আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে এখনো সমঝোতা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে ন্যাটো ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বার্লিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব দেন। কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি নজিরবিহীন উদ্যোগ হলেও প্রস্তাবটি অনির্দিষ্টকালের জন্য খোলা থাকবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে বার্লিন বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো মস্কোর পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে। তিনি জানান, বার্লিনে আলোচনায় যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের নৈশভোজে তিনি ফোনে অংশ নিয়েছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার কথা হয়েছে এবং পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সমাধানের কাছাকাছি এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বদলের ইঙ্গিতকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। জার্মান চ্যান্সেলর ও আলোচনার আয়োজক ফ্রেডরিখ মারজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাস্তব বলে মনে হচ্ছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বার্লিন ছাড়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমবার তাঁর মনে হয়েছে সবাই এক জোটের মিত্রের মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, যাতে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকবে না যে আবার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে, যা টেকসই শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং রাশিয়া আদৌ শান্তি চায় কি না, সে বিষয়ে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে।
আলোচনার পর জেলেনস্কি বলেন, মস্কো যদি কিয়েভ, ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় নেতাদের আলোচিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রসহ অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করবেন। হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুতিন সবকিছু নাকচ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়বে এবং ইউক্রেন আরও অস্ত্র পাবে বলে তিনি আশা করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের ওপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এই প্রস্তাব ইউক্রেনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। জেলেনস্কি আগেই ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নকে বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং আলোচনার পর আবারও স্পষ্ট করেন, ইউক্রেন ডনবাসকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে আইনি বা কার্যকর কোনো স্বীকৃতি দেবে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা কনফারেন্স কলে সাংবাদিকদের জানান, আলোচনার প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়ে গেলেও মতপার্থক্য দূর করতে একাধিক সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউক্রেন শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা কোনো ভূখণ্ড রাশিয়াকে ছেড়ে দেবে না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। আলোচনা সম্পর্কে অবহিত এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া এখনো তাদের দাবিতে ছাড় দেয়নি। পরিবেশ ইতিবাচক হলেও মূল বিষয়ে অগ্রগতি পেতে সময় লাগবে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au