আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা হঠাৎ তৈরি হয়নি। টানা ১৮ মাস ধরে জমে ওঠা এক অনিশ্চিত বাস্তবতা, অসম্পূর্ণ বিপ্লব, নির্বাচিত ন্যায়বিচার এবং সহনীয় বলে মেনে নেওয়া রাজপথের সহিংসতা ধীরে ধীরে দেশটিকে আবার অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে পরিবর্তনের আশায় মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই আশাই এখন প্রশ্নের মুখে।
মূলত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্ন্তবর্তী সরকার যে আগুন নিয়ে খেলছিল, সেই আগুনেই এখন বাংলাদেশ আবার জ্বলছে।
বাংলাদেশের এই বাস্তবতার সঙ্গে ইতিহাসের এক ভয়াবহ মিল টানছেন প্রবীণ সাংবাদিক মাতিউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি ‘আগুন নিয়ে খেলা’ শিরোনামে একটি লেখা ছেপেছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র একতার সম্পাদক। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে দিয়ে দমন অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই দিনই স্পষ্ট হয়ে যায়, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ ছেড়ে সহিংসতার দিকেই এগোচ্ছে।
মাতিউর রহমান পরে সেই ঘটনা স্মরণ করেছিলেন, পত্রিকা ছাপাখানায় পাঠিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দেখেছিলেন, সাধারণ মানুষ লাঠি হাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও পত্রিকাটির সেই সংখ্যা আর পাঠকের হাতে পৌঁছায়নি। ওই রাতেই ঢাকায় নেমে আসে পাকিস্তানি বাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণ। শহর ছেড়ে মাতিউর রহমান যোগ দেন বাঙালি বিদ্রোহীদের সঙ্গে। শুরু হয় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, যার পর জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
আজ, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর, দেশ আবার এক অস্বস্তিকর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রাজনৈতিক রূপান্তরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা পূরণ হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার। সহিংসতার ঘটনার পর সরকারকে নিষ্ক্রিয় কিংবা দোদুল্যমান বলেই দেখছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বাছাই করা বিচার এবং রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি মানুষের আস্থাকে ক্ষয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস বারবার সতর্ক করেছে, আগুন নিয়ে খেললে তার আঁচ শেষ পর্যন্ত সবাইকেই পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা যেমন একটি জাতিকে রক্তের ভেতর দিয়ে স্বাধীনতার পথে ঠেলে দিয়েছিল, তেমনি বর্তমান অস্থিরতাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংকট উপেক্ষা করলে তার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বাংলাদেশ আজ আবার সেই কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি। রাষ্ট্র কি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, নাকি সহনীয় বলে মেনে নেওয়া সহিংসতা ধীরে ধীরে পুরো দেশকেই গ্রাস করবে। ইতিহাসের পাতায় লেখা সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ হয়তো আর নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au