আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করেছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি এই শোক প্রকাশ করেন।
মোদি লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মারা যাওয়ার খবর জেনে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। এই শোকাবহ ক্ষতি সহ্য করার শক্তি যেন সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে দান করেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা তিনি স্মরণ করেন। আশা করছেন, তাঁর দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং এই শোকের সময়ে তার পরিবার ও স্বজনদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চীনও। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে পাঠানো এক শোকবার্তায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। শোকবার্তায় ওয়াং ই বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, যিনি চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার নেতৃত্বে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হয়।
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং দুই দেশের প্রবীণ প্রজন্মের নেতাদের গড়ে তোলা বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। নব্বইয়ের দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নেতা। স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান। তারা উল্লেখ করছে, তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ছিলেন না, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একজন প্রভাবশালী ও দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে তার বাসভবন এবং নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকাহত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকার জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, দীর্ঘ সরকারি জীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জার্মানি কয়েক দশক ধরে তার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকা সফরের সময় জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশকা ফিশারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ, পাশাপাশি ২০১১ সালে তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় জার্মান রাষ্ট্রপতি ক্রিশ্চিয়ান উলফের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ। তিনি বছরের পর বছর ধরে সিনিয়র জার্মান প্রতিনিধিদের সঙ্গে অন্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এই ক্ষতির মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার অবদানকে সম্মান জানায় এবং তার পরিবার, তার দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানায়। আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে জার্মানি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শোক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, খালেদা জিয়া তার দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে।
এদিকে কানাডা সরকার খালেদা জিয়ার পরিবার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। কানাডা আশা করে যে তার পরিবার এই কঠিন সময়ে শক্তি এবং সান্ত্বনা খুঁজে পাবে।
দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au