আরও এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আরেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। শনিবার সকালে এরফান কিয়ানি নামের এক ব্যক্তির সাজা কার্যকর করা…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- বন্ডাই বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির জাতীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ রাজ্য ও টেরিটরি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গতকাল বন্ডাই বিচে হানুক্কাহ উদ্যাপনকালে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৫ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং আরও বহু মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পর আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দেশব্যাপী অস্ত্র আইনে কড়াকড়ি আরোপে সবাই একমত হয়েছেন। তবে কোন কোন সংস্কার কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন তা সীমিত করা, শুধু অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা, মেয়াদহীন বা অনির্দিষ্টকালের অস্ত্র লাইসেন্স ব্যবস্থা বাতিল করা এবং কোন ধরনের অস্ত্র বৈধ হবে তা আরও কঠোরভাবে নির্ধারণ করা। পাশাপাশি অস্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন বা মডিফিকেশন নিয়েও নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা এবং অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য আরও বেশি ব্যবহার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আলবানিজ বলেন, জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনাসহ অস্ত্র আইন সংস্কারে দ্রুত, দৃঢ় ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে নেতারা একমত হয়েছেন। তিনি জানান, এই সংস্কার কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার রজার কুককে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফেডারেল সরকার অস্ত্র আমদানির ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও কাজ শুরু করবে। জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তা কার্যকর হওয়ার কথা। ২০২২ সালে উইয়ামবিলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর গত বছরের ডিসেম্বরে এই উদ্যোগে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নাভিদ আকরাম গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগেই গণমাধ্যমে কথা বলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স। তিনি বলেন, তার রাজ্যেও অস্ত্র আইন আরও কঠোর করা হবে, তবে আইন প্রণয়নের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কেউ যদি কৃষক না হন বা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তাহলে এমন ভারী অস্ত্রের প্রয়োজন কী, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং পুলিশের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
মিন্স বলেন, বর্তমানে যেসব আইনে আজীবনের জন্য অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়া হয়, তা স্পষ্টতই সময়োপযোগী নয়। নিউ সাউথ ওয়েলসের জন্য কার্যকর ও বাস্তবসম্মত অস্ত্র আইন নিশ্চিত করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের হাতে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র থাকার কোনো প্রয়োজন নেই এবং এসব অস্ত্র নিউ সাউথ ওয়েলসের রাস্তায় থাকা উচিত নয়।
প্রিমিয়ার মিন্সের পাশে দাঁড়িয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানান, অভিযুক্ত সাজিদ আকরাম ২০১৫ সাল থেকে বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সধারী ছিলেন। ওই লাইসেন্সের আওতায় তিনি বিনোদনমূলক শিকারের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করতে পারতেন এবং তিনি একটি গান ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ল্যানিয়ন বলেন, তার ক্যাটাগরি এ ও বি লাইসেন্স ছিল, যার মাধ্যমে নিবন্ধিত দীর্ঘ অস্ত্র রাখার অনুমতি ছিল।
লাইসেন্স অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করে দেখে আবেদনকারী লাইসেন্স রাখার উপযুক্ত কি না। নাভিদ আকরাম ২০১৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইওর নজরে ছিলেন, এমন তথ্য সামনে আসার পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। ল্যানিয়ন বলেন, লাইসেন্স আবেদনকারীর সঙ্গে নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্ক থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসে এবং বিদ্যমান সব গোয়েন্দা তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
হামলার পর রাতভর বনিড়িগ ও ক্যাম্পসির একাধিক বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তের নামে নিবন্ধিত ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় একটি শটগান ও একটি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় আরও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স।
সূত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au