মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক ভারত সফর শেষ হলেও বিতর্ক যেন থামছেই না। কলকাতার সল্টলেকের যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত শুরু হওয়ার পর একে একে বেরিয়ে আসছে আয়োজনের অন্দরমহলের তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ভারতে আনতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, মেসির ভারত সফরের জন্য চুক্তিমূল্য হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে কর বাবদ ভারত সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে আরও ১১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকা।
তবে এত বড় অঙ্কের খরচ তুলতে গিয়ে আয়োজনটি আর্থিকভাবে বড় ঘাটতির মুখে পড়ে। তদন্তে জানা গেছে, টিকিট বিক্রি ও বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ পাস বিক্রি করে মোট খরচের মাত্র ৩০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। স্পনসরদের কাছ থেকেও এসেছে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ। অর্থাৎ পুরো আয়োজনেই বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের।
কলকাতায় মেসিকে এক নজর দেখতে ন্যূনতম সাড়ে চার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন দর্শকরা। এর বাইরে হোটেলে আয়োজিত বিশেষ সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার সুযোগের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। তবু প্রত্যাশিত রাজস্ব আসেনি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার পর কলকাতার নির্ধারিত কর্মসূচি আগেভাগেই বাতিল করা হয়। ঘটনার পর হায়দরাবাদ যাওয়ার সময় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেসির ব্যক্তিগত বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তেই তাকে আটক করে পুলিশ।
টানা জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু আরও জানান, মেসি ভিড়ের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ একেবারেই পছন্দ করেন না এবং বিষয়টি আগেই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। তবুও অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
সব মিলিয়ে মেসির ভারত সফর ঘিরে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা এখন রূপ নিয়েছে আর্থিক অনিয়ম, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে আলোচনায়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আয়োজনের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।