মুসলিম কবরস্থানে কবরের ওপর বিচ্ছিন্ন শূকর নিক্ষেপ, মসজিদে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি, মুসলিম নারীদের ওপর থুতু ছোড়া, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত অন্তত নয়টি মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্র ভাঙচুর বা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার ফলে পুলিশি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে। ফলে উপাসনালয়, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে এখন বাড়তি সতর্কতার মধ্যে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার পরের দিন নারেলান মুসলিম কবরস্থানে কাটা শূকরের মাথা ফেলে রাখা হয়। ছবি: news.com.au
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (ANIC) বলেছে, মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্যায়ভাবে নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে এবং সহিংসতার সঙ্গে তাদের “পরোক্ষভাবে যুক্ত” করা হচ্ছে, যদিও তারা এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসলামবিদ্বেষ, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং প্রকাশ্য সহিংসতার হুমকি বেড়ে যাওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় এখন ক্রাইস্টচার্চের মতো হামলার আশঙ্কায় ভীত হয়ে আছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
গত এক সপ্তাহে মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও দোষারোপের মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে যদিও ওই হামলাকারীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের “কোনো সম্পর্কই নেই।” এর প্রতিফলন ঘটেছে ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, মৌখিক নির্যাতন, শারীরিক ভয় দেখানো এবং অনলাইনে ঘৃণাত্মক প্রচারে।
কাউন্সিলের ‘অ্যাকশন এগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া’ উদ্যোগ জানিয়েছে, রিপোর্ট হওয়া মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তাদের সহায়তা হটলাইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, উদ্বিগ্ন অভিভাবক এবং মুসলিম কর্মীদের নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে বহু উদ্বেগজনক ফোন এসেছে। কলকারীরা বাড়তে থাকা নির্যাতন, অনলাইনে হুমকি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ভয় এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
ANIC আরও বলেছে, বিভাজনমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য ও দায়িত্বহীন গণমাধ্যম মন্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছে, ক্ষতিকর ধারণা জোরদার করছে এবং এমন এক পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ আরও উৎসাহ পাচ্ছে। “দুজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ও অন্যায্য প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য,” বিবৃতিতে বলা হয়।
কাউন্সিল জোর দিয়ে বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ও শক্তি নির্ভর করে সব ধরনের বর্ণবাদ সমানভাবে প্রত্যাখ্যান করার ওপর এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।