দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে জামিন দিল হাইকোর্ট
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি পৃথক মামলায় জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি কে…
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- নিউজিল্যান্ডের আদালত ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলায় ৫১ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের আপিল আদালত জানিয়েছেন, ২০২০ সালে তার দোষ স্বীকারের সময় তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন, এমন যুক্তির কোনো ভিত্তি নেই। আদালত তার আবেদনকে “সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন” বলে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে।
২০২০ সালে দোষ স্বীকারের পর ট্যারান্টকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ শাস্তি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অকল্যান্ড কারাগার থেকে ওয়েলিংটনের আদালতে পাঁচ দিনব্যাপী আপিল শুনানিতে অংশ নেন। শুনানির পর তিনি তার আইনজীবীদের বরখাস্ত করেন এবং আপিল প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন, কারণ মামলার পরিচালনা নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে আদালত জানায়, শুনানি শুরু হওয়ার পর আপিল প্রত্যাহারের অধিকার তিনি হারিয়েছেন।
আদালত আরও একটি পৃথক আবেদন গ্রহণ করেছে, যেখানে তিনি নিজের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে আদালত উল্লেখ করেছে, তার দোষ স্বীকার বাতিলের আবেদন দেরিতে করা হয়েছে, তাই তা গ্রহণযোগ্য নয়।
রায়ে বলা হয়, এই আবেদন খারিজ করা “সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এবং বিশেষ করে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ”।
আপিলের মূল যুক্তিতে ট্যারান্ট দাবি করেছিলেন, একাকী কারাবাসের কঠোর পরিবেশে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, যার কারণে ২০২০ সালে তিনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হন। তিনি একটি হলফনামায় কারাগারের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন স্টাফদের আচরণ, নজরদারি ক্যামেরা এবং একাকীত্ব তাকে চরম মানসিক চাপের মধ্যে ফেলেছিল।
তবে ৭৮ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত জানায়, দোষ স্বীকারের সময় তিনি কিছুটা উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগলেও তার মানসিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন ছিল এবং তিনি উচ্চ মাত্রার বোধশক্তি ও যুক্তিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।
আদালত চিকিৎসক, আইনজীবী ও কারা কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জানায়, দোষ স্বীকারের সময় তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে কারও কোনো উদ্বেগ ছিল না।
রায়ে আদালত আরও কঠোর মন্তব্য করে বলে, “ট্যারান্ট তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন।” আদালতের মতে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন, যাতে তার আপিল টিকে থাকে, যদিও সব প্রমাণই দেখায় তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ও যুক্তিসঙ্গতভাবে দোষ স্বীকার করেছিলেন।
আদালত জানায়, তার হামলার পেছনে সুস্পষ্ট মতাদর্শগত বিশ্বাস কাজ করেছে। তার সাবেক আইনজীবী শুনানিতে বলেন, ট্যারান্ট কখনোই সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ এড়াতে চাননি, বরং তিনি চান তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত হোক।
শুনানিতে আরও উঠে আসে যে, হামলার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ার খবর শুনেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, যা আদালতের মতে তার মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
২০১৯ সালের একটি মনোবৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের তথ্যও রায়ে উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয় তার পরিবার তার মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাবের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত। বিশেষ করে ২০১৭ সাল থেকে তার বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালত আরও জানায়, দোষ স্বীকারের পর তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করলেও তা আদালত কর্তৃক নিয়োজিত মূল্যায়নকারীদের কাছেই সীমাবদ্ধ ছিল, তার আইনজীবীদের কাছে নয়। আদালতের মতে, এই অনুশোচনা ছিল সাজানো এবং শাস্তি কমানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল।
রায়ের পর ভুক্তভোগীদের একজন আয়া আল-উমারি, যিনি হামলায় তার ভাইকে হারিয়েছেন, বলেন আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক হয়েছে এবং এটি ন্যায়বিচারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, শুনানির সময় তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে আপিল এগোনোর মতো কোনো ভিত্তি নেই, তবে মনে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়। ভবিষ্যতে ট্যারান্টকে আবার দেখা যাবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, অতীত আচরণ বিবেচনায় তিনি মনে করেন এমন সম্ভাবনা আবারও থাকতে পারে।
আদালতের এই রায় ট্যারান্টের আইনি লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হলেও বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিউজিল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন অথবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছেও বিষয়টি তুলতে পারেন।
আদালতের আজকের সিদ্ধান্ত ভুক্তভোগীদের জন্য বড় স্বস্তি আনলেও আইনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা এখনো নেই।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au