সরকার পতনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কারা পেয়েছিলেন
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ‘ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার পতনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে’ এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন ২৪ ডিসেম্বর: সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের ক্যান্টারবেরি-ব্যাঙ্কস্টাউন সিটি কাউন্সিল বিতর্কিত ইসলামি ধর্মপ্রচারক উইসাম হাদ্দাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রেয়ার কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর এই কেন্দ্রটি নজরদারির আওতায় আসার পর কাউন্সিল এটিকে “অবৈধভাবে পরিচালিত নামাজঘর” বলে চিহ্নিত করেছে।
কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭০ সাল থেকে ভবনটির রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এটি মূলত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে অনুমোদিত ছিল, ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক নজরদারিতে দেখা যাচ্ছে, সেটি অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে গিয়ে ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন,
“আমাদের সাম্প্রতিক নজরদারিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ভবনটি অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, বন্ডাই বিচে বন্দুকধারী হিসেবে অভিযুক্ত নাভিদ আকরাম উইসাম হাদ্দাদের পরিচালিত একটি দাওয়াহ আন্দোলনের অনুসারী ছিলেন। তবে হাদ্দাদের আইনজীবী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বন্ডাই হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে আল মাদিনা গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বর্তমানে কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এবং হাদ্দাদ এর সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে যুক্ত নন। সংগঠনটি বলে, প্রশাসনিক বা ভবনসংক্রান্ত বিষয়কে চরমপন্থা বা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর।
তারা দাবি করে, হাদ্দাদের কোনো পরিচালনাগত ক্ষমতা নেই এবং তিনি কেবল অতিথি বক্তা হিসেবে মাঝে মাঝে বক্তব্য দেন। ভবনটির ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সময় তারা ভেবেছিলেন, নতুন করে কোনো উন্নয়ন অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স কাউন্সিলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
“এটি শুধু ওই এলাকার জন্য নয়, পুরো রাজ্যের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।”
কাউন্সিল জানায়, এর আগেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জর্জেস হল এলাকার এলডন স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ভবনে হাদ্দাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, যেখানে অনুমোদন ছিল জিম হিসেবে ব্যবহারের, কিন্তু সেখানে নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘন হলে ব্যক্তি পর্যায়ে ৩ হাজার ডলার এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৬ হাজার ডলার জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
১৫ ডিসেম্বর, বন্ডাই হামলার পরদিন, আল মাদিনা গ্রুপ ফেসবুকে জানায় যে তারা আগের ভাড়াটে আল মাদিনা দাওয়াহ সেন্টারের কাছ থেকে কেন্দ্রটির দায়িত্ব নিয়েছে এবং হাদ্দাদের সঙ্গে তাদের কোনো পরিচালনাগত সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনা আবারও অস্ট্রেলিয়ায় ধর্মীয় চরমপন্থা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au