আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আঁকা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি মুছে দিয়েছে হল প্রশাসন। রাজাকার হিসেবে চিত্রিত গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও কাদের মোল্লার এসব ছবি মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ হল সংসদ।
জগন্নাথ হল সংসদের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ‘চিত্র প্রদর্শনী ও তুলির সাহায্যে দ্রোহ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে শনিবার রাত ১৩ ডিসেম্বর জগন্নাথ হল এলাকার রবীন্দ্রভবন ও অক্টোবর স্মৃতি ভবনসংলগ্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি আঁকেন। তবে রোববার ১৪ ডিসেম্বর সকালে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব ছবি মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকার বিষয়ে আগে কোনো অনুমতি নেয়নি। বুদ্ধিজীবী দিবসে এ ধরনের চিত্রাঙ্কন আগে কখনও হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি পল্লব বর্মন বলেন, রোববার সকাল ১১টায় তাদের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হল সংসদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই প্রশাসন ছবিগুলো মুছে দিয়েছে। তিনি বলেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এর তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।
জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি না থাকায় হল সংসদের উদ্যোগে ‘তুলির আঁচড়ে দ্রোহ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থীরা স্বীকৃত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ছবি এঁকেছিলেন। কিন্তু হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিলেই সেসব ছবি মুছে দিয়েছে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওপর থেকে নির্দেশ এসেছিল।
হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস বলেন, প্রশাসন কোনো পূর্ব নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই ছবিগুলো মুছে ফেলেছে। তিনি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত প্রতিবাদলিপি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দাড়ি ও টুপিকে ব্যবহার করে রাজাকারদের পক্ষে যে ধরনের ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনার চেষ্টা করা হয়, তার বিপরীতে অবস্থান তুলে ধরতে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি টানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিল্পকর্ম মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ হলসহ পুরো ক্যাম্পাসে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au