মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু-মুসলিম বিভাজন উসকে দেওয়ার পথে হাঁটছেন এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হিন্দু দেবদেবী ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, যা রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তিনি বিশেষভাবে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একটি মন্তব্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে প্রভু রামকে মুসলমান বলে দাবি করা হয়েছে।
গৌরব ভাটিয়ার বক্তব্য, এই মন্তব্যে কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। বিজেপির মতে, এই নীরবতা প্রমাণ করে যে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভাটিয়া বলেন, “মদন মিত্রের মতো নেতারা এমন মন্তব্য করছেন, আর মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে আছেন। এতে স্পষ্ট হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধানোর পথে দলকে ঠেলে দিচ্ছেন।”
বিজেপি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় আঁচ করতে পেরেই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে এমন বক্তব্য সামনে আনছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের বদলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে।
এ সময় গৌরব ভাটিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত মন্তব্যও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ এবং মহাকুম্ভ মেলাকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলা নিয়ে বিতর্কের কথা।
ভাটিয়ার প্রশ্ন, “হিন্দু ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে তৃণমূল নেতারা যেভাবে মন্তব্য করছেন, অন্য কোনো ধর্ম নিয়ে তারা কি একই সাহস দেখাতে পারতেন?” তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে বিজেপি মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এসব বিষয় লক্ষ্য করছেন এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au