ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তাঁর দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার উমরপুর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু সুফিয়ান উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, এক কিশোরী স্বজনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সুফিয়ানকে ধরে নিয়ে খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে জখম করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু সুফিয়ান বলেন, একটি ছেলে তাঁর কিশোরী স্বজনকে উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি শান্তভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলেও জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা কোনো কথা না শুনে তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত–পা কেটে দেন।
সুফিয়ানের মা সুফিয়া বেগম জানান, কয়েক দিন আগে তাঁদের এক কিশোরী স্বজনকে এক যুবক অপহরণ করেছিল। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। তবে জামিনে বেরিয়ে ওই যুবক আবার মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। বুধবার বিকেলে উমরপুর ঘাটে সুফিয়ান ওই যুবককে ডেকে স্বজনকে বিরক্ত না করতে বলছিলেন। এ সময় স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক, শাহ আলমসহ জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী ওই যুবকের পক্ষ নিয়ে সুফিয়ানকে মারধর শুরু করেন। পরে রাজ্জাকের ওষুধের দোকানের সামনে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর ছেলে হাতজোড় করে বারবার বলেছিল সে দোষী নয় এবং প্রমাণ ছাড়া যেন তাকে মারা না হয়। তবু হামলাকারীরা তার কথা শোনেনি এবং নির্মমভাবে কোপাতে থাকে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শাহ আলম (২২) ও তাঁর ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। তাঁদের বাড়ি শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামে। রাজ্জাক একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং উমরপুর ঘাটে তাঁর একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। ওই দোকানের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির সাদিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতের কর্মী হলেও এই ঘটনায় তাঁরা জড়িত নন। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কে বিশ্বাস জানান, সুফিয়ানের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, চিকিৎসকদের না জানিয়ে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সুফিয়ানের মা জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে পর্যাপ্ত রক্তের ব্যবস্থা না থাকায় অস্ত্রোপচার করতে দেরি হয় এবং তাঁরা রাতেই ঢাকায় নিয়ে আসেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au