ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় এক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো সাহসী ব্যক্তি আহমেদ এল আহমেদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। হামলার সময় তিনি একাধিক গুলিবিদ্ধ হলেও চিকিৎসকদের মতে, তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানের বাবা সিডনির বাসিন্দা আহমেদ এল আহমেদ ধীরে ধীরে এক বন্দুকধারীর পেছনে এগিয়ে যান। ফলের দোকানের মালিক আহমেদ, যার বয়স চল্লিশের কোঠায় বলে ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীর হাত থেকে শটগানটি কেড়ে নেন। পরে বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি আহত হন।
হামলার পর তাকে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুইটি গুলির ক্ষতের জন্য তার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহমেদের অবস্থা আশাব্যঞ্জক এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আহমেদের জন্য অনলাইনে অনুদান সংগ্রহ শুরু হয়। একটি ক্রাউডফান্ডিং ওয়েবসাইটে তার নামে খোলা তহবিলে অস্ট্রেলিয়ান ইস্টার্ন ডে লাইট টাইম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জমা পড়ে, যা প্রায় ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি।
এই অনুদানদাতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ধনকুবের ও হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক বিল অ্যাকম্যানও রয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পরপরই আহমেদের জন্য একটি অনুদান পেজ খোলার আহ্বান জানান অ্যাকম্যান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, আহমেদ ও তার পরিবারের জন্য যেন সবাই সম্মান ও সহায়তা জানাতে পারে, সে জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনুদান পেজ খোলা প্রয়োজন। পরে তিনি নিজেই ওই তহবিলে ৯৯ হাজার ডলার অনুদান দেন।
আজ সকালে আহমেদের এক আত্মীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আহমেদকে একজন প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন। তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবাই যেন আহমেদের সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানায়, যাতে তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন।
আহমেদের ওই আত্মীয় জানান, হামলার সময় বন্দুকধারীরা একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিকেই লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল। শুরুতে গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ বলে মনে হয়েছিল। তিনি বলেন, জীবনে এটিই ছিল তার দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।
এদিকে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণকারী থিওডোর ওকুর জানান, শুটিং শুরু হওয়ার সময় তিনি বন্ডাই বিচেই ছিলেন। পরে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন। তিনি বলেন, শুরুতে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে তিনি এমন একটি দৃশ্য ধারণ করছেন। আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এত ভয়ংকর ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ধারণকারী হওয়া তার জন্য একই সঙ্গে সৌভাগ্য ও আতঙ্কের ছিল।
আহমেদের আত্মীয় আরও জানান, তার দুইটি ছোট মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স পাঁচ ও ছয় বছর। তবে ঘটনার পর এখনো সরাসরি আহমেদের সঙ্গে বা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি।
আহমেদের এই সাহসী ভূমিকা অস্ট্রেলিয়াসহ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ অনেক বিশ্বনেতা তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রুপালি রঙের গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে ধীরে ধীরে বন্দুকধারীর দিকে এগিয়ে যান আহমেদ। এরপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে গলা চেপে ধরেন এবং অস্ত্র নিয়ে কুস্তি করেন। এক পর্যায়ে বন্দুকধারী অস্ত্রটি ছেড়ে দিলে আহমেদ সেটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। তবে তিনি বন্দুকটি দিয়ে গুলি না চালিয়ে আশপাশের লোকজনের সহায়তার জন্য সংকেত দেন।
ভয়াবহ সেই মুহূর্তে আহমেদের সাহসী পদক্ষেপ আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষ।
সূত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au