আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন আজ বৃহস্পতিবার। খ্রিষ্টান বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও শান্তির পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যেই তাঁর পৃথিবীতে আগমন হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলোকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই গির্জা ও বিভিন্ন তারকা হোটেলে আলোকসজ্জা করা হয়। রাত ৭টা থেকে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
বড়দিন উপলক্ষে দেশের সব গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় তেজগাঁওয়ের জপমালা রানির গির্জায় প্রথম প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দিনভর বিভিন্ন সময় প্রার্থনা, ধর্মীয় সংগীত ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা।
তেজগাঁও ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গোমেজ বলেন, এবারের বড়দিন দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবুও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, বড়দিনের মূল শিক্ষা হলো শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতা। যিশুখ্রিষ্ট মানুষের মধ্যকার হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও সংঘাত দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যিশুর আগমনে মানুষের মধ্যে প্রেম, দয়া, আনন্দ ও সহমর্মিতা ছড়িয়ে পড়ার কথা। তাঁর জন্মোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সব খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর প্রতি বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় সবার কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানান ফাদার জয়ন্ত এস গোমেজ।
বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষের সেবা ও কল্যাণ। যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান এই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বড়দিনের উদযাপন এই সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবার সম্মিলিত প্রয়াস কামনা করেন।
বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে তৈরি হয় কেক ও বিশেষ খাবার। বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় গান ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই গ্রামে কিংবা প্রিয়জনের বাড়িতে যাচ্ছেন।
রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতেও বড়দিন ঘিরে বিশেষ আয়োজন দেখা গেছে। আলোকসজ্জার পাশাপাশি হোটেলের ভেতরে কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রি ও সান্তা ক্লজ স্থাপন করা হয়েছে। বড়দিন উদযাপনে নানা আয়োজন চলছে এসব হোটেলে।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে বড়দিন একটি পুণ্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। পবিত্র বাইবেলে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকলেও তাঁর জন্ম অলৌকিক ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এই দিনটি স্মরণ করতে গির্জায় প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয় ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে। খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস, এই ঘণ্টাধ্বনি শান্তি ও শুভ সংবাদ ছড়িয়ে দেয়।
যিশুখ্রিষ্ট মানুষের রূপ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষের মুক্তি ও পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করতে। সেই বার্তা ও শিক্ষা স্মরণ করেই বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করে থাকেন তাঁর অনুসারীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au