‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- দিনভর রাকসুর মবের আন্দোলন, তালা ও উত্তেজনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানিয়েছেন। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে তারা উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানান, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ডিনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর ডিনরা উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানিয়েছেন। উপাচার্য তাদের আবেদন গ্রহণ করলেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব শেষ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিন বলেন, উপাচার্য তাদের ডেকেছিলেন এবং আগেও মৌখিকভাবে দায়িত্ব না রাখার কথা জানানো হয়েছিল। রোববার লিখিতভাবেই সেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে রোববার সকালে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিন ও আওয়ামীপন্থি কয়েকজন শিক্ষকের কার্যালয়ে যান। তবে সে সময় কেউ নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না। পরে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরেও তালা দেওয়া হয়।
আন্দোলনের বিষয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আওয়ামীপন্থি ডিনদের দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ করা হয়েছে এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ রাখার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি তালিকা তৈরির কথা উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য আহ্বান করেন।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ডিনরা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলে প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। পরে রাতে আরেক দফা বৈঠকে ডিনরা দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং শিক্ষা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২টি অনুষদের মধ্যে আওয়ামীপন্থি হলুদ প্যানেল থেকে ছয়জন ডিন নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন উপাচার্য।
দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করা ছয় ডিন হলেন আইন অনুষদের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক ড. এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের এ এইচ এম সেলিম রেজা।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করলেও রাতে ডিনদের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au