চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে ক্রমাবনত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের প্রতি হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাতে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ ও সহিংস কর্মসূচির পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার শাখার দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব বি শ্যাম এই বৈঠকে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন এবং কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে কূটনৈতিক স্থাপনাকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ভারত তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্য। সোমবার ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে পারে। একই বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য ভারতকে দায়ী করেন। তার এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ভ্রান্ত বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে দিল্লি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্পষ্টভাবে চাপে রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান এবং সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হচ্ছে। অতীতেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে প্রভাবিত করে এমন জঙ্গি তৎপরতায় বাংলাদেশের কিছু সরকারের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশি হাইকমিশনার তলবের দিনই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের প্রতি দাবি জানালেও, ভারত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে ঢাকা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনাবলিতে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর চাপে পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au