অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন খোলা মাঠে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ নভেম্বর- রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ২০টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি নিভতে আরও সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। এখনো আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে বাতাস ভারী হয়ে আছে কান্না আর হাহাকারে। আগুনের তীব্রতায় অসহায় বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে ফিরতেও পারেননি। কেউ দাঁড়িয়ে কাঁদছেন দূরে, কেউ যা পেয়েছেন তা নিয়ে নিরাপদ জায়গার দিকে দৌড়াচ্ছেন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন খোলা মাঠে।
কড়াইলের বাসিন্দা মো. হানিফ জানালেন, তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে আগুন লাগে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তিনি খবর পান। ছুটে এসে দেখেন তার ঘরসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না বলে অন্তত দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
জয়নুল নামের আরেক বাসিন্দাও রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আগুনের খবর শুনে তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটে আসেন, কিন্তু ঘরের কাছে যেতে পারেননি। তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে ছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু এখনো দেখা হয়নি। তিনি বলেন, ঘরের সব পুড়ে গেছে, স্ত্রীর কিছুই বের করতে পারেননি।
বাসিন্দা লাভলী জানালেন, সাত বছর ধরে বস্তিতে থাকেন। কষ্ট করে টিভি, ফ্রিজসহ আসবাবপত্র কিনেছিলেন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। গার্মেন্টসকর্মী নাসিমা বেগম বলেন, বোনের ফোনে আগুনের খবর পেয়ে দৌড়ে আসেন। তার ঘরও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্ধকারে বাসিন্দারা মোবাইলের আলো, টর্চলাইট নিয়ে চলাফেরা করছেন। কেউ যেটুকু মালামাল রক্ষা করতে পেরেছেন, তা নিয়ে সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন। ওয়ারলেস মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী, শিক্ষার্থী এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।
আগুনে বাস্তুহারা অনেক মানুষ রাত কাটাচ্ছেন মহাখালী টিএন্ডটি মাঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্তরা আলাদা আলাদা দলে বসে আছেন। কেউ ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কাগজ জ্বালাচ্ছেন। বাসিন্দা জামিলা বলেন, তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তার পরিবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বিভিন্ন জায়গায়। আগুনে তাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। কোনো জিনিসপত্র বের করতে পারেননি।
পলি আক্তার, যিনি ইউনিমার্টে চাকরি করেন, জানান তিনি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসায় ফিরে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে আগুন দেখতে পান। তিনি শুধু একটি লাগেজ নিয়ে দ্রুত বের হন এবং মাঠে আশ্রয় নেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বউবাজারের দক্ষিণ পাশে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন, আর অপেক্ষায় আছেন তাদের জীবনের নতুন শুরুর কোনো সম্ভাবনার।