ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে আসন্ন বড়দিন ঘিরে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে আছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা। সাম্প্রতিক সময়ে গির্জা ও খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা, বোমা বিস্ফোরণ এবং হুমকির ঘটনায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে বড়দিন এবার স্বাভাবিক পরিবেশে উদযাপন করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, এমনকি সামরিক নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে খ্রিস্টানদের সংখ্যা এক শতাংশেরও কম। এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা বড়দিনের আনন্দে ছায়া ফেলেছে। দিনাজপুর ডায়োসিসের বিশপ সেবাস্তিয়ান টুডু বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে এখন স্পষ্টভাবে ভয় কাজ করছে। সেই কারণে সব প্যারিশ পুরোহিতকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকায় গির্জা ও গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য করে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠির মাধ্যমে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক আগেই সক্রিয় হয়েছে এবং বিভিন্ন গির্জা ও প্রতিষ্ঠান ঘিরে তদন্ত ও নজরদারি শুরু করেছে।
বিশপ টুডু আরও বলেন, বড়দিনের নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবু আতঙ্কের কারণে সব প্যারিশ পুরোহিতকে গভীর রাত পর্যন্ত বড়দিনের কোনো অনুষ্ঠান না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আতঙ্কের মধ্যেও প্রতি বছরের মতোই ১৫ ডিসেম্বর প্রাক-বড়দিন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন। তবে আয়োজনে ছিল বাড়তি সতর্কতা।
এর আগে ৭ নভেম্বর ঢাকার সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালে দুটি হাতবোমা ছোড়া হয়। এর একটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরদিন সেখানে জুবিলি উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ক্যাথেড্রাল থেকে কয়েক মাইল দূরে সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটে একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর ঠিক এক মাস আগে, ৮ অক্টোবর ঢাকার খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত হলি রোজারি চার্চের গেটেও একই ধরনের বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ছাড়া ২ ডিসেম্বর ‘তাওহিদি মুসলিম জনতা’ নামে বাংলা ভাষায় লেখা একটি চিঠি পাঠানো হয় দেশের দুটি স্বনামধন্য ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো হলি ক্রস ফাদারদের পরিচালিত নটর ডেম কলেজ এবং হলি ক্রস সিস্টারদের পরিচালিত হলি ক্রস কলেজ। চিঠিতে ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে হুমকি দেওয়া হয়।
ঢাকার একটি কারখানায় কর্মরত ৩৭ বছর বয়সী রাজু বিশ্বাস প্রতি বছর ২৩ ডিসেম্বর নিজ গ্রাম সাতক্ষীরায় যান পরিবারের সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করতে। এবারও তিনি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা থাকায় গ্রামে যেতেই হবে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশে রাজনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, তার ওপর গির্জার সামনে বোমা ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক কাজ করছে।
রাজু বিশ্বাসের মতে, বড়দিন উপলক্ষে অন্তত চার দিন, অর্থাৎ বড়দিনের দুই দিন আগে থেকে বড়দিনের পরের দিন পর্যন্ত প্রতিটি গির্জায় জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
বড়দিনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে ১৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিওর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলে ঢাকার আর্চডায়োসিসের সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালের প্যারিশ পুরোহিত ফাদার আলবার্ট থমাস রোজারিওও উপস্থিত ছিলেন।
ফাদার রোজারিও বলেন, আর্চবিশপসহ আমরা কেউই এবার বড়দিনকে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে দেখছি না। এবার আমরা বেশি উদ্বিগ্ন ও ভীত। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে আমাদের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং খ্রিস্টানরা যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ইতোমধ্যে আর্চবিশপের বাসভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব গির্জায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং হাতে হাতে তল্লাশির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফাদার রোজারিও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আরও বৈঠক হবে। সেখানে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হবে এবং সরকারের কাছে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য জোরালো আবেদন জানানো হবে।
সূত্রঃ ন্যাশনাল ক্যাথলিক রেজিস্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au