রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঝড়টির সর্বোচ্চ দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ায় মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড় থেকে অল্প সময়ের বিরতি মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। সাইক্লোন ফিনা আবার শক্তি বাড়াচ্ছে এবং আজই ক্যাটাগরি ২ এ ফিরতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এটি ক্যাটাগরি ৩ এও উন্নীত হতে পারে। নর্থ অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। গতকাল দিক পরিবর্তন করে টপ এন্ডের দিকে যাওয়ায় ফিনা ক্যাটাগরি ১ এ নেমে এসেছিল।
রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঝড়টির সর্বোচ্চ দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। তখন এটি ডারউইনের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে এবং ক্রোকার আইল্যান্ডের মিনজিলাংয়ের উত্তর-উত্তরপূর্বে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূর দিয়ে দক্ষিণমুখে এগোচ্ছিল।

২০ নভেম্বর, ২০২৫, বৃহস্পতিবার দুপুর ১:১৮ টায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফিনার বর্তমান পূর্বাভাস ট্র্যাক ম্যাপ।। সূত্র: আবহাওয়া ব্যুরো
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আজ কোবার্গ উপদ্বীপ ও টিউই দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রমের পথে ফিনা আবার ক্যাটাগরি ২ শক্তি ফিরে পেতে পারে। শনিবার এটি ভ্যান ডিয়েমেন উপসাগর পার হবে এবং রোববার দক্ষিণ টিমর সাগরে গিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ বা আগামীকাল ভোরেই ফিনা ক্যাটাগরি ৩ হয়ে উঠতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের মুখপাত্র জুড স্কট বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী দুদিন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। সতর্কতা ও নজরদারি এলাকায় দৈনিক ৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেমের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বৃষ্টি ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় নদীগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে প্রাথমিক সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে, কারণ নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
ডারউইন এখন সাইক্লোন নজরদারি এলাকায় রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে শহরে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রভাব কতটা পড়বে তা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত পথ কোন দিকে যায় তার ওপর। যদি ফিনা টিউই দ্বীপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে ডারউইনে প্রভাব কম হবে। আর যদি এটি উত্তর অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের দিকে সরে আসে, তাহলে ডারউইন শনিবারই ঝড়ের প্রভাব অনুভব করবে।
সতর্কতা জোনে মিলিকাপিটি থেকে মানিংগ্রিডা পর্যন্ত অঞ্চল রয়েছে, যার মধ্যে কোবার্গ উপদ্বীপ, মিনজিলাং এবং ওয়াররুই অন্তর্ভুক্ত। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গতরাতে কোবার্গ উপদ্বীপের কেপ ডন থেকে ওয়াররুইয়ের মাঝামাঝি এলাকায় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বইতে পারে। আজ উপকূলের কাছে আসার পর এই এলাকাগুলোতে ১৫৫ কিলোমিটার বেগের ধ্বংসাত্মক ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।