মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- ঢাকা ৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিজয়নগর এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগ থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ অথ্য অনুযায়ী শরিফ ওসমান হাদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘হাদীর মাথায় বুলেটের আঘাত আছে। বুকে ও পায়েও আঘাত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, পায়ের আঘাতটা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে হতে পারে। আমরা ঢাকা মেডিকেলে একটা প্রাথমিক সার্জারি (অস্ত্রোপচার) করেছি। এখন তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের সম্মতিতেই তাকে এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে। পরিবার প্রথমদিকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এভারকেয়ারে নেওয়ার কথা বলেছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রস্তুত রয়েছে। এখনই তাকে সেখানে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’
ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, হাদীর মাথার ভেতরে গুলি রয়ে গেছে এবং সার্জনরা সেটি অপসারণের জন্য অপারেশন করেছেন। তিনি বলেন, রোগীর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন ধরা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
হাদির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ঢামেকের চিকিৎসকেরা যে সর্বশেষ আপডেট দিয়েছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি কোমায় চলে যান এবং তার গ্লাসগো কোমা স্কোর (GCS) মাত্র ৩ এ নেমে এসেছে। সচেতনতার মূল্যায়নে এটি সবচেয়ে নিচের স্কোর, যা রোগীর গভীর কোমা এবং মারাত্মক মস্তিষ্ক আঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
এই অবস্থায় চোখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, কথার কোনো সাড়া নেই, শরীরেও কোনো নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি জীবন সংকটাপন্ন অবস্থার সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়।
চিকিৎসকদের সার্বিক মূল্যায়ন হলো, হাদির অবস্থার অবনতি খুব দ্রুত হয়েছে এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখতে আইসিইউতে সর্বোচ্চ মাত্রার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মাথায় গুলি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এমন অবস্থায় রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম ধরা হয়, বিশেষ করে যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে GCS স্কোর ৩ এ নেমে আসে।
হাসপাতাল সূত্রের ভাষায়, “তার ক্ষেত্রে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।
ঢামেকে সেই চিকিৎসা আপডেট হুবহু তুলে ধরা হলো—
১) “ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ”
মানে তিনি গুলির আঘাত পেয়েছেন। সাধারণত গুলিবিদ্ধ হলে রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, স্নায়ু বা মস্তিষ্কে ক্ষতি—সবকিছুই হতে পারে। কোথায় গুলি লেগেছে তার ওপর অবস্থা নির্ভর করে, কিন্তু এখানে যেটা বলা হয়েছে, তা খুবই ক্রিটিক্যাল।
২) “কোমায় চলে গেছেন”
কোমায় থাকা মানে তিনি অচেতন অবস্থায় আছেন, কোনো ধরনের সাড়া দিচ্ছেন না। মস্তিষ্ক খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।
৩) “GCS Score – 03” (Glasgow Coma Scale)
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। GCS হলো একজন রোগীর সচেতনতার স্তর পরিমাপের একটা আন্তর্জাতিক স্কেল।
৩টি জিনিস দেখা হয়:
স্কোর মোট ৩–১৫
GCS 3 মানে:
এটা সাধারণত গভীর কোমা বা গুরুতর মস্তিষ্ক আঘাত বোঝায়। রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
সারসংক্ষেপ:
চিকিৎসকরা যে বার্তা দিয়েছে, সেটা বোঝাচ্ছে— ওসমান হাদীর অবস্থার অবনতি খুব দ্রুত হয়েছে, তিনি গভীর কোমায় আছেন এবং বাঁচানোর জন্য তাৎক্ষণিক, উচ্চমাত্রার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। Prognosis (বেঁচে থাকার সম্ভাবনা) খুবই কম ধরা হয় যখন GCS 3 থাকে, বিশেষ করে গুলিবিদ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au