মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- রংপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলে মাদ্রাসা ও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে জেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্ট শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর মহানগরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২২টি এবং একটি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ সদর উপজেলায় মোট ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পুরো জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৬টি। তবে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, বিশেষ করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। শিক্ষকদের উদাসীনতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব, অবকাঠামো সংকট এবং পাঠদান ব্যবস্থার অসঙ্গতির কারণে তারা সন্তানদের সেখানে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি হলেও সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর শিশুরাই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। আর যেসব পরিবার কিছুটা সচ্ছল, তারা সন্তানদের মাদ্রাসা কিংবা বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন। রংপুর সদর উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার ছয়টি থানাসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাড়া-মহল্লায় নতুন নতুন মাদ্রাসা গড়ে ওঠার প্রবণতাও বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরে বর্তমানে ১৩০টি কিন্ডারগার্টেন তালিকাভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালে রংপুর সদর উপজেলা, সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড এবং আশপাশের এলাকায় শিশুদের জন্য অসংখ্য নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাড়াতে নিয়মিত পত্রিকা, হ্যান্ডবিল ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোতেও, যেখানে কিন্ডারগার্টেনভিত্তিক শিক্ষা চালু করে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
রংপুরের কামালকাছনা এলাকার অভিভাবক সফিয়ার রহমান, গুপ্তপাড়ার হারুন অর রশিদ এবং শোভা রানী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান ভালো না হওয়ায় তারা সন্তানদের বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছেন। তারা দাবি করেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেখানে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৬টি হলেও এর বিপরীতে পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন ও মডেল মাদ্রাসার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অভিভাবকরা বাড়ির কাছেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ায় সেদিকেই ঝুঁকছেন, বিশেষ করে কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের দূরে পাঠাতে অনীহা রয়েছে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান এবং নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত উন্নত না হলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au