মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর: ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বড়দিন-যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন। ইতিহাসের পাতায় এটি কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনার স্মৃতি নয়; এটি মানবসভ্যতার এক গভীর নৈতিক জাগরণের সূচনা। প্রেম, ক্ষমা, ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধের যে শিক্ষা যিশু দিয়ে গেছেন, তা আজও বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রাসঙ্গিক।
যিশুর জন্ম হয়েছিল একটি সাধারণ পরিবারে, কোনো রাজপ্রাসাদে নয়। তিনি এসেছিলেন নিপীড়িত, বঞ্চিত এবং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর জীবন ও শিক্ষা আমাদের শেখায় যে প্রকৃত শক্তি আসে করুণা থেকে, আর প্রকৃত পরিবর্তন আসে ভালোবাসা ও ন্যায়ের পথ অনুসরণ করলে।
আজকের বিশ্ব সহিংসতা, বিদ্বেষ, যুদ্ধ এবং বিভাজনে জর্জরিত। ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে মানুষ মানুষকে শত্রু মনে করছে। ঘৃণা ও উগ্রবাদ আবারও সমাজের শিকড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বড়দিন আমাদের নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়-মানুষের পরিচয় আগে মানুষ হিসেবে, তারপর অন্য সব কিছু।
বড়দিন মানে শুধু উপহার আর আলো নয়। বড়দিন মানে নিজের হৃদয়ে আলো জ্বালানো। অন্যের কষ্ট বোঝা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। আর মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা।
ওটিএন বাংলা বিশ্বাস করে, বহুত্ববাদী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়াই আমাদের সবার দায়িত্ব। আজ বড়দিনে আমরা সেই অঙ্গীকারই নতুন করে করি-ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পাশে দাঁড়াবো।
শুভ বড়দিন। মানবতা ও আশার আলো সবার জীবনে ছড়িয়ে পড়ুক।
ওটিএন বাংলা