বাথরুমে পড়ে মারা গেলেন প্রখ্যাত বলিউড নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্ত
বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত মারা গেছেন। মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনে বাথরুমে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাঁর…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। শিক্ষক নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতির মন্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
রোববার শিক্ষক নেটওয়ার্ক ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এক্তিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ওই বিবৃতিতে রাকসু জিএসের ভূমিকার সমালোচনা করা হলে এর প্রতিক্রিয়ায় মন্তব্য করেন আম্মার। সেখানে তিনি সংক্ষেপে লেখেন, “শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আম্মার বলেন, তিনি তার মন্তব্য মুছে ফেলেননি। শিক্ষক নেটওয়ার্ক তার কর্মকাণ্ডকে অপতৎপরতা হিসেবে দেখলে, তিনি তাদের বিবৃতিকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক নেটওয়ার্ক যে আহ্বান জানিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়াতেই তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে ‘মব’ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ডিনদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে সরাসরি ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আম্মার নিজেই প্রশাসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় ডিনদের হুমকি দিয়েছেন এবং এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে পদত্যাগপত্র লিখে বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে ডিনদের খোঁজ করেছেন, যা লাঞ্ছনার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট ১২ জন ডিন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত হলেও, কেবল ছয়জনের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বাকি ছয়জনকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচনায় এই দাবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, ক্যাম্পাসে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে রাকসু জিএস প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে তাদের ধরে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের এসব কার্যক্রম রাকসুর এখতিয়ার বহির্ভূত এবং আচরণ আগ্রাসী ও সন্ত্রাসীসুলভ। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে, যার প্রভাব সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পড়ছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য সৌভিক রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। ভিন্ন মতাদর্শের কারণে চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে আওয়ামী লীগ আমলেই নেটওয়ার্কের অনেক সদস্য চাকরি হারাতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৌভিক রেজা বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ শিক্ষকদের একটি সুরক্ষা দিয়েছে, যার কারণে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পেরেছেন। তবে কোনো শিক্ষার্থী বা ছাত্র প্রতিনিধি কাউকে গাছে বেঁধে রাখা, চাকরিচ্যুত করা বা জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর এখতিয়ার রাখেন না। এমনকি উপাচার্যেরও সে ক্ষমতা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, কেউ যদি অপরাধ করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে। কিন্তু ‘মব’ তৈরি করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রাকসু জিএস এভাবে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au