আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী ঢাকায় সংঘবদ্ধ জনতার হামলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়সহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়। হামলার সময়ের ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া একজন ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলার রাতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ লুট করার কথা স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বাকি লুটের টাকা দিয়ে ওই ব্যক্তি একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। সেগুলোও ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে, আবার কারও বিরুদ্ধে আগের অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় তিন দিন পর সোমবার প্রথম আলো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করা হয়। মব সৃষ্টি করে কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলাটি করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা দাঙ্গা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে প্রথম আলো কার্যালয়ে প্রবেশ করে লুটপাট চালায়, ব্যাপক ক্ষতি করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ করে। একই সঙ্গে তারা পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করতে ও অপরাধের আলামত নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসকেও বাধা দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু লুট হয়ে যাওয়া মালামালের মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এই হামলার কারণে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠার পর গত ২৭ বছরে এই প্রথম ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করতে পারেনি। পাশাপাশি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের কার্যক্রমও প্রায় ১৭ ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
একই রাতে হামলার শিকার হয় দ্য ডেইলি স্টার। পত্রিকাটির অফিসের নিচতলা ও দোতলা আগুনে পুড়ে যায়। ব্যাপক ভাঙচুরে অফিসের ভেতরের আসবাব, যন্ত্রপাতি ও নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্য ডেইলি স্টারও সাড়ে তিন দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯ ডিসেম্বর ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে মামলা হয়নি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গণমাধ্যম কার্যালয়ের পাশাপাশি ওই রাতেই ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন এবং শেখ মুজিবের বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন রাতে ঢাকার তোপখানা রোডে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
হামলার ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এই হামলাকে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে হামলার পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, পত্রিকা দুটির সম্পাদকের নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাসভবনেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। হামলার পেছনে কারা পরিকল্পনা করেছে এবং কীভাবে এই সহিংসতা সংগঠিত হয়েছে, তা বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au