মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত হিসেবে বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছিল মোক্তার হোসেনকে। পরদিন শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে ও স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, পল্লবী থানার কনফারেন্স রুম থেকে ডিবি কার্যালয় পর্যন্ত একাধিক স্থানে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মোক্তার পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাকে মারধর করে এবং পরে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মোক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মর্গে কড়া নিরাপত্তায় তার সুরতহাল তৈরি হয়। স্বজনরা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।
মোক্তারের ছেলে মৃদুল সাংবাদিকদের বলেন, আটকের সময় বাবাকে চায়ের দোকান থেকে তুলে গাড়িতে তোলা হয় এবং প্রথমেই পল্লবী থানার কনফারেন্স রুমে নির্যাতন করা হয়। এরপর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। মৃদুল দাবি করেন, ডিবি সদস্যরা তার বাবার হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন এবং গুরুতর নির্যাতন চালান। তিনি আরও বলেন, তাকে নিজেকেও আটক রেখে বাবার কান্না ও আর্তচিৎকার শুনতে হয়েছে।

মোক্তার হোসেনের ছেলে মৃদুল ।ছবিঃ সংগৃহীত
মোক্তারের স্ত্রী মুক্তা শিকদার অভিযোগ করেন, তার স্বামী কখনো পালাতে যাননি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, ডিবির পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে ডেকে এনে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল মর্গে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে দুপুরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পল্লবীতে গোলাম কিবরিয়া হত্যার তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের তথ্যের ভিত্তিতে মোক্তারের নাম আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিবির টিম তাকে আটক করতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তাকে ধরে মারধর করে। পরে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে আবার ডিবি কার্যালয়ে ফেরত আনা হয়। শুক্রবার সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে মোক্তারের ছেলে ও স্ত্রী ডিবির বিবৃতি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, আটক অবস্থায় নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি আড়াল করতে নতুন বর্ণনা সাজানো হচ্ছে।
হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তের ফল হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au