‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- মহান বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছরের মতো এবারও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য বর্ধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা। রাষ্ট্রীয় অতিথি থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা মাথায় রেখে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মূল বেদি পর্যন্ত পুরো এলাকা ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করে তোলা হয়েছে। রক্তিম ইটের ওপর সাদা রঙের ছোঁয়ায় সৌধ এলাকা আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক হয়ে উঠেছে। স্মৃতিসৌধের লেকগুলো সংস্কার করে নতুন পানিতে লাল শাপলা লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে সাজানো হয়েছে বাহারি রঙের ফুলগাছ। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও এলইডি লাইট। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকায় বর্ণিল আলোকসজ্জা নজর কাড়ছে।
এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে জানানো হয়েছে, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন লাগানো যাবে না। একই সঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগান ও সৌন্দর্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান আনু বলেন, মহান বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ লাখো মানুষ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসবেন। সে লক্ষ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স ধোয়া-মোছা, লেক সংস্কার, সিসিটিভি স্থাপন এবং ফুলগাছ লাগানোর কাজ আগেই শেষ করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ৬ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
তার ভাষায়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নাম না জানা লাখো শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় ভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে ভোরবেলায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ কিছু সময়ের জন্য সীমিত থাকবে।
এদিকে শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। পরিদর্শনকালে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, তাদের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমাল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাদা পোশাকে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত দর্শনার্থীরা স্মৃতিসৌধে উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au