চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হাসপাতালটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল বলেই সেখানে হামলা চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং তারা সবাই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্য ও তাদের সমর্থক। সেনাবাহিনী বলছে, অভিযানে কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হননি।
শনিবার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর তথ্য দপ্তরের এক বিবৃতিতে এসব দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের ম্রাউক-উ শহরের জেনারেল হাসপাতালটি আরাকান আর্মি ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সসহ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করছিল। এ অবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত বুধবার সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়।
তবে সামরিক জান্তার এই দাবির সঙ্গে একমত নন প্রত্যক্ষদর্শী, মানবিক সহায়তাকর্মী, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, হামলার সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক। হাসপাতালটিতে জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও শল্যচিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল বলেও জানানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর ধারাবাহিক হামলারই অংশ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক এ ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফলকার টুর্ক বলেন, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও তাঁদের স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় হাসপাতালের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ওয়ার্ড পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ম্রাউক-উ শহরটি মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরাকান আর্মি। এরপর থেকেই অঞ্চলটিতে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au