বন্ডাই হামলা নিয়ে রয়্যাল কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ, ১৪ দফা সুপারিশ
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে গঠিত রয়্যাল কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে হামলার সময় দেশটির নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের স্মৃতি ধরে রাখতে গাজীপুর শহরের মুক্তমঞ্চে নির্মিত হয়েছিল ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ ভাস্কর্য। গ্লাস ফাইবারে তৈরি ১৩ ফুট উচ্চতার এই কাজটিতে উঠে এসেছিল প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রতীকী রূপ। কারও হাতে একনলা বন্দুক, কারও হাতে গজারি কাঠের লাঠি, আবার কৃষকের হাতে ছিল কাস্তে। ভাস্কর্যে প্রতিফলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে গড়ে ওঠা গণপ্রতিরোধের দৃশ্য, যেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় এই ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় কিছু লোক। আগুন লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উল্লাস চলে সেখানে। উপরের অংশ থেকে হাঁটু পর্যন্ত সবকিছু ভেঙে ফেলা হয়। এখন সামনের দিক থেকে ভাস্কর্যের আর কোনো অংশ দেখা যায় না। বেদিটি ঢেকে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে, যেখানে বসানো হয়েছে ফল ও সবজির দোকান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছিল। ভাস্কর কুয়াশা বিন্দুর নকশায় তৈরি কাজটি উদ্বোধনের আগেই ধ্বংস হয়ে যায়। সেদিন কয়েকজন ভাস্কর্যের ওপর উঠে উল্লাস করে, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বাঙালির প্রতিরোধ চিত্র বদলে যায়। স্লোগানে মুখরিত শহর, হাতে বাঁশ-কাঠের লাঠি, কাস্তে ও একনলা বন্দুক নিয়ে মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিহত করতে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তোলেন তারা। ভাওয়াল রাজবাড়ির সেনানিবাস থেকে ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আবরারের নেতৃত্বে আসা বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি সৈন্য ও সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেদিনের সংঘর্ষে নিহত হন নেয়ামত, মনু খলিফা ও হুরমতসহ আরও কয়েকজন।
এই ইতিহাসকে স্মরণে রাখতে নির্মিত হয় ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ ভাস্কর্য। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই এটি ধ্বংস হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরের ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ ভাস্কর্য। গত বছর ৫ আগস্ট বিকেলে ১৩ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যগুলো হাঁটু পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়। ছবিঃ সমকাল
ধ্বংসের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভাস্কর্য সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হবে। তিনি বলেন, ১৯ মার্চের প্রতিরোধের স্মৃতি ধরে রাখতে ভাস্কর্যটির গুরুত্ব অনেক।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারও মনে করেন, ভাস্কর্যটি ভাঙা উচিত হয়নি এবং নতুন করে আরও উন্নত নকশায় নির্মাণ করা যেতে পারে। ভাস্কর কুয়াশা বিন্দু বলেন, দীর্ঘ পরিশ্রমের কাজটি মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়। সেই দৃশ্য তাঁকে এখনো মানসিকভাবে আঘাত করে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, সুযোগ হলে আবার ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হবে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ শুরু হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় স্মরণে গড়ে তোলা প্রতীকী এই নিদর্শন দ্রুত পুনর্গঠনের মধ্য দিয়েই সংরক্ষণ করা উচিত।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au