ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের জন্য শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ পাস
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করে ‘পাবলিক পরীক্ষা…
মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় বক্তৃতা, সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ এবং সুফি বা বাউলদের ওপর হামলার পর ওয়াহাবি ও সালাফি মতাদর্শ আবার আলোচনায় এসেছে। বহু মসজিদে জুমার আগে বয়ানে কোনো কোনো ইমামকে সালাফি বা ওয়াহাবিদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে শোনা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে এ দুটো ধারার উৎস, মতবাদ এবং বাংলাদেশে তাদের প্রভাব নিয়ে।
ধর্মতত্ত্ববিদরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি ধারাই সক্রিয়। এগুলো হলো ওয়াহাবি, সালাফি এবং দেওবন্দ। আর মাজহাবের দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমই হানাফি মতের অনুসারী।
ওয়াহাবি ধারার উৎপত্তি অষ্টাদশ শতকে সৌদি পণ্ডিত আবদুল ওয়াহাব নজদির মাধ্যমে। তিনি কবর, মাজার বা অলৌকিকতার বিরোধিতা করতেন। অন্যদিকে সালাফি ধারার শিকড় মিশরের দার্শনিক মোহাম্মদ আবদুহের হাতে। তাঁদের বিশ্বাস, ইসলামের প্রথম তিন প্রজন্ম তথা সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের অনুসরণই প্রকৃত পথ।
গবেষকদের মতে, দুটি ধারার উৎস কাছাকাছি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য চোখে পড়ে না। তবে একদিকে মাজারভিত্তিক সুফি ঐতিহ্য এবং অন্যদিকে সালাফি ওয়াহাবি মতাদর্শের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। বাংলাদেশি সমাজে সুফি প্রভাব দীর্ঘদিনের, যা সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে ধর্মীয় অনুশীলন পর্যন্ত বিস্তৃত।
ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে সৌদি আরবের অর্থায়নের অভিযোগ বহুদিনের। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও অতীতে স্বীকার করেছেন যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় মুসলিম বিশ্বে প্রভাব বিস্তারে দেশটি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে।
বাংলাদেশে এ ধারার প্রভাব নতুন নয়। ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়তউল্লাহ এবং তিতুমীর দুজনই ওয়াহাবি ধারার অনুসারী ছিলেন। পরে উপমহাদেশে আহলে হাদিস নামে এ ধারার শাখা বিকাশ পায়।

বাংলাদেশে মাজার ও বাউলদের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচনার অন্যতম কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা। বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কাজ করেন। দেশে ফিরে অনেকেই সালাফি বা ওয়াহাবি ব্যাখ্যা প্রচার করছেন। এতে স্থানীয় সুফি ঐতিহ্য, মাজার সংস্কৃতি কিংবা বাউল সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতভেদ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারাগুলো নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও মৌলিক বিশ্বাস যেমন কোরআন, হাদিস বা আখেরাত নিয়ে কোনো পক্ষের মধ্যে ভিন্নতা নেই। বিতর্ক তৈরি হচ্ছে মূলত সাংস্কৃতিক চর্চা, মাজারের ভূমিকা এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যার পদ্ধতি নিয়ে।
বাংলাদেশে যেহেতু সুফি ঐতিহ্য শতাব্দী পুরনো এবং মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এর প্রভাব গভীর, তাই বিপরীত মতাদর্শের উত্থান সামনে এলে তা আলোচনায় আসে এবং কখনো কখনো উত্তেজনাও সৃষ্টি করে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au