চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’কে ঘিরে সংসদে নতুন করে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। আলোচনার সূচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন কংগ্রেস দল গত শতাব্দীতে মুসলিম লীগের চাপে নতি স্বীকার করে গানটির প্রতি অবিচার করেছিল। তিনি সরাসরি জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেন। বিরোধীরা পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন সরকার পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম্’ গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে অনুষ্ঠানমালা চলছে। সেই প্রেক্ষিতে সংসদে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরু হয়। সাংগঠনিক ইতিহাসের দিক থেকে গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর পরের স্তবকে হিন্দু ধর্মীয় চিত্রকল্প থাকায় ব্রিটিশশাসনকালে মুসলিম নেতাদের অংশ থেকে আপত্তি ওঠে। ১৯৩৭ সালে সেই বিতর্ক মেটাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে কংগ্রেস প্রথম দুটি স্তবককে নিজেদের সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে।

ভারতের সংবিধান সভায় বক্তব্য রাখছেন নেহরু, ছবি: বিবিসি
লোকসভায় ভাষণে মোদি দাবি করেন, মুসলিম লীগের বিরোধিতার মুখে নেহরু গানটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার থেকে সরে আসেন এবং পরে দেশভাগের সময়ও ‘মাথা নত করেন’। তাঁর কথায়, গানটির গৌরব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে এবং কেন বাকি অংশ গাওয়া হয় না, তা দেশবাসীকে জানানো দরকার।
এই বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে সাংস্কৃতিক ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম্’ এমনিতেই মানুষের হৃদয়ে আছে, সে বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তোলার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রব্যমূল্য বা বেকারত্বের মতো বর্তমান সংকট নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত।
ইতিহাসবিদদের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে বিতর্কের শিকড় বহু পুরানো। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে গানটি স্থান পাওয়ার পর এর পরের স্তবকগুলোতে হিন্দু দেবীর প্রতি স্তুতি থাকায় মুসলিম সমাজের আপত্তি তৈরি হয়। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন বিষয়টি নিয়ে। তখন নেহরু ও সুভাষ চন্দ্র বসু রবীন্দ্রনাথের পরামর্শ চান। ঠাকুর স্পষ্ট মত দেন যে প্রথম দুটি স্তবকে আপত্তির কারণ নেই, কিন্তু পরের অংশ নিয়ে আপত্তি যুক্তিযুক্ত। সেই মতানুযায়ী গানটির প্রথম দুটি অংশই সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

লোকসভায় নরেন্দ্র মোদী। ছবিঃ বিবিসি
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার মুহূর্তে সংসদে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হয়। পরে দীর্ঘ বিতর্কের পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জন গণ মন’কে জাতীয় সংগীত এবং ‘বন্দে মাতরম্’কে জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিতর্ক ভারতীয় রাজনীতির সেই পুরোনো মতাদর্শিক বিভাজনকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। শাসক দল যেখানে গানটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার তুলে ধরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দাবি করছে, বিরোধীরা বলছে এটি নির্বাচনী হিসাবের অংশ। বিষয়টি আগামী দিনে সংসদ, রাজনীতি ও জনপরিসরে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au