৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর মামলায় হাইকোর্টে সাবেক ভিপি ইমির জামিন
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ…
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একটি ফুল ফান্ডেড পিএইচডি শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ ঘোষণা করেছে। এই গবেষণা প্রোগ্রামটি ন্যায়বিচার, শাসনব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ক গভীর গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে। প্রোগ্রামটি আফ্রিকান লিডারশিপ সেন্টারের অধীনে পরিচালিত হবে।
এই পিএইচডি প্রকল্পটি ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (ইউকেআরআই) এর “জাস্টিস ইন ক্রিটিক্যাল মিনারেলস গভর্নেন্স অ্যান্ড এনার্জি ট্রানজিশনস” শীর্ষক বৃহৎ গবেষণা উদ্যোগের অংশ। এটি পরিচালনা করছেন ড. ক্লেমেন্ট সেফা-ন্যার্কো। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে ন্যায্যতা ও টেকসই নীতিমালা তৈরি করা।
জ্বালানি রূপান্তর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যেমন লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং বিরল ধাতুর চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। এসব খনিজ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, বিশেষ করে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য অপরিহার্য। তবে এসব খনিজ আহরণের সঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতি, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক জটিলতা জড়িত।
এই গবেষণায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে তার মধ্যে রয়েছে—খনিজ সম্পদ আহরণে সুবিধার অসম বণ্টন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের অভাব, পরিবেশগত ক্ষতি এবং খনিজ খাতে শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিতার ঘাটতি। গবেষণার মাধ্যমে আরও ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, এই পিএইচডি শুরু হবে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে এবং এর মেয়াদ হবে সাড়ে তিন বছর। এটি লন্ডনে ফুলটাইম ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
এই শিক্ষাবৃত্তির আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ অর্থায়ন। এতে বছরে ২৩,৮০৫ পাউন্ড স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন ফি এবং ১,৩৫০ পাউন্ড গবেষণা ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষেত্রসমীক্ষার সুযোগও থাকবে, বিশেষ করে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো অঞ্চলে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও গবেষণা প্রকাশনার সুযোগও দেওয়া হবে।
গবেষণার বিষয়বস্তু প্রার্থীরা নিজেরা নির্ধারণ করতে পারবেন, তবে তা জ্বালানি রূপান্তর ও ন্যায়বিচার বিষয়ক মূল থিমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। সম্ভাব্য গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলে ন্যায্যতা, স্থানীয় জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি, খনি শিল্পের শাসনব্যবস্থা, অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়ন এবং নতুন গবেষণা পদ্ধতি যেমন হারমেনিউটিক্যাল এথনোগ্রাফি।
এই প্রোগ্রামের মূল গবেষণা কেন্দ্র আফ্রিকান লিডারশিপ সেন্টার, যা নৈতিক গবেষণা, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এখানে শিক্ষার্থীরা কাঠামোবদ্ধ ডক্টরাল ট্রেনিং, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে বা শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক বিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, আইন বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র। পাশাপাশি গুণগত গবেষণা দক্ষতা এবং ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে।
আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার, গবেষণা প্রস্তাব (৩৫০০ থেকে ৫০০০ শব্দ), একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং দুইটি রেফারেন্স জমা দিতে হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে।
আবেদনের শেষ তারিখ ১৭ মে ২০২৬। আগ্রহী প্রার্থীদের সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পিএইচডি সুযোগকে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরকে আরও ন্যায্য ও টেকসই করার লক্ষ্যে কাজ করা যাবে।
সূত্রঃ opportunitiesforyouth.org
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au