ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ভেতর ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী জুবায়েরের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে অধ্যাপক জামাল দৌড়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত একটি গাড়িতে উঠে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন। ধাওয়া করেও তাঁকে থামাতে পারেননি জুবায়ের।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর জুবায়ের নিজের ফেসবুকে লিখেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা নীল দলের কয়েকজন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁদের গোপন বৈঠকে যুক্ত থাকার খবর পেয়ে ‘পাকড়াও’ করতে যান। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা গাড়িতে পালিয়ে গেছেন।
প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেননি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে অধ্যাপক জামালসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগঘেঁষা শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ছিলেন। খবর পেয়ে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পরে জুবায়েরের নেতৃত্বে অধ্যাপক জামালকে ধাওয়া করা হয়।
জুবায়ের গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক হন। ক্যাম্পাসে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের পর গত অক্টোবর মাসে হকার, ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ‘অভিযান’ চালিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন।
হেনস্তার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সিঁড়িতে অধ্যাপক জামালকে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন জুবায়ের। জামাল নিজেকে ছাড়িয়ে নিচে নামতেই তাঁকে ধাওয়া করা হয়। অবশেষে তিনি একটি গাড়িতে উঠে পড়লে জুবায়ের দরজা ধরে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করেন। ভিডিওটি পরে নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেন জুবায়ের।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, অধ্যাপক জামাল ও নীল দলের নেতা জিনাত হুদাসহ পাঁচ শিক্ষক ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ এবং তাঁরা ক্যাম্পাসে গোপন মিটিং করছিলেন। জুবায়ের লেখেন, তাঁদের পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষকরা গাড়িতে পালিয়ে গেছেন। আরও অভিযোগ করেন যে, নীল দলের শিক্ষকরা ক্লাস ও পরীক্ষা বয়কট হওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে এসে উসকানি দিচ্ছেন।
অধ্যাপক জামাল বলেন, নীল দলের আহ্বায়ক হওয়ার পর তাঁরা কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। ফেরার পথে অনুষদ ভবনে চা খেয়ে বের হচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন ছাত্র তাঁদের পথরোধ করে। তাঁর ভাষায়, ছাত্ররা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং ব্যাংক কার্ডসহ সবকিছু নিয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডাকসুর একজন প্রতিনিধি হয়ে কেউ কি এভাবে হামলা চালাতে পারে?
ঘটনার সময়ে সঙ্গে থাকা শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তা এখন যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং তিনি এটিকে হত্যাচেষ্টার সমপর্যায়ের ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রক্টর ও উপাচার্য ঘটনার পরও তাঁদের খোঁজ নেননি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যাম্পাসজুড়ে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, আর শিক্ষকসমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au