বন্ডাই বিচে হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শ্রদ্ধা। ছবিঃ এবিসি নিউজ
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে গঠিত রয়্যাল কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে হামলার সময় দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত সম্পদ ও সক্ষমতা না থাকার ঝুঁকিতে ছিল, যদিও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা তখনই “সম্ভাব্য” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রয়্যাল কমিশনার ভার্জিনিয়া বেল গভর্নর জেনারেল স্যাম মোস্টিনের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে মোট ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাকি ৫টি জাতীয় নিরাপত্তার কারণে গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এবং জনসমাগমপূর্ণ ইহুদি সম্প্রদায়ের উৎসব ও অনুষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়কের পদটি স্থায়ী করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সন্ত্রাসবিরোধী কমিটিকে সংকট ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী নির্দেশিকা বা হ্যান্ডবুক অন্তত প্রতি তিন বছর অন্তর হালনাগাদ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিকে জাতীয় মন্ত্রিসভায় নিয়মিত বার্ষিক ব্রিফিং দিতে হবে। পাশাপাশি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টিমগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে একটি পর্যালোচনা চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে নেতৃত্ব কাঠামো, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ইতোমধ্যে এই সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কিছু সুপারিশ গোপন রাখা হয়েছে, কারণ সেগুলো প্রকাশ করলে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইহুদিবিরোধী ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ ও কমিউনিটি নিরাপত্তা গ্রুপের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে ঝুঁকি মূল্যায়ন, পরিকল্পনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে প্রতিবেদনটি জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপরও জোর দিয়েছে। জাতীয় অস্ত্র চুক্তি হালনাগাদ এবং অস্ত্র পুনঃক্রয় কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয়ভাবে সমন্বিত অস্ত্র সংস্কার বাস্তবায়নে রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
এদিকে রয়্যাল কমিশনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৪ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত প্রথম দফার প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইহুদিবিদ্বেষের ঐতিহাসিক ও বর্তমান রূপ নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা শোনা হবে।
রয়্যাল কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর, হামলার এক বছর পূর্তির দিনে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ