দোবস্ত নানা নামে বাংলাদেশের সামনে মূলত একটা গাধার সামনে মুলা ঝুলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ কে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আরেকটি বিষয় দেখবেন , যে বয়ান প্রতিনিয়ত উৎপাদন করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া। কেন ক্ষমা চাইবে আওয়ামী লীগ ? ২০২৪ এ গণহত্যার জন্য? যে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের আজকে পর্যন্ত কোন তালিকা দিতে পারে নাই। যে তালিকার নিহতরা কয়দিন পরে পরে বাড়ি ফিরে আসে, যে তালিকায় , যে শহীদরা বিদ্যুতস্পৃষ্ঠ হয়ে মারা গেছে , যে শহীদ সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে, অনেকে আবার হৃদরোগ , পাতলা পায়খানায় ও মারা গেছে , সম্প্রীতি প্রথম আলো এই ভূয়া এবং জীবিত শহীদদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই সব জীবন্মৃতদের দায় নিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা চাইতে হবে। যার নাম দিয়েছে তারা গণহত্যা ।

এই ক্ষমা চাওয়ানোর একটা উদ্দেশ্য আছে তাদের । আওয়ামী লীগের মত সংগঠনকে বাংলাদেশে দাবিয়ে রাখার ইতিহাস নাই, এবং সম্ভব নয়, সেটা তারা ভাল করেই জানে। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের মতোই ফিরিবে। তাই প্রথমদিন থেকেই কোন রকমের যাচাই বাচাই কিংবা প্রমাণ ছাড়াই এই ক্ষমার বিষয়টা খুব গুরুত্ব পায়। যাতে করে নৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাথা উচু করে রাজনীতি করতে না পারে। কারণ জামায়াত সরাসরি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত , বিএনপি যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে , এবং জিয়াউর রহমান কোর্ট মার্শালের নামে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের ফাঁসি দিয়েছেন , সেই রক্তের দাগ আওয়ামী লীগের নাই। এই দেশের জন্য সর্বোচ্চ রক্ত দিয়েছে আওয়ামী লীগ । দেশের স্বাধীনতা , সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে বাঁচিয়ে রাখতে াআওয়ামী লীগের রক্তদানের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৪ সালে এসে ও আজ আমরা দেখতে পাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে , নির্যাতিত হচ্ছে , কারা বরণ করছে , প্রাণ হারাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা । তাই নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন প্রজন্মের সামনে ২০২৪ এ কল্পিত গণহ্যতার দায় দিয়ে আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে ।

আওয়ামী লীগকে হটানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরুতে হালে খুব একটা পানি পায় নি, এমন কি আওয়ামী লীগ কর্মীরা ও ধরে নিয়েছিল একটা একটা বিপ্লব ঘটে গেছে কিংবা অভ্যুথান ঘটে গেছে । কিন্তু যত দিন গেছে , থলের বিড়াল এক এক করে বের হওয়া শুরু করেছে , পাকিস্থান বাংলাদেশে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে , মানুষ সেই সাজানো অভ্যুথানের মোহ থেকে বের হয়েছেন। প্রতিবাদের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে শুরু করেছে ।

আর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটা এই মানব সভ্যতা বা রাজনৈতিক যুদ্ধে নতুন কিছু নয় , পিছুহটা যুদ্ধের একটা কৌশলমাত্র। যারা ইতিহাসের খোঁজ খবর রাখেন একটু ঘাটলেই এই তথ্যগুলো পেয়ে যাবেন।

এমন কি উহুদের যুদ্ধে ইসলামের অন্যতম খলিফা হযরত ওমর এবং আবু বক্করের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ও ঘটেছে ইতিহাসে এমন অনেক বীর সেনাপতি ছিলেন, যারা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে কখনও কখনও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটেছেন, তবে এটি তাদের বীরত্ব বা পরাজয়ের প্রতীক নয়, বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল। যেমন, খালিদ বিন ওয়ালিদের (রাঃ) উহুদ যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে কুরাইশদের সাথে পিছু হটতে বাধ্য করার উদাহরণ আছে। এছাড়া, নেপোলিয়নের মতো অনেক সফল সেনাপতিও যুদ্ধের নির্দিষ্ট মুহূর্তে কৌশলগত কারণে পশ্চাদপসরণ করেছেন, যা তাদের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করেছেন।

এই জাতীয় উদাহরণ অনেকের কাছেই এখন মনে হতে পারে পরাজিতের আত্মসন্তোষটি । কিন্তু বাস্তবতা আমাদের কি বলে?

এক বছরের মাথায় দেশে বিদেশে রাজপথে অন্তর্জালে ঘুরে দাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ , কাউকেই তোয়াক্কা করছে না , ইউরোপ আমেরিকায় একের পর এক বিপর্যস্ত , অপমানিত করছে বর্তমান সরকার প্রধান থেকে তার সভাসদ দের। পুলিশ জেল কিছুই ভয় পাচ্ছে না। রাস্তায় চলন্ত গাড়ীর সামনে বুক পেতে দিচ্ছে প্রতিবাদ জানিয়ে। এর কারণ তাঁরা জানে তাদের সেনাপতি এখনো আছেন এবং তার নাম শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে গত কয় বছরে যে প্রশ্নটা খুব বেশী আলোচিত ছিল , বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিকল্প কে? আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প কে? এর সরল উত্তর ছিল প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। সময়ের প্রয়োজনে কেউ না কেউ ঠিকই সেই জায়গাটা পূর্ণ করবে। এমন কি ২০২৪ এ যখন তথাকথিত কোটা আ ন্দোলন খুব জোরালো হয়ে উঠল , সরকার তাদের দাবী মেনে নেয়ার পর ও যখন তারা নানা দফা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছিল , বিকল্প কে , তারা উত্তর দিয়েছিল বিকল্প তুমি আমি আমরা । তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার শ্লোগান থেকে ডাকসু নির্বাচন ছাত্র শিবিরের জয় জয়কার , কিংবা জামায়াত ইসলামের উত্থান সেই বিকল্পের সন্ধান আমরা পেয়ে যাই।

২০২৩ সালে শেখ হাসিনা সরাসরি বলেছিলেন আমেরিকা বাংলাদেশের কাছে ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চায়’ এবং সেজন্যই তারা আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের উপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরীক দল জাসদ ও ওয়ার্কাস পার্টির নেতারা সংসদে কথা বলেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, এই দেশের কোন সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে তিনি ক্ষমতায় আসতে চান না।গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে তিনিও ক্ষমতায় থাকতে পারতেন।

“এখনো যদি বলি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেবো, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার কোন অসুবিধা নেই, আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটা হবে না,” বলেন শেখ হাসিনা। অনেকেই সে সময় এই বক্তব্যকে স্ট্যান্ডবাজি বা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু আমরা জানি এই খেলাটা নতুন নয়। আমরা শুধু ১৯৭৪ সালে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কথা জানি কিন্তু এর প্রেক্ষাপট ইতিহাস জানি না। জানতে দেয়া হয়নি। ২০২৪ এর শহীদের মত সেদিন জাল দিয়ে লজ্জা নিবাররণের ছবি ভাইরলা হয়েছিল বাসন্তির , যদি ও বহু বছর পরে জানা গেল সেই ছবি ছিল ফটো শ্যুট করা বা সহজ করে বললে মডেলিং ছবি।

১৯৬৯ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সহযোগিতার বিনিময়ে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ (সম্ভবত সেন্ট মার্টিন) তাদের কাছে ছেড়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর ১৯৭৪ সালে, যখন বাংলাদেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় মার্কিন পক্ষ থেকে আবারও অনুরূপ প্রস্তাব দেওয়া হয় বাংলাদেশকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে, তবে এর বিনিময়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন:”আমার দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে, তবু আমি দেশ বিক্রি করব না!” এর পরিণতিতে বাংলাদেশকে মার্কিন খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হয়, যার ফলে দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র হয়। অনেক মানুষ প্রাণ হারান।তবু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় একজন সত্যিকারের নেতা কখনোই জাতির সার্বভৌমত্বের সাথে আপস করেন না। বঙ্গবন্ধু সেই চিরন্তন প্রতিচ্ছবি, যিনি ক্ষুধার সামনে মাথা নত না করে আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছিলেন। যেমনটা করলেন শেখ হাসিনা। ১৮ জুন ২০২৩) স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে, প্রধানম (ন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন বাংলাদেশ অন্য কারো ব্যাপারে হস্তক্ষেপে আগ্রহী না। তাই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করুক তা চায় না ঢাকা। কারো খবরদারির কাছে নতজানু হব না। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। এবং বারবার আমেরিকার বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আমেরিকাকে ও আরো চ্যালঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশের মত দেশ আমেরিকাকে যদি মুখের উপর না করে দেয় । তাদের জন্য হজম করা একটু কঠিনই বটে।

অন্য যে আলোচনা বা শব্দ বন্ধ ডিপ টেস্ট যে শব্দের সাথে ম্যাটিকুলাস প্ল্যানের মতোই আমাদের সাধারণ মানুষ খুব বেশী পরিচিত ছিলেন না। এখন সেই ডিপ টেস্ট কিভাবে কাজ করে ? তারা কাজে লাগায় দেশটির সেনাবাহিনীর একটি অংশকে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কৌশল, বৈদেশিক সম্পর্কসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোতে এই শ্রেণির কর্মকর্তাদের নেপথ্য ভূমিকা ডিপ স্টেটের একটি প্রধান স্তম্ভ।

বেসামরিক আমলাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সচিব, যুগ্ম-সচিব, ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক দল ও সরকারের পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার কাঠামো স্থায়ী থাকে। ফলে, তাদের নীতি-পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষমতা রয়েছে, যা তাদেরকে ডিপ স্টেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত করেছে।

‘ডগিফাই’ সংস্থাটি দৃশ্যমান কোনো সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু এটি সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে অনুমান করা হয়। ডগিফাই এমন একটি ক্ষমতা-নেটওয়ার্ক, যা সংবাদমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার করে। ২০২৪ এর ঘটনা প্রবাহে যদি আমাদের দেশের নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা নির্মাতাদের অবস্থান দেখেন , তাহলেই বুঝতে পারবেন প্রতিটা বিষয় কিন্তু সমন্বিত ভাবে জুলাই আগস্টে এক যোগে বাংলাদেশে কাজ করেছে।

যে মিথ্যার উপড় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ , শুরু হয়েছিল যে কোটা বিরোধী আন্দোলোন নিয়ে শেষ হয়েছিল আওয়ামী লীগের পরাজয় দিয়ে। সেই কোটার খবর আর আমরা জানতে পারলাম না । তার পরিবর্তে জুলাই যোদ্ধা কোটা, ভাতা, টেন্ডার চী, চাঁদাবাজি , নিয়োগ বাণিজ্য আর দালালি র বাণিজ্যই দেখলাম , রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেল আন্দোলনের তথাকথিত নেতারা।

দ্বিতীয় বিষয় ছিল নির্বাচন , এই ধরণের রাজনৈতিক শূন্যতায় মূলত যারা ক্ষমতায় আসেন তারা খুব দ্রুত একটি নির্বাচন দিয়ে, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হটিয়ে দিয়ে এক ভিন্ন প্রবাহে আবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশ । সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সেই কাফেলায় শেখ হাসিনাকেই আবার নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে ।

বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের জন্মে যেমন বঙ্গবন্ধুর বিকল্প ছিলনা, নেই । বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, উন্নয়নে শেখ হাসিনার ও কোন বিকল্প নেই।

জুয়েল রাজ

লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক ব্রিকলেন, নিউজ। যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, কালেরকন্ঠ।

এই শাখার আরও খবর

মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…

মুম্বাইয়ে সালমানের সঙ্গে নয়নতারার মিশন শুরু

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বলিউডে নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা-সালমান খান ও দক্ষিণ ভারতের ‘লেডি সুপারস্টার’ নয়নতারা। মুম্বাইয়ে শুরু হয়েছে তাদের…

শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল-  রাজধানীতে আলোচিত ঘটনার পর দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত…

ট্রাইব্যুনালে ঘুষকাণ্ডে প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে আলোচিত ঘুষকাণ্ডে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলা…

ইরান কেন বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল-  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের…

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au